Showing posts with label কবিতা সংগ্রহ. Show all posts
Showing posts with label কবিতা সংগ্রহ. Show all posts

শাসন

শাসন

শাসন

সজল আহমেদ 

আমরা বাস করি এক বৃত্তে

যে বৃত্তে আটকে গেলে

ভূগোল গিলে খেতে হয়;

মানচিত্র দেখা হারাম

চতুর্ভুজের পুরোনো সূত্রে ভুল

পানি ছেড়ে জল বলা হারাম

রাজার নিয়মের বাইরে—

সহবাসও হারাম।


হে হেরেমের পাখিরা;

কণ্ঠ অবরুদ্ধ করে রাখো

কন্ঠই তোমাদের ডুবায়

আকন্ঠ জলে

বাড়ে রাজার আবদার

ফলে ফুলে ওঠে পেট।


বিগত বাহুবল দমিয়ে ছিলে

পাঁজরে বুলেট গলিয়ে।

তারপর, ওম দিয়েছিলে 

তার রেখে যাওয়া

অনিষিক্ত সংগ্রামি ডিম; 

এই ভেবে—

মুক্তি আসতে পারে

নবজাত শূয়রের কাঁধে,

নালি, পরের খামারে।


জন্মালো পরে;

বিবৃতির অপর পৃষ্ঠায় 

তুমি তো দেখোনি;

কত ভয় নিয়ে কিছু মুখ 

নিশ্চুপ কাঁদছে—

কত নির্ভয় লোকও 

ভয়ে নিজেকে গিলে ফেলে;

ছায়া যখন যেথায় যায় তেমনি;

পাল্টায় কেবল অবস্থান আলোর ভয়ে।


আমরা কয়েক রিজিম দেখা

তৃষার্ত মানব শাবক জানি;

কেউ কখনো আমাদের

বুকে টেনে দুধ দেয়নি

মৃত মা পাশে দেখেও।


না হাসিনা, না ইউনুস,

না এরশাদ বা খালেদা পুত্র;

যে যার সামরিক সূত্র 

আমাদের ঠোঁটস্থ করিয়ে

তটস্থ রেখেছে সামরিক ভয়ে।

আমাদের কপালে চুমু দিয়ে

কেউ কোলেও তুলে নেয়নি;

বরং গদি পাল্টিয়েছে;

পাল্টিয়েছে বাজার দর,

পুনরায় বেড়েছে

সিগারেটে ভ্যাট।

আর প্রথম সরকার রেখে গেছে

নিজস্ব ছায়া পরবর্তীর জন্য।

আতাকাঠী | সজল আহমেদ এর কবিতা

 আতাকাঠী 

আমার বিরহ আমি নিজেই বুনেছি তা

জানো ভালো করে তুমি আমার গাঁওয়ের মাটি,

আমার শব্দ আমি তোমার পিঠেতে রাখি 

ভাত খাই, গান গাই, ঘুমের বাতাস মাখি

আমার হৃদয় আমি শান্ত করেছি বুকে

 বিছায়ে তোমার বোনা হোগল পাটি।

ব্যক্তিগত কোন স্বর্গ আমার নাই, আবদ্ধ হইনি কোন হুরির প্রেমে

তবু স্বর্গ আমার প্রতীক্ষায় নত করে মাথা আছে আতাকাঠী গ্রামে। 

আমার বাল্য তোমার বুকে, গীত গাওয়া সকালের শীতের কাঁপন

তোমার উদগ্র স্তন চিড়ে আমার অপক্ক যৌবনের বীজ বপন।

তুমি যাই হও আবদ্ধ চির আমি ঋনের প্রেমে

আমার স্বর্গ পরে আছে বুকের কপাট খুলে আতাকাঠী গ্রামে।




আতাকাঠী — ২

খোয়াবে আমি দেখেছি আমার গ্রামে

ছায়ার পেছনে হাঁটে ডাহুক—চড়ুই 

যতটা স্বপ্ন আমি তৈরী করেছি ধানে

গাছে হাসে পেকে যাওয়া ‘আপেল বড়ই’


পায়লার ফুলেফুলে মৌমাছি ওড়ে

মধুর পরিস্রাবণ ভাদ্রের তালে

মহুয়ার রসে কারো মাথা গেলে ঘুরে

নেশাতুর মাছ ঘোরে খেজুরার খালে


যায় জলে ভেসে যায় নারকেল পিঠা

রসের হাঁড়িতে হাসে বাদুড়ের মুখ

সমস্ত পোকারা রসের হাঁড়িতে সাঁটা

মরেও তৃষ্ণা মেটানো প্রকৃত সুখ


আমি জানি আজানের পরের কথা

শীতের রাতে চাদরে মোড়ানো বাবা

দূরন্ত উমে হাসে মায়ের বানানো কাঁথা

এক ডালে দুলে হাসে শিশিরে জবা। 


কেউ কি মনে রেখেছো সেসব স্মৃতি —

যাত্রায় জাদু কোমড়ে উমা বৌদি?

পালাগান, থিয়েটারে রঙের বাতি?

আজীবন বয়ে চলা পায়রা নদী?





আতাকাঠী -৩

আমাকে যত অকৃতজ্ঞ ভাবোনা কেন

আমি কৃতজ্ঞ হই মায়ের আঁচলে

যে গ্রামে আমি সব স্বপ্ন দেখেছি জানো

ঘুম ভেঙে উঠেছি খুব সকালে


সে গ্রামে খুঁজেছি মায়ের আঁচল

কোথাও পাইনি তা কাক ভোরে

খুঁজেছি সে আঁচল উঠান দড়িতে

মাঠে-ময়দানে আর খালের গভীরে


মক্তবে কোরানের সেসব সূরায়

টান দিয়েছিলো ভোরে মাহদী ইমাম

আমিও সেসব সূরার শেষ পারায়—

খুঁজেছি টানে টানে আমার পয়গাম 


কত যে খোঁজার পরেও নাবালক দ্বীন

ফিরে ফিরে গিয়েছি মায়ের কবরে 

জানো, এই আঁচলটা আমি পেতেই চাই

আবার উঠবো জেগে ভেবে কাকভোরে।



আতাকাঠী ৪

মেঠোপথ সদ্ভাবে চলে গেছে দূরে
এখানে কোকিল ডাকে আজানের সুরে,
এখানে মাতাল পাখি মহুয়ার ডালে
ডাকে প্রিয়তম বউ মুগ্ধ গলে।
কুয়াশারা উঁকি দেয় শীতের সকালে
সোনার দুপুরে সবে ভাতঘুমে গেলে
দিবাকর স্নানে যায় শেষ বিকেলে।

শরতে ঘাসের বাঁশি সুমধুর সুর
সুরেসুরে মোহিত সরণির দূর...
কবিতা শানিত হয় তীব্র বর্ষণে
বরষা নৃত্য করে বাড়ির উঠোনে;
ব্যাঙের ঘ্যাঙরঘ্যাঙে সারা পারা মাত
মোহের রজনী যেন বরষার রাত!

আমনের ক্ষেতে সজীব কৃষকের প্রাণ
তীব্র ধোঁয়ার তেজে ছড়ায় পিঠার ঘ্রাণ।
নতুন উদ্যমে বেরোয় আমের মুকুল
মৌমাছি সঙ্গমে আন্দোলিত বকুল
পাতা-ফুলে অর্ধমৃত বিষ পিঁপীড়া
তবু মায়া বয়ে চলে আকন্দ ফুলেরা
প্রকাশ্য কালনাগিনী কালো ধুতুরা
মনোহর তবু দেখো গাছেগাছে এরা!

গাবগাছে ঝুলে থাকে মৌমাছি চাক
পানা জলে খেলা করে পাতিহাঁস ঝাঁক।
ডালে বসে 'কা' ডাকে কালো পাতিকাক,
বিপন্ন বৃষ ছাড়ে গগনবিদারী ডাক!

তাল গাছে খেলা করে বাবুইয়ের দল
টিয়া পাখি ঠোঁটে কাটে কামরাঙা ফল
টিয়াদের ঠোঁটে আসে নতুন সকাল
খালেবিলে নৃত্যে মাছেদের দল।
ঘুঘু ডাকে দ্বিপ্রহর হিজল গাছে
নীরস শিমুল তুলা বাতাসে ভাসে।

আজানে মুখরিত উষসী বেলা
নতজানু গাছেরা বাজায় বেহালা
রাতের বৃহৎ চাঁদ স্মরি মধুমালা
নির্মেঘ গগনে তারার খেলা।
এখানে যা দ্যাখো মধু, তুমি আমার গ্রাম
গ্রাম আমার নিজ মায়ের আরেকটি নাম।

4/16/19
পরিমার্জনঃ  ৮/৬/২১

আব্বা কেমন আছে? | সজল আহমেদ এর কবিতা



আব্বা কেমন আছে?

সজল আহমেদ 

শীতের রাতের শীতল মাটি

প্রশ্ন তোমার কাছে

এমন শীতে তোমার ঘরে

আব্বা কেমন আছে?


কেমন করে ঘুমান তিনি

তোমার ঠান্ডা ঘরে?

বলতে পারো এমন শীতে

আব্বা কেমন করে?


গরম পোশাক, গরম চাদর

বোঝাই ট্রাংকটা ভরে—

হয়তো এখন আব্বা আমার

শীতে ঠকঠক করে! 


কি করি আর কি করে তা

আব্বাটারে পাঠাই—

আমার কাছে আব্বার দেশের

ঠিকানা'ই তো নাই!


না আছে তাঁর মোবাইল নাম্বার

না জানি তার ফ্যাক্স

বলতে পারো এসব দিতে

লাগবে কত ট্যাক্স?


ঠকঠক করে কাঁপছে উঠোন

গাছগুলো তার সাথে—

আব্বাটা যে কেমন আছে

এমন শীতের রাতে!


ঐ দেখ ভাই হলদে পাখি

কাঁপছে শীতে গাছে—

ওঁরই কাছে জিগাইগে চল;

আব্বা কেমন আছে!

১৮+ কবিতা

১৮+ কবিতা

খিস্তিভাষ্য


মাননীয় সুধী, আপনাদের চুদি।
হিন্দু ভাইদের নমস্কার, আর মুসলমানদের সালাম।
কারো পিছনে তৈল লেপন না করেই আমি
আমার বক্তব্য শুরু করে দিলাম।
ভাগ্য করে একটা রাষ্ট্র পেয়েছি।
ময়লার ড্রেন থেকে শুরু করে বেশ্যার ব্রা'তে
ইতরের এনজাইম বিষে বা গীরিপথে আমরা যা দেখেছিলাম
ছোট বা ক্ষুদ্র
অবরুদ্ধ জানালায়
বৃহৎ ছিদ্র
যা ঢোকে বা বের হয়
নিতম্বে কামড়ায়
রক্ত খেয়ে বুকে সোবল দেয়
ইংরাজ মাদারচোতেরা তাদের বলে মসকিউতো
আমাদের মন্ত্রী শোউরের বাচ্চা যা দেখে বিদেশ পালিয়েছে।
আমরা আধুনিক পাছায়
তার কামড় খেয়ে মারা যাবার আগে, তার নাম দিয়েছি ডেঙ্গু।
মাননীয় স্পিকার মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে বলুন, তাঁর নপুংসক মাননীয় মন্ত্রী কুকুরদের নিয়া আমরা জাতীগত বুদ্ধিপঙ্গু।

মাননীয় সুধী, আপনাদের চুদি।
বিলকুল টাকিলার বোতল গায়েব করিনি বিধায়; আপনারা যারা সম্মানীয় তাঁরা বেঁচে গ্যাছিলেন। অতএব তাহাদের খিস্তি জপতে - এমন কবিতার সভার আয়োজন করেছি সবাই সম্মেলিত হয়ে বসুন- আজ আপনাদের ‘চুদ-ব।’
আপনারা যারা শান্তি টাউনে অশান্তি দেখেছেন- এবং উপলব্ধি করেছেন- পনের হাজার ঘর নিমিষেই কিভাবে লাপাত্তা হয়ে যায়!
আপনারা দেখেছেন, কিভাবে আগুনের কাঁধে বন্দুক রেখে
পঞ্চাশটা হাজার মানুষের টেকো মাথায় বড়ই রেখে
লবন খেয়ে চলে গ্যালো ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাদারচোত!
আপনারা লক্ষ্য করেছেন এও- তাদের মাথায় হাত,
  ক্ষুদ্র সময়ের ভেতরেই; রাস্তায় বসে পরেছেন তাঁরা।
তাদের অনাহার সন্তানরা ঘর পোড়া কয়লায়  আলু পুড়ে খেতে চায় যেহেতু তাঁরা ক্ষুধার্ত। আলুপোড়া না পেলে ওঁরা আপনাদের গোশত খুবলে খাবে।
জনগণের সরকার, আবেগে আপ্লুত, দুঃখে দুঃখিত, আগুনে শিহরিত হয়ে বলেছেন - কাল এখানে রিলিফ পাঠাবো।
আপনি জানেন, আমাদের সরকার
কোন বাড়ির খোঁজ করেননি; কারো স্বপ্ন পুড়ে যেতে দেখেননি
তাঁরা দেখেননি-
কিভাবে পুড়ে গ্যালো মুজাম্মেলের নয়মাস বয়সী মেয়ের দুগ্ধের  ফিডার, কোরান মজিদ, তসবিহ দানা, মাসুমার বই আর আবু সালেহ্'র রিক্সার হুডি।
মহামান্য সুধী!
আপনারা অবগত, আমাদের সরকার শুধু তাঁর চেয়ারে বসলে ঐ আওতায় যতটুকু দেখা যায় ততটুকুই দেখেন।
যদি আমি তাদের ঐসব বালছাল চেয়ারে পেচ্ছাবও করি, তাঁরা দেখবেন না।
কিন্তু আপনারা জানেন, সরকারী চেয়ারে পেচ্ছাব করার রুচি আমার নাই। এম্পি মন্ত্রীর চেয়ারে আমি মুতিওনা। এও জানেন যে, আমি পাগল চুদিওনা।
মাননীয় সুধী, আমি না হয় মদ গিলেছি তাই শুকর-কুকুরের গোশতের ফারাক বুঝিনা। এতদ্বা-সত্ত্বে আমি আপনাদের মতোন ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাদারফাকার্স অার তার তোষণকারী সরকারের হাতে পানাহার করবো না।
মাননীয় সুধী, আপনাদের সিস্টেম আমি চুদি
আপনারা জানেন,
জীবন সবখানে একরকম নয়।
যেমন আপনাদের ফ্লাটে- খাটের নিচে বিড়ালে চুদাচুদি করে উপরে আপনি তৃপ্তিতে ঢেকুর তুলে বস্তিতে আগুন লাগিয়ে তা উপভোগ করেছেন, এখানে আপনার ইন্ডাস্ট্রি হবে। আপনার জীবন একরকম চোদনময়।
আবার,
শান্তির মায়রেবাপ এখানে শান্তি টাউনে আপনারা আপনাদের শান্তির দূত ইন্ডাস্ট্রি গড়বেন- অতএব পনের হাজার কেন, পনের কোটিও যদি গৃহহীন হয় আপনারা আর আপনার সরকার তাদের ঘরপোড়া ভস্মতে লোক দ্যাখানো বিসমিল্লাহ্ জপে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলবেন। বেস্ট অব লাক! জীবন ওখানে অন্যরকম।

৫টি কবিতা: সজল আহমেদ

বেতন

একবার তাকিয়ে দেখি আমি আমার দশ বছরের পুত্রের খানার প্লেটে সুস্বাদু খানা হিসাবে আছি, পুত্র আমাকে কচকচ করে চিবিয়ে খাচ্ছে। আবার দেখি আমার বৌয়ের ডায়ামন্ড রিংয়ে ডায়মন্ড হিসাবে আছি।
কিয়ৎক্ষণ পর মেয়ের মেকআপ বক্সে নিজেকে গুটিয়ে থাকতে দেখলাম । মেয়ে আমাকে তুলিতে নিয়ে মাখছে। এর কিছুক্ষণ পর নিজেকে আবিষ্কার করলাম ভাইয়ের মানিব্যাগে। ও আমাকে ওড়াচ্ছে। এরও কিছুক্ষণ পর মায়ের ঔষধের বোতলে, নিরুপায় মা আমাকে গিলে ফেললেন। এরপর আমি আমার নিজেকে আবিষ্কার করলাম নিজের শূণ্য পকেটে!
এরপর আবার আমি পুত্রের প্লেটে, বৌয়ের ডায়ামন্ড রিংয়ে, মেয়ের মেকআপ বক্সে, ভাইয়ের মানিব্যাগে, মায়ের ঔষধে এবং ক্রমানুসারে নিজের শূণ্য পকেটে।

বিভ্রান্ত
লতা বিভ্রম পাতার
ডালে বিস্তৃত সোনার মাদুর
পোকা খাবার লোভে ছোটে
কয়েকশ বিভ্রান্ত বাদুড়।
জানে না বাদুড়
আগালে কয়েকটা ধাপ
সামনেই পাঁতা
আছে মৃত্যুর ট্রাপ!
চাঁদটা হারিয়ে যায়, মেঘের সয়ে অকথ্য যন্ত্রণা
বিভ্রান্ত জোনাক শোনে আঁধারের কুমন্ত্রণা।
জোনাক আর জ্বলেনা
চাঁদ ও ওঠে না
বাদুড় আর ফিরে আসেনা
গাছে বিছানো সোনার মাদুরে
কেউ এসে বসে না।
চলে…
লওহে মাহফুজে এক
একাকী কোরানিক বন্দনা,
বিভ্রান্ত শয়তান ছুটে চলে
পথভ্রষ্ট করার আকাঙ্খা।
ছুটে মসজিদে মসজিদে
ভাঙতে এবাদত
করায়ত্ব হাজীর পাগড়ী করে
লাগায় কলহ; কে শরীয়ত কে মারফত!
কার টুপি লম্বা, গোল। কে রেখেছে দাঁড়ি;
বিভ্রান্ত সবাই, মসজিদে কি আসতে পারবে নারী?
বিভ্রান্ত সকলে বিভ্রান্ত ইমাম,পুরোহিত, রাব্বি, গির্জার যাজক!
চলে কথার বাহাজ, রুষ্ট উপাসক
ফাঁকে ফুরিয়ে যায় সমস্ত ইবাদত!
কে শ্রেষ্ঠ?
মুহাম্মদ না যিশু?
কে জ্ঞানী?
ওসমান নাকি বিশু?
কার গ্রন্থ জগতের এলমের দ্বার…?
কাফের নাকি মুমিন্স ছিলো সম্রাট আকবর?
কে নাস্তিক? কে আস্তিক? কে কাফের বেঈমান
সংশয়বাদী খুন করো ওর ঘটে নেই ঈমান।
অদৃষ্টের পরিহাস – বিভ্রান্ত ইতিহাস,
আকবরি খচ্চর, অশোকের শিক্ষালয়
ভেঙেছে সুলতান মাহমুদ,
দুনিয়া বানিয়েছে যুদ্ধালয়!
অথচ ছিলো কিনা অশোক
তারই নাই কোন হিসাব
বিভ্রান্ত, বিভ্রান্ত, বিভ্রান্ত সব!
বিভ্রান্ত সত্ত্বা, মৃত্যুর পর কই যাবে আত্মা?
কবরের আজাব হবে নাকি হবে না?
বিভ্রান্ত নাস্তিক, পরপার কি আছে? এই ভাবনা!।

হাঁস
আসসালামু আলাইকুম হে সলিলে সাঁতারানো হাঁস,
তোমার লগে কাটবো সাঁতার মনে অভিলাষ।
চলো সাঁতারাই গভীর নদীতে আর খুঁজে খাই শামুকের ছানা,
মন তৃপ্ত থাকলে নিস্ফল গিলতে শরীর করে না মানা।
চলো; পারি যদি উড়তে কি দোষ খোলা আসমানে;
পাতিহাঁস যদি উড়তে পারে তুমিও পারবে চলো আগাই সামনে;
উড়ি আকাশে।
ইয়া হাঁস! অপ্রকৃতস্থ হয়ো না আজ –
অসময়ে অপ্রকৃতস্থ নিজের পেছনে বাঁশ!


উচ্ছিস্ট
আমি মারা গেলেও পৃথিবীর কোন স্থানের মদের আড্ডা কিংবা কোন ব্রথেলস অথবা কোন কনসার্ট, একটা সেকেন্ড এর জন্যও থেমে থাকবে কি? হাতেগোণা কজন ছাড়া আর কেউ শোক প্রকাশ করবে কি?

সেদিন
আর সেদিন পৃথিবীর সব পাপ একত্রে জড়ো করা হলে;
তুমি কাঁপতে থাকবে ভয়ে যেন তোমার মৃগী রোগ হয়েছে!
আল্লা
তোমার
সামনে;
তুমি
আল্লার
সামনে!
দুজন দুজনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বা বোসে……….
হঠাৎ আল্লা যদি তোমার সমস্ত পাপের হিসাব চায়-
ইয়া মাল হাবীবি!
তুমি তখন কাঁদবে যেমনটা আর কখনোই কাঁদোনি!
তোমার নেক বা গোনাহ্’র পাল্লা কতটা ভারী হবে তুমি জানো না!
তুমি শুধু এই জানো “একজন পাপী তুমি আর এখন তোমার সমস্ত পাপের হিসাব নেয়া হবে। তুমি কাঁদবে অথচ কাউকে অভয় দেয়ার পাবে না।”
আমার সাথে করা বিগত পাপ তোমাকে উৎকন্ঠিত করবে
তোমার মনে হতে থাকবে আমারে।
আর আমার সাথে করা সমস্ত অপরাধরে
তোমার মনে হতে থাকবে।
কেননা সেদিন-
আল্লা
তোমার
সামনে;
তুমি
আল্লার
সামনে!
দুজন দুজনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বা বোসে……….
আমার সাথে করা সমস্ত পাপ এর হিসাব তোমাকে দিতে হবে!
তুমি যেহেতু পাপ করেছো সেহেতু এর সব দায়ই তোমার
হয়তোবা দহন পাবে হাবিয়ার।
তোমার পুড়তে হবে!
কেননা ঐ দিন,
আল্লা
তোমার
সামনে;
তুমি
আল্লার
সামনে!
দুজন দুজনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বা বোসে……….

অ্যাভরি ম্যান অ্যাক্ট লাইক অ্যা ক্লাউন


জলিলস ব্রাদার খলিল এবং ইচ্ছা পূরণ দৈত্য!
আলাউদ্দিন সাবের ৩ ইচ্ছার দৈত্য আইসা, হাকিয়া কৈল, হ্যালো জলিলস ব্রাদার,
ইউ হ্যাভ অ্যা গুডনিউজ! ইউ ক্যান পিটিশন নাউ থ্রী ডিজঅয়্যার !
খলিল চারপাশে তাকায়ে কইলো,
হে দৈত্য ভাই আমার অার্থিক অবস্থা তো ভালো।
অর্থ বিনা অন্যকিছু ও চাইতে পারো দৈত্য সাবে কইলো।
 মাথা চুলকায়ে দাঁড়ি চুলকায়ে খলিল মিয়া ভাবে
পেট মোটা দৈত্যর কাছে কি চাওন যাবে!
আইডিয়া! খলিল সাব উঠলো লাফাইয়া!
দজ্জাল একটা বৌ ছিলো তাঁর মইরা গেছে অনেক আগে,
দৈত্যর কাছে বৌরে চাবে খলিল মিয়া হাসে।

খলিল দাঁত ক্যালায়ে;
ওহে দৈত্য ভাই!
প্রথম চাওয়া, আমি আমার বৌরে ফিরা চাই!
দৈত্য যখন ম্যাজিক করলো
বৌটা তখন হাজির হইলো!
দৈত্য কইলো, মোর দ্যান?
কি চাওয়া যায়! কি চাওয়া যায়!

খলিল খালি ভাবে,
বছর বিশেক আগের একটা প্রেমিকা আছে,
তাঁরে চাইলে কেমন হবে?
যেই ভাবা সেই কাম!
খলিল মিয়া চুলকায়ে কান;
আহা দৈত্য ভাই!
দ্বিতীয় চাওয়ায় আমি আমার প্রেমিকা ফিরা চাই!
দৈত্য যখন ম্যাজিক করলো
প্রেমিকাও তখন হাজির হইলো!

হাজির হইলো শেষ ইচ্ছা!
শেষ ইচ্ছা ভালো কি চাও দৈত্য কইলো হাইসা,
খলিল তখন মাথা চুলকায়ে কইলো একটু কাইশা;
দৈত্য ভাই এখনই আমারে ফিউচারে নিয়া যাও-
দৈত্য সাব ব্যাপক হাইসা কইলো, বোকা খলিল! এইবার তাইলে তুমি আগাম দুই মালের ঝাটার বারি খাও!

ভবিষ্যতে নামায়ে দিয়া দৈত্য ভায়া উধাও,
খলিল মিয়া দৈত্যরে ডাকে, দৈত্য গেলো কোথায়?
থ্রী ডিজঅয়্যার পূরণ হইছে দৈত্য কি আর থাকে?
খলিল মিয়া শোকে দুঃখে বা**দ হইয়া বিচ্ছেদ সুর হাকে!
আর আইলো না দৈত্য, সে যে এত ডাকা ডাকলো,
ভবিষ্যতে বৌ-প্রেমিকার ঝাটার বারিতে
খলিল অক্কা পাইলো!



ক্লাউন
ইয়াহ্! আই অ্যাম বিইং হিউম্যান
আই হ্যাভ অ্যা তাজা একটা প্রাণ।
আমারো রক্ত আছে লাল রঙের
আর মাংস থকথকে।
আমার ও মৃত্যু হবে,
ডিএন এর ভাজে প্রজন্ম জীবিত রবে
আমার রোল প্লে করে
মৃত্যুরে নিয়া ঠাট্টা করবে!
তোমরা হাসবে, অথচ আমার মতোই তাঁর ও একদা মৃত্যু হবে!



প্রতিবেশী মুর্দারে দাবাত
 কব্বরের এক প্রান্তরের বাঁশ ধইরা
 ঝুইলা থাইকা বলি আসো!
আসতেই থাকো....
বিপন্ন মাটি চিড়ে আইসা পরো
ইশারায় ডাক দিয়া আনো আত্মা
দুনিয়াভি কাম কাজে লাত্থি দিয়া
আসো,
আইসা আসন পাইতা বইসা পরো
জীবনের গপ্প এখানে জমবে ভালো।
চারদিকে নাই আলো
বাতাসহীন কব্বরে।
কেউ শুনবে না কথা
অতএব 'দেয়ালেরো কান আছে'
বেহুদা ভাইবা
কইরোনা মাথা ব্যথা!
এইখানে মজা আছে,
মাটিতে মাটিতে
 কীটের সাথে
আলাপ করতে
ডিএনএ সম্বল কইরা
আসো কথা কইতে থাকি।
কিভাবে ছড়াইলাম পৃথিবীতে প্রজন্ম
দূর্বল গ্রন্থিতে কিভাবে দূর্বল পয়দা হইলো
ইত্যাদি ইত্যাদি নানারকমের গপ্পসপ্প করমু আজ।
অন্ধকারে, মশামাছি কামড়ায় না,
অন্ধকারে ওরা চোখে দেখে না,
অতএব কব্বরে মশা মারার কয়েল আনার দরকার পরবে না!


ভাত
ভাত আমার প্রিয় না
আমি ভাত গোয়াও মারি না
তবে ঠ্যাকা পইরা খাই
ক্ষিধায় আমারে দুচে
আমিও ভাতরে দুচি
এছাড়া ভাত দোচার বেইল কই?
গরীবে ভাত খায় না
 ভাত তাঁরা চুমা দিয়া বুকে লাগায়
বড়লোকে ভাত পায়না
হুমন্দির পোলারা পায়ে দলে।



অ্যাক্ট লাইক এ ম্যাজিশিয়ান
কি দ্যাখো তাকিয়ে ঝুড়িতে?
এক ঝুড়ি মাছ সাতার কাটে নদীতে?
হামানদিস্তার ওপর সূর্য ডোবে
রাতের তারা হুমরি খায়
পরিশ্রান্ত মরূর বালিতে বালিতে।
একচোখ বন্ধ করে তাকাও।
কি দ্যাখো?
পাহাড়ের উপর আকাশ ভেঙে পরলো
মেয়েদের দল সব দাঁড়িয়ে প্রশাব করছে
দেবতারা সব দেবীর কাপড়ে নাচছে
এক বালতি ফুটন্ত পানিতে রুই মাছ সাতরাচ্ছে।
নাকি?
ঝুড়িতে ঢোকো এবার......
তোমার মস্তিষ্কে আমি বসবাস করি,
সিধা হয়ে দৌঁড়াও বিশাল পাহাড়ে-
লাফ দেও, ভয় কিসে? আমি আছি নিচে।
এটা আমার ঝুড়িই তো,
এর থেকে ছিটকে তো আর পরবে না।

প্রেমিকা
কি আজব এক বাল
সারাদিনে এক প্যাচাল
একই ক্যাচাল
তুমি পুইটা যাইতে পারো
কি যে কইতে চাও
ফিরায়ে পুটু মেরে
আমার হোগার বারোটা বাজায়ে
চুইনগাম বা সুপারগ্লু সমেত আরেকটু গুহা মেরে যাও।
আরো কত হোগা মারা যে বাকি
অল নো বিধাতা
ছেড়া খাতা
দুই ফারিশতা
তোমার বাচালতার হিসাব!
কত পূণ্যি কত পাপ
ধাপে ধাপ, ধাপে ধাপ
প্রতিটা অক্ষর, শব্দ
গালাগালি নোট করে
কবি কবি ভাব লয়
খাতা কলম অলা
 কিরামান কাতিবিন ফারিশতা!

মাছ
একটা মাছ
দৃশ্যত উড়তে উড়তে
হয়ে গ্যালো নীল নদ এর
উপরে উড্ডায়মান শঙ্খচিল।
শঙ্খচিল দেখতে দেখত
পৃথিবীর বাইরে চলে গ্যালো
হয়ে গ্যালো এলিয়েন!

ব্লুটুথ কন্ডম
আমি প্রেমিকারে একদিন শোয়াইলাম
ও ভয়ে কাঁদতেছিলো!
বলতেছিলো, আমারে বিয়া করবা কিনা?
আমি ওরে সান্ত্বনা দিয়া কইলাম দ্যাখো আমরা একটা এখনই বিয়া কইরা চইলা যাব কোকাব শহরে।
আমার পকেটে ছিলো একটা ব্লুটুথ কন্ডম।
আমি ঐটা বের করে মুখে লই, প্রেমিকা ভয় পায়! ভাবে এই বুঝি নয়া সিস্টেমের কিছু হবে।
আমি ঐটার প্যাকেট ছিড়ি, প্রেমিকার মুখে হাসি নাই। ছিইড়া
বাতাস প্রবেশ করাই, ফোলাইতে থাকি। ইয়া বড় হওনের পর ঐটা হাতের লগে থাবড়া মাইরা পটাশ কইরা ফাটাই ফালাই। ডার্টি মাইন্ডের মেয়টা ভাবতেছিলো যেন কি আল্লা মালুম!


- এভরি ম্যান অ্যাক্ট লাইক অ্যা ক্লাউন, সজল আহমেদ | ৮ই ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইংরেজী | রাত ১০:৫৯।

সজল আহমেদ এর কবিতা সংগ্রহ

সজল আহমেদ এর কবিতা
..................................
..................................
প্রেমিকা ও অবসাদ
.
অকালে হারিয়ে যায় অযত্নের দাঁত
প্রেমিকা জমা করে শুধু অবসাদ
শুধু অবসাদ যারা জমা করতে জানে
তাঁরা শেখাতে আসে ভালোবাসার মানে!
..................................
..................................

বেকার কবি
.
১.
 মিঃ সানাউল্লাহ্ সানা
সোসাইটির পাশাপাশি
 আল্লা ও আপনাকে
চোখে দ্যাখে না!
সোসাইটি কানা
আর আল্লা আপনারে
লাইক করে না!
আপনি একজন বেকার
তারোপর কবি
আপনি অভাবী
আপনি ফতুর!
প্রেমিকার কাছে
অপমানিত হইতে হইতে,
এক পর্যায়ে এসে থেমে যান
পৃথিবীর চড়-লাথি খাইতে খাইতে
 আর চলার অ্যানার্জি পান না।

২.
এরপর বাবা-মা আপনাকে ভাবতে থাকে উচ্ছিষ্ট।
মিঃ সানা আপনি সংসারে
অনাহারীদের মতো ক্লিষ্ট!
আকাশের ফারিশতাদ্বয় আপনাকে পাপের কারণে করতে থাকে লানত,
মৃত্যু আপনার কাছে রেখেছে "বেঁচে থাকা'' আমানত।
আপনি কই যাবেন?
কই গিয়া মুক্তি পাবেন?
এখন কবর ও আপনাকে
আর গ্রহণ করতে চায় না!
মিঃ সানাউল্লাহ্ সানা
আল্লা ও আপনাকে
চোখে দ্যাখে না!
আপনি কি করবেন এখন?

৩.
মরতেও আপনার নিষেধ,
আপনি দৌঁড়ে পালান জঙ্গলে যখন
সামনে পরে একটি বাঘ
বাঘ আপনাকে খেয়ে ফেল্লে
খিয়ানত হবে মৃত্যু রেখেছিলো যে আমানত।
বাঘের সাথে জম লাড়াইয়ে
আপনি জিতলেন,
আহত হয়ে ফিরে আসলেন
কিন্তু আহত আপনার সেবা করার মতো কাউকে পেলেন না!
মিঃ সানা
আপনি এখন বিপাকে
আপনাকে মৃত্যুও চোখে দেখে না।

৪.
ধরুন একসময়ে মৃত্যু তার যাপিত ঋন ছাড়িয়ে নিলো
এবং একসময় সত্যই আপনার মৃত্যু হলো!
মিঃ সানাউল্লাহ্ সানা
এবার আসবে মৃত্যুর পরের ভাবনা!

৫.
আপনি কি ভাবছেন আপনি বেহেশতে যাবেন?
আপনি কি বিগত মিথ্যাচারের কথা ভাবেন?
 যা আপনি করেছেন প্রেমিকাকে খুশি রাখতে বাবা-মার সাথে,
বন্ধুদের সাথে!
মিঃ সানা
আপনি লিখে নেন
আপনার আর
বেহেশতে যাওয়া হবে না!
আপনি মৃত্যুর পর
আল্লার কাছে আরেকবার
চান্স চাইতে পারেন দুনিয়ায়
ফিরে আসার।
মিঃ সানা
আপনি কি জানেন?
একবার মরে গেলে
আর ফিরে আসে না!

৬.
আপনি আর মরলেন না।
একটা সিগারেট খেতে আপনি বাইরে দোকানে গেলেন
একটা জিপ এসে দোকানের সামনে থামলো
পুলিশ এসে আপনাকর সার্চ করে পেলো গাঁজার টোপলা!
মিঃ সানা
লক্ষ্য করুন, আপনি কিন্তু গাঁজা খান না!
কোথা থেকে এলো টোপলা?
আপনি অতশত ভাবার আগেই; আপনাকে জিপে তুলে নিয়ে গেলো।
থানায় আপনি মাথা নিচু করে আছেন
পুলিশ আপনাকে রিমান্ড এর ভয় দেখাচ্ছেন
আপনি ভয়ে জবুথবু হয়ে আছেন
সানা আপনি সামনে তাকাবেন না
সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রক্তচক্ষু আপনার বাবা!
আপনি তবুও তাকালেন
বাবা আপনাকে বাসায় নিয়ে আসলেন
আপনার শাস্তি হলো ৩ বেলা ভাত বন্ধ
আপনি কাঁদতে কাঁদতে যদিও হন অন্ধ
ভাত আর আপনাকে ৩ বেলা দিবে না!
মিঃ সানা
আপনার খেতে মানা।
আপনি কি করবেন?
আস্তে দৌড় দিয়ে পালাবেন?
বা অন্যকোথাও খাবেন?
যদি পালান বা অন্য কোথাও খান খানা
মিঃ সানা
 তবে আর বাপের হোটেলে ভাত খাইতে পারবেন না
আপনাকে ঘাড় ধরে বের করে দিবে।
..................................
..................................

আমার অত টাকা নাই
.
আমারো তো মনেচায় তোমারে নিয়া একটু বড়সড় রেস্টুরেন্ট এ খাইতে যাই,
কিন্তু দ্যাখো আমার অত টাকা নাই!
চলো বাদাম চাবাই
অথবা ফুচকা চটপটি খাই
এরপর সেকেন্ড কোন
অপশন আমার কাছে নাই।
কারণ আমার অত টাকা নাই।
আমার ও তো মনেচায় তোমারে নিয়া একটু ঘুরি কিম্বা শপিংয়ে যাই
কিন্তু দ্যাখো আমার অত টাকা নাই!
এমনই কপাল বাল
আমার এমন গরীবি হাল!
রিক্সায় চড়তে চড়তে
একটা গাড়ির কথা প্রায়ই ভাবি
কিন্তু দ্যাখো আমি অভাবী;
গাড়ি কেনার মতো অত টাকা আমার নাই,
রিক্সা থামায়ে আছে চলো যাই।
লাচ্ছি খাইতে খাইতে ভাবি
এখন একটা বীয়ার ক্যান হাতে থাকা উচিৎ ছিলো অন্তত...
পকেটে তো গড়েরমাঠ স্বপ্ন দেখি অথচ!
মাঝেমাঝে তোমারে মিসডকল দিতে গিয়া লজ্জা পাই,
আবার ভাবি, এত লজ্জা কিসের?
 আমার তো অত টাকা নাই!
ভাবি, কেন আমার অত টাকা নাই?
আমি স্বপ্ন দ্যাখি
স্বপ্ন দেইখা মজা পাই
কারণ আমার অত টাকা নাই!
যেহেতু আমার অত টাকা নাই
সেহেতু আমি দোষ দিবো সব বাপ শালারে
শালা তোর যেহেতু টাকা ছিলো না বেহুদা কেন জন্মাইলি আমারে?
যেহেতু পাপ বাপরেও না ছাড়ে
সমূহঃ খিস্তি জপি বাপের ও তরে.......
তুমি তো স্বপ্ন দ্যাখো, আমাদের বাড়ি হবে, ছাদ হবে
অথবা এও দ্যাখো চাঁদে বসে আমাদের বাড়ির ছাদ দেখবে।
শোনো একটা পাকা পাঁচতলা বাড়ির কথা আমি প্রায়ই ভাবি
বাড়িতে একটা সুইমিং পুল চাই যেখানে নাইতে নামবো তুমি ও আমি।
পাইতে এখনো পোড়াতে হবে কাঠখড় আমরা যা চাই,
বিকজ আমার অত টাকা নাই।
তোমার আঙুলগুলো ধরতে ধরতে ভাবি
কমপক্ষে এক ক্যারেট হীরার একটা আংটি আদপে থাকা তো উচিৎ ছিলো;
অথচ সিটিগোল্ডে তুমি পুরোটা মুড়ে আছো আমার লাগেনা ভালো!
কি আর করা? সব নীরবে দেখে যাই
কারণ ডায়ামন্ড কেনার মতো অত টাকা আমার নাই!
চলো ঐদিকে রাস্তা ধইরা পাশের দোকানে যাই
সিটিগোল্ড আংটিতে করাবো হাত বোঝাই।
দামী সব হোন্ডা দেখে বারবার আফসোসে মরে যাই
অন্তত আমার একটা ডুয়োকাটি এখন পাছার নিচে থাকা লাগে সবকিছুর আগে!
কিন্তু কী?
আমার কোন হোন্ডা নাই
আমি মনেমনে ভো ভো হোন্ডা চালাই
কারণ
তুমি জানো
আমার ঐটা কেনার মতো অত টাকা নাই।
যেহেতু আমি ফকিরনির ঘরের ফকিরনি
সেহেতু দ্বিতীয়ত আমি অশ্লীল গালি দেই আমার নসীবরে.....
শালা সবার টাকা আছে, সবাই করে দুহাতে কামাই
অথচ আমার কেন অত টাকা নাই?
এরপর আমি সমগ্র খিস্তি জপি তোমারে
যেহেতু তুমি আসার পর আমার
শুধু চাহিদাই বাড়ে
টাকা পাইতে ইচ্ছা করে
আর নিজেরে বেশ গরীবের বাচ্চা মনে হইতে থাকে
যেহেতু তুমি শুধু সীমাবদ্ধ "আমার এত এত চাই''
আর এইটা খবো ঐটা খাই
ঐটা কিন্যা দাও ঐটা চাই কিম্বা
কিনে দিতে হবে যত পরে খরচ
সেহেতু গালিশোনা তোমার ফর্জ!
যেহেতু তুমি জানো আমি গরীব
তবুও চাহিদার শেষ নাই
অতএব তোমার নিস্তার নাই
আর আমার যেহেতু টাকা নাই
সেহেতু মুখের ট্যাকশোও হারায়ে ফালাই
দৌঁড়াও তুমি দাও দৌঁড় তুমি
তোমারে দিয়া কার বাল্ফাবো আমি?
তোমারে আর দরকার নাই
বিকজ তোমারে পুষবার মত অত
টাকা আমার নাই।

..................................
..................................

ঈদমোবারক
.
আমি তখন বড়লোকের ছাদে বইসা দরিদ্র পল্লির দিকের চাঁদ খাচ্ছি। ঈদের বড় চাঁদটা চাবাইতে চাবাইতে গিইলা ফেলাইলাম যেন ওঁরা চাঁদ না দ্যাখে। যেহেতু ঈদ সবার না। ঈদের চাঁদ সবাইর দেখার অধিকার থাকবে কেন?

..................................
..................................
ঔঁ
.
ঔঁ
ফেঁটে চৌচির হোক আসমান
কসম হে নাজিলকৃত কোরান
ফুল মাটির কসম
কসম খাবো গন্ধম
হে আজমের আজম
চাঁদ তারার কসম
কসম অঁচল এর
কসম মানব সকলের
এবং সকল মরদেহের
কসম হাবিয়া দোজখের
কসম জান্নাতের
আর ফুল, পাখি পরিষ্কার জলবাহী হ্রদ এর।
যাঁরা আমাকে ভাবলো ত্যানা,
 যারা আমার ভালোবাসাকে বলল আদিখ্যেতা
আমাকে ভালোবাসলো না
 এবং যাঁরা নরপিশাচের মতো আমাকে দূরে ছুড়ে দিয়ে বেঁচে যেতে চাইলো;
এবং যাঁরা জড়ো করলো আমার সমূহ বেদনা-
 তাদের পরিত্যাগ করবো।
এবং ব্যতিক্রম হব
           ঔঁ!

..................................

প্রলেতারিয়াত
.
১.
বাবাকে একটা চশমা কিনে দেবো বলে বের হয়ে শুনি দোকান থেকে সমগ্র কমদামী চশমা চুরি হয়ে গ্যাছে! কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গ্যালো এ জন্য কোন থানা পুলিশ হবে না। সাংবাদিক সম্মেলন হবে না কোন মিটিং হবে না, মিছিল হবে না। ফেসবুকে কোন স্ট্যাটাস, ইভেন্ট কিংবা গ্রুপ খোলা হবে না প্রতিবাদস্বরূপ। সরকার থেকে কোন পদক্ষেপ ও নেয়া হবেনা চোর ধরতে।
২.
 পৃথিবীতে দুই রকমের চুরি আছে! যথাযথ চুরি আর
অবৈধ চুরি।
যথাযথ চুরিটি প্রলেতারিয়েত করে এলিটের ঘরে তাঁর জমানো সম্পদের হিস্যা করতে। বাকি চুরিটি অর্থ দিয়ে এলিট শ্রেণীরা করে। এলিটরা কমদামী চশমাগুলোকে সব বাজার থেকে চুরি করে নিয়েছে অধিক মুনফার আশায়।
 আমি চশমা কিনতে গিয়ে বাবার কথা মনেকরি। পুরানো চশমাটা হারিয়ে যাওয়ায় বাবা পত্রিকা পড়তে পারছেন না!
৩.
আমার বাবার
প্রতিদিনের রাজনৈতিক পাতাটা দেখা চাই'ই চাই! এরপর উনি বুদ্ধিজীবি হয়ে যান আর আমাকে শেখান কিভাবে টিকে থাকতে হয় বর্তমানের রাজনৈতিক মাঠে। কিভাবে ফাউল করে গোল করতে হয়। কয়েকদিন হলো বাবা আমাকে কিছুই ছবক দিতে পারছেন না! যেহেতু বাবার চশমা হারিয়ে গ্যাছে।
৪.
আমার রাজনীতিজ্ঞ গৃহপালিত বুদ্ধিজীবি মুরব্বি বাবাকে দেখে মায়া হচ্ছিলো বিধায় একটা চশমা কিনতে আমি বের হয়েছিলাম। দোকানে এসে দেখি দোকান থেকে আমার বাবার চশমাটি চুরি হয়ে গেছে! এলিটরা আমার বাবার চশমাটি চুরি করে নিয়ে গেছে।
এখন আমার ইচ্ছে হচ্ছে চিবিয়ে খেয়ে ফেলি সব এলিটের টাকা, গাড়িবাড়ি এবং প্রোপার্টিগুলো সব!

..................................



অপমান
.
প্রতিদিন কয়েকটা জুতো গিলে ফেলার পর হজম হওয়ার আগেই গিলে ফেলার জন্য আরো একটি জুতো তেড়ে আসে।

..................................

হঠাৎ!
.
হঠাৎ! তোমার সামনে কালো কাপড় মুখে বাঁধা ওঁরা ছ'জন! আর বাবাকে ওরা গুলি করার হুমকি দিচ্ছে; না ওঁরা ছ'জন না, তুমি বুঝতেই পারছোনা ওঁরা ঠিক ক'জন! বাবার হাত বাঁধছে! পা বাঁধছে, আর মুখে কষে দিচ্ছে টেপ! বো বো বো করে বাবা চেচাচ্ছে, টেপ মেরে দেয়ায় অস্পষ্ট শব্দ বেড়োচ্ছে
 হঠাৎ!
আর তাঁর চেচানি শুনে কালো কাপড় মুখে বাঁধা কেউ বন্দুকের বাট দিয়ে কষে দিলো আঘাত! বাবার হাত বাঁধা। তাঁর পা বাঁধা। আর মুখে টেপ। এখন বাবা নিচে পরে গোঙাচ্ছে! বাবার জ্ঞান নেই,
 তাঁর চোখ বেয়ে পানি পরছে আর কপাল ফেটে রক্ত ঝরছে! বাবা এখন বকছেন প্রলাপ। আর রক্তে মেঝে সয়লাব।
হঠাৎ!
মেঝেতে তাকিয়ে দেখলে, মেঝেতে পরে আছে তোমার ভাই আর মায়ের লাশ। ওঁরা চিৎকার করে মানুষ ডাকতে গিয়েছিলো ভুলে। ভুলের মাশুল হিসেবে, মায়ের কপাল আর ভাইয়ের বুক বরাবর ছিদ্র। এখন তোমার চোখে জল! অথচ চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারছোনা! ভাইয়ের লাশটা এখনো তড়পড় করে লাফাচ্ছে, জিহ্বাটা বের হয়ে আছে, তাজা রক্তে ঘর সয়লাব! কালকে বিভিন্ন পত্রিকায় তোমাদের সাথে ঘটা এই ঘটনা হেডলাইন হবে, ভেবে তুমি রোঁমাচিত নয়। কেননা সকল খবরই রোঁমাচিত করেনা। এরকম হেডলাইন কেউ হতে চায় না। তোমার এখন নিজেকে বাঁচাবার ভাবনা।
হঠাৎ তুমি ভাবলে, এদের সাথে তোমাদের শত্রুতা কী?
 তুমি এখন অবধি জানো না। তুমি শুধু জানো তোমার বাবার একটি প্রোপার্টি আছে। আর ওটা নিয়ে মেয়র ওসমান সাহেবের সাথে ভোরে দ্বন্দ্ব হয়েছে। ওসমান সাহেব তোমাকে ডেকেছেন এবং সমাধাও করেছেন। ওসমান সাহেব ভালো লোক। জয়ের মালা তাঁরই হোক
তুমি নিজেই তাঁর লোক। তাঁর তুমি বিশাল ফ্যান। তাঁর বয়ান মোটিভিশনাল।
এখন
 তুমি ভাবছো, ওসমান সাহেবের মতো এত ভালোমানুষ শুধু বেহেশতে পাওয়া যেতে পারে; কিম্বা গল্পের পাতায় মহামুনি হিসাবে। এমন কাজ তাঁর দ্বারা সম্ভব নয়। যাইহোক গল্পের সামনে আগাও।
হঠাৎ
তুমি দেখলে কেউ আশেপাশে নেই;
এবং তোমার হাতেও মাত্র একটি সুযোগ
কী করা যায় এখন ভাবছো। সময় নেই।
হয় কিছু করতে হবে নতুবা মৃত্যুযোগ!
তোমার সামনে একটা পিস্তল, তুমি চাইলেই বেঁচে যেতে পারো এটা ব্যবহার করে। কিন্তু তুমি যদি বন্দুক উঁচিয়ে গুলি করতে যাও, তাহলে বাবাকে ওঁরা এখনই গুলি করে দেবে! কি করবে তুমি ভাবতে ভাবতে দিলে দৌঁড়!
হ্যাঁ! আলবিদা! বেঁচে গেলে। হ্যাঁ প্রাণে বেঁচে গ্যাছো!
হঠাৎ
মনেপরে গ্যালো 'বাবা'! ঠাশ ঠাশ ঠাশ! বুইয়াও..... বুইয়াও..... বুইয়াও.......
বাবা নেই! বাবাকে ওঁরা মেরে ফেলেছে!
এবার? এবার তোমাকে ওঁরা খুঁজবে!
অতএব দৌঁড়াও......... হ্যাঁ! দৌঁড়াও.........
সামনে একটা ব্রীজ
না
কালো পোশাক পড়া ছ'জন
না আরো বেশি
ওসমান সাহেব কালো পোশাকে
ওরা ছ'জন তাঁর পিছনে
বাবা মেঝেতে
মা মরে পরে আছে
ভাই চিৎকার করছে
বাবার মুখে টেপ
ভাইয়ের লাশ মেঝেতে
তোমার হাতে বন্দুক
তোমার ঘরেই তুমি আছো।
না ব্রীজে তুমি দৌঁড়াচ্ছ!
হঠাৎ
তোমার মনেহলো ওসমান সাহেব তোমার সামনে
না ওনার ঘরে তুমি
সম্ভবত দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে,
ওনার গাড়িতে তুমি ধাক্কা খেয়েছো
উনি তোমাকে ওনার বাসায় নিয়ে এসেছে।
উনি জিজ্ঞেস করছে তোমাকে বারবার,
'ঘটনা কী?'
তুমি ভাবছো এখনো সব কল্পনা
রাতে ঘুমিয়ে ভয়ঙ্কার স্বপ্ন দেখছো।
ওসমান সাহেব চুপ। তুমিও চুপ। তুমি আবার বেহুশ হও। এটা স্বপ্ন। কিছুক্ষণ পর আবার হুশ ফিরলো। ওসমান সাহেব তোমার সামনে হাসছে। এটা স্বপ্ন। না এটা স্বপ্ন নয়। ওসমান সাহেব হাসছেন। তুমি তাঁর ঘরে নও, অন্ধকার কোটরে। হা হা হা! ওসমান সাহেব এবার আরো জোড়ে হাসবেন!
আমি আর লিখতে পারছি না। কারণ একবার মরে গেলে মানুষের আর ইতিহাস হয় না!
আমি শুধু হাইলাইট করতে পারি, ওসমান সাহেবের সাফল্যের হাসি।
ওসমান সাহেবের জোড়েজোড়ে হাসি।

..................................
উড়ে যদি যেতে চাও
.
উড়ে যদি যেতে চাও উড়ে যাও তবে
ইচ্ছে ওড়ার যদি হয় তবে আপনা পাখা গজাবে।

..................................
..................................

আমার হাতে একটা তারছেড়া গিটার
.
এখন বিজন রাত
আর ছাদে নেই চাঁদ।
আমি ছাদে উঠে
চাঁদকে খেয়ে ফেলেছি
বিধায় নিগূঢ় অন্ধকার
আমার সাথে
আমি
আর হাতে
একটা তারছেড়া গিটার।
পৃথিবীর বিপরীত পৃষ্ঠে এখন
চাঁদের হাহাকার
উল্টো দিকে ঘুরছে পৃথিবী
আমি তাতে ঘি ঢালি
আর গান করি
আমার সাথে
আমি
আর
আমার হাতে একটি তারছেড়া গিটার।
এই যে আমি
আমাকে চিনবেন না আপনি
আমি চাঁদ তারা খেয়ে খেয়ে
মাছ পাতা ফুল দিয়ে
কবিতা লেখার পর অ্যাখন
ধইঞ্চা পাতার উপর কোবিতা লিখি।
তারা ধরে অন্য গ্যালাক্সিতে রেখে আসতে গিয়ে
দেখি;
তারারা সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে একাকার
তখন আমি একা
আমার সাথে
আমি
আর
আমার হাতে একটি তারছেড়া গিটার।

..................................
..................................

রিভেঞ্জ
.
।।এক।।
দুঃখ পেলে সবাই
কাঁদতে জানে না
কারো কারো
হৃদয় ভেঙে যায়
কাচের টুকরার মত
অথচ চোখে
জল গড়ায় না!
যারা কাঁদতে জানে না
তাদের দুঃখটা
 কত গভীর
একমাত্র পরমেরই জানা!
আমি এতটুকু দেহে
এত কম বয়োসে
এত অপমান
এত বিরহ
এত অসম্মান,
ক্যামন করে সহ্য করেছি
ভেবে নিজেকে নিজেই
সেলুট করে
বলি "বস মারহাবা'' !
তবে হ্যাঁ, তোমার
সকল দুর্ব্যবহারে
হৃদয় ভাঙে আর
 চোখ ভারী করে!
অপমান, অবজ্ঞা, অানাদর
 আর বিরক্তিবোধ
  থলিতে জমা হতে থাকে।
চোখ বারেবার ইশারায়
বলে দ্যায়, আর কত
অবহেলা, তকলিফ
বাকি রয়েছে?

।।দুই।।
ইনশাল্লা
একদিন ফিরিয়ে দেবো
 সব জমিত অপমান!
তুমি শুধু তাকিয়েই থাকবে
 যেরকম আমি
তোমার দিকে
তাকিয়ে থাকতাম।
মুখের ওপর সব
 "না" বলে দেওয়া,
হাত ধরতে না দেয়া
পাশে বসতে না দেয়া
আমাকে বারবার খোটা দেয়া
আমাকে বোকা ভাবা
প্রতিটা গালি
একেক করে
আশ্লেষে আমাকে
ধ্বংশ করে দেয়া!
টিস্যুতে হাত, নাক মুছে
 মুখে ছুড়ে দিয়ে
সবকিছুর শোধ নেবো
ইনশাল্লা একদিন!
তোমার মুখে কোন
কথা সড়বে না
কারণ নিজেই খাল কেটে
তুমি কুমির এনেছিলে!
ভাবতেও তোমার কষ্ট হবে যে,
"আমি এতটা খারাপ হতে পারি!''

।।তিন।।
ইনশাল্লা
তুমি মরে ভূত হলে,
তোমার মৃতদেহতে
লাথিও দেবো না
আমার দামী জুতো
ফকিরনি একদম
সহ্য করে না!
 জানাজা তো দূরে থাক
 আমি তোমার লাশটা কে
দূর হতে
 দেখতেও যাবো না!
খাটিয়ায় তুমি
অপমানবোধ
 হতে থাকবে।
এমন ভান করে থাকবো
যেন তোমাকে আর
চিনি না আমি।
কোন কালেই
আমরা পরিচিত
ছিলাম না যেন।
আমার ঘৃণা হবে ছিঃ!
পূর্বের সব বিরহ
মনে পরে যাবে;
কবরে একদলা
 থুও ফেলবো না।
জানো তো
আমি যেখানে-সেখানে
থুঃ ফেলি না।
সুযোগ পেলে
তোমার নাপাক খাটিয়ায়
আগুন জ্বালিয়ে দেবো!

।।চার।।
ইনশাল্লা
তুমি মরে যাওয়ার
 একদশক পর একদিন
কবরে বড় ঘাস গজাবে,
তোমার কবরের
 যত্ন নিচ্ছে না যেন কেউ,
নিশ্চিহ্ন প্রায়
কবরের উঁচু প্রস্তর।
মরিচাধরা সাইনবোর্ডে শুধু
তোমার অস্পষ্ট
 নাম সাদা
রঙে লেখা।
আমাকে তুমি
আসতে দেখবে
তোমাকে আমি
দেখবো না।
হয়তো ভাববে
তোমার কবর
জিয়ারতে এসেছি।
তুমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে
হয়তোবা ভাববে আমার
দোআয় তোমার শাস্তি
কিঞ্চিত লঘু হতে পারে।
অামি হাসবো রহস্যের হাসি
তোমার কবরের মাটি
ভেঙে যেতে দেখে।
আমি কবরের পাশে দাঁড়াবো
জিয়ারতের ভান করে
জিপারটা আস্তে টেনে খুলে
কবরের পাশে ঘুরে ঘুরে
কবরের গায়ে মুতে
 লেপ্টে আসবো
 গৎবাঁধা শ্লেষ।

।।পাঁচ।।
তুমি দেখবে
অথচ কিচ্ছুটি
 বলার শক্তি
 নেই তোমার!
দুনিয়াতে তোমার কথা
কেউ শোনে না
এখন আর।
এমনকি তোমার
কবরের ফেরেশতারা ও না!
মনে রেখো, আমাকে
 ইগনোর করেছো বলে
 কবরেও তোমার শান্তিতে
 থাকা হবে না!
হা হা হা!