Showing posts with label সমালোচনা. Show all posts
Showing posts with label সমালোচনা. Show all posts

রবীন্দ্র সমালোচনা


সজল আহমেদ
বাংলা সাহিত্যে পদার্পণ মানে আপনি ইতোমধ্যে রবীন্দ্রনাথ পাঠ করে ফেলেছেন। বঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য পাঠ মানে-লবনহীন তরকারী। কোন এক অদৃশ্য হাত বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ পাঠ বাধ্যগত করেছেন। সেই ছোটবেলায় শুরু জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি" থেকেই আপনার আমার রবীন্দ্রনাথ পাঠ শুরু হয়েছে। এরপর "ব্যক্তিস্বাধীনতা" বোধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইচ্ছা হোক আর অনিচ্ছা হোক রবীন্দ্রপাঠ বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্য বইতে রবীন্দ্রনাথ থাকবেই। সরকার পাল্টালে শ্রেণী বিশেষ প্রবন্ধ-কবিতা পাল্টে যায়, কোন কোন পূর্ববঙ্গের লেখকও হয়তো পাতা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। রাজনৈতিক দাঁড়িপাল্লায় এক সময় অদৃশ্য হয়ে যাবে আল-মাহমুদ ও সোনার নোলক। ইতোমধ্যে ফররুখ আহমেদকে খুঁজে পাচ্ছিনে পাঠ্য বইতে। কিন্তু পাঠ্যবইতে রবীন্দ্রনাথ থেকেই যাবে, থাকতেই হবে থাকা চাই-ই চাই। মাদ্রাসা শিক্ষাতেও রবীন্দ্রনাথ স্থান পেয়েছে শুনেছি। শুনে ভালোই লেগেছে। মাদ্রাসা ছাত্ররা স্যেকুলার হবে, মাদ্রাসা ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথ জানবে রবীন্দ্রনাথ পড়বে। রবীন্দ্রনাথ থাকবে তাদের কল্পনায় মহাপুরুষ হিসাবে। যদিও রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের জমিদার এবং তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটে পূর্ববঙ্গে থাকা সত্ত্বেও পূর্ববঙ্গের প্রজাদের ছেলেমেয়ের জন্য কোন পাঠশালা, মক্তব বা অন্যকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েননি বা তাতে সাহায্যও করেননি। তবুও রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গে বাধ্যতামূলক ভাবতেই কী ভালো লাগে! কেন রবীন্দ্রনাথকে বাধ্যতামূলক করা হল? এ প্রশ্নের জবাবে রবীন্দ্র ভক্তদের কাছ থেকে আমি যে জবাব পেয়েছি তা উদ্বৃত করলাম-
"রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) থাকবেই বা না কেন! এক দৃষ্টিতে দেখতে গেলে যেভাবেই হোক তিনি বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলা সাহিত্যকে তিনি সারাটা জীবন দিয়েই গেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে বাঙ্গালীদের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ৩৮টি নাটিকা, ৩৬টি প্রবন্ধ, ৯৫টি ছোটগল্প, ১৯১৫টি গান ও ২০০০টি ছবি উপহার দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যের গুণগত মান নিয়ে কে আছে প্রশ্ন তোলার? এখনো কি জন্ম হয়েছে সে ধূর্যটির?"
হ্যাঁ বন্ধুটির দাবী একেবারে অমূলক নয়। রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ নয়। কবি হিসাবে তিনি খুবই পরিশ্রমী ছিলেন, কারণ সাহিত্য করতে তিনি তাঁর জীবনে প্রচুর সময় পেয়েছেন যা অন্যরা খুবই কম পেয়েছেন বাংলা সাহিত্যের জগতে। পারিবারিক সূত্রে জমিদার হওয়ায় রবীন্দ্রনাথের ধনসম্পদের কোন পিছুটান ছিলোনা। তাই সাহিত্যের পিছনে তিনি তাঁর সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন। কিংবা তাঁর লেখার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোন ধূর্যটি অবশিষ্ট নেই। থাকলেও তাঁরা চাপা পড়ে আছেন বা তাদের চাপা দেয়া হয়েছে। একথা সর্বমহলে সর্বজনবিদিত যে রবীন্দ্রনাথের লেখার কদর তাঁর নোবেল প্রাপ্তির পরে হয়েছে। এর আগে তাঁর কোন গ্রন্থ ফ্লপ হওয়ার ভয়ে কোন প্রকাশক ছাপতে চাইতো না। সে সময়কার সাহিত্যিকগণ রবীন্দ্রনাথকে নিতান্তই অশিক্ষিত ভাবতেন।
"ঠাকুর নোবেল প্রাইজ প্রাপ্তির পূর্বে প্রায় অশিক্ষিত ব্যক্তি হিসাবে গণ্য হতেন। আমার ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপত্রে ঠাকুরের একটি রচনা থেকে উদ্বৃতি দিয়ে সেটাকে বিশুদ্ধ ও সাধু বাংলায় লেখার নির্দেশ ছিল।" [জাস্টিস আব্দুল মওদুদ, মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশ; সংস্কৃতি রূপান্তর-পৃষ্ঠা ৪০৮]
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাতী সুরেশচন্দ্র সমাজপতি, ১৩১৯ বঙ্গাব্দ কার্তিকের সাহিত্য সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে মন্তব্য করলেন,
"ইংল্যাণ্ডে রবীন্দ্রনাথ সম্বর্দ্ধনার খবরে দেখিতেছি- ইংল্যাণ্ডের অনেক সুধী স্বীকার করিতেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ বর্তমান যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ও ভাবুক-এ বিষয়ে তাঁহার তুল্য দ্বিতীয় ব্যক্তি জগতে কোন দেশে নাই। আনন্দের কথা নয়? তবে কিনা দেশের লোক এতদিন তাহা বুঝতে পারে নাই। ইদানীং রবীন্দ্র ভক্তবৃন্দের বগলেই বিরাজ করেন দর্শন দুর্ঘট। বিস্ময়ের কথা এই যে, দেখিতে দেখিতে জগতের সাহিত্য এত দরিদ্র -প্রায় দেউলিয়া হইয়া গিয়াছে যে রবীন্দ্রনাথ সর্বশ্রেষ্ঠ বলিয়া পরিগণিত হইলেন। কোন কোন সুধী এই জগতব্যাপী কবি জরিপের সার্ভেয়ার ছিলেন,তাহা বলিতে পারিনা। যাঁহারা আমাদের ধন্য করিলেন, তাঁহারাই ধন্য।" [জোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল; পৃঃ ৯-১০]
পত্রিকায় তাঁর লেখা ছাপা হত কিন্তু গ্রন্থাকারে কবির লেখা সে নিজের টাকাতেই অথবা আত্মীয়েরা ছাপাতো। ১৮৯৬ সালে তাঁর ভাগ্নে একটি বই ছেপেছিল যা সেলফেই সাজানো ছিলো কেউ কেনেননি।
"শুনা যায়, সেই বইয়ের বোঝা সুদীর্ঘকাল দোকানের শেল্ফ ও তাঁহার চিত্ত কে ভারাতুর করিয়া বিরাজ করিতেছিল।" [ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ: অমিতাভ চৌধুরী-পৃঃ৭৮]
এমন সময়ও কবির অতিবাহিত হয়েছে যে, অর্ধেক দামে তাঁর বই বিক্রি করতে হয়েছে, বা এক তৃতীয়াংশ দামে তাঁর গ্রন্থের কপিরাইট বিক্রি করেছেন।
"১৮৯৬ সালে 'রবি মামার' প্রথম কাব্যগ্রন্থগুলি প্রকাশ করেন তিনিই। তারপর বহুবছর রবীন্দ্রনাথ কে এ বিষয়ে অনেকটা নিজের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে। নিজের খরচে তিনি বইয়ের পর বই ছেপেছেন। ....রবীন্দ্রনাথের বই অনেক সময় বিক্রি করতে হয়েছে অর্ধেক দামেও। তা নিয়ে সেকালে কম ঠাট্টা বিদ্রুপ হয়নি। ...১৯০০ সালে কবির বন্ধু প্রিয়নাথ সেন কে তিনি লিখেছিলেন 'ভাই, একটা কাজের ভার দেব?...আমার গ্রন্থাবলি ও ক্ষণিকা পর্যন্ত সমস্ত কাব্যের কপিরাইট কাউকে ৬০০০ টাকায় কেনাতে পারো? আমার গ্রন্থাবলি যা আছে সে এক তৃতীয়াংশ দামে দিতে পারব(কারণ এটাতে সত্যের অধিকার আছে, আমি স্বাধীন নই, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে লোকে কিনবে সে ঠকবেনা। ...আমার প্রস্তাবটা কি তোমার কাছে দুঃসাধ্য ঠেকেছে? যদি মনে কর ছোটগল্প এবং বউ ঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি কাব্যগ্রন্থাবলীর চেয়ে খরিদ্দারের কাছে বেশি সুবিধাজনক প্রতিভাত হয় তাহলে তাতেও আমি প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমার বিশ্বাস কাব্যগ্রন্থগুলোই লাভজনক। এই রকম নানা ঝামেলার মধ্যে কবির বই প্রকাশ করতে হয়েছে।" [ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ; অমিতাভ চৌধুরী-পৃঃ৭৯]
কবির উপর এই অভিযোগও ছিলো যে তাঁর যাবতীয় সৃষ্টিই নকল! এই অভিযোগটি তোলেন -কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ তাঁর মিঠা কড়াতে। "জ্যোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল" গ্রন্থের ১১১ পৃষ্ঠায় সুজিত কুমার সেনগুপ্ত একটি লেখায় দেন, "স্রেফ টাকার জোড়ে ওঁর লেখার কদর হয়।" আবার বলেন, "রবীন্দ্রনাথের প্রায় যাবতীয় সৃষ্টিই নকল। বিদেশ থেকে ঋণ স্বীকার না করেই অপহরণ।" কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ তাঁর মিঠে কড়াতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্যারোডি কবিতাও লিখলেন "রবিরাহু" ছদ্মনামে। "জ্যোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল" গ্রন্থের সৌজন্যে আমি কবিতাগুচ্ছের উদ্বৃতি দিচ্ছি।
১নং কবিতাঃ
ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ বঙ্গের আদর্শ কবি।
শিখেছি তাঁহারি দেখে তোরা কেউ কবি হবি?
'কড়ি ও কোমল' পড় 'পুরো সুর' চাস্ যদি।
পড়ে যা আমার টোলে দেখে যা কবিত্ব নদী।
সে যে রবী-আমি রাহু,
তুল্য মূল্য সবাকার
ধনী সে-দরিদ্র আমি
সে আলো-এ অন্ধকার।
২নং কবিতাঃ
(১) মৌলিকতা পথের ধারে গড়াগড়ি খায়।
ও তার অনুবাদের বিষম ঠেলায় ব্রহ্মা লজ্জা পায়।।
চুনোগলি হার মেনেছে মৌলিকতা দেখে।
যত মুদিমালা বাংলা পড়ে রবি ঠাকুর লেখে।।
(২) আয় তোরা কে দেখতে যাবি,
ঠাকুর বাড়ির মস্ত কবি!!
হায়রে কপাল হায়রে অর্থ!
যার নাই তার সকল ব্যর্থ!!
(৩) কেমন ভাষা বিদ্যা খাসা
দেখ কেমন সং এগো
রোগা হাড়ে তাই বেঁচে গেল
প্রমাদ অঙ বঙ পঙে গো।
বিদ্যাবিশারদ বা অন্যান্য রবী-সমালোচকরা এ কথাটা একেবারেই যে বিদ্বেষ থেকে লিখেছেন বা যাচাই বাছাই না করেই বলে ফেলেছেন, এটা বলা বোকামী। রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী (দ্য সং অফারিংস) এর জন্য যখন নোবেল পেলেন তখন পশ্চিমা সাহিত্যিকগণ রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ আনেন। তাঁর "দ্য সং অফারিংস" (গীতাঞ্জলী) এর ২৬ নং কবিতা ও ইংরেজী বাইবেলের "সং অফ সলোমন" এর ৫:২৬ নং শ্লোকের মিল দেখান তাঁরা। তাঁরা গীতাঞ্জলীর ৮৬ নং কবিতা ও খ্রীষ্টিও গান "Canticle" এর হুবহু মিল দেখান। "আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ" এর ১৪৫ নং পৃষ্ঠায় এর আলোচনা করেন শ্রী নীরদচন্দ্র চৌধুরী। রবীন্দ্রনাথের প্রমাণিত একটি নকল কবিতা হলো "ভারত তীর্থ"। যা কবি "জালালুদ্দিন রুমি"র একটি কবিতার হুবহু নকল। নিচে দুটো কবিতা'ই উদ্বৃত করা হোলো:
বায্ আঁ,বায্ আঁ
হর আচে হাস্তী বায্ আঁ।
গর কাফির হর গবরওয়া
বোত পরস্তি বায্ আঁ।
ই দরগাহ মা দরগাহে
ন-উম্মিদ নীস্ত
শতবার গর তাওবাহ শিকস্তী বায্ আঁ
-জালালুদ্দিন রুমি
এই কবিতার নকল রবীন্দ্রনাথের কবিতাটি হলো-
এসো হে আর্য,এসো হে অনার্য-
হিন্দু মুসলমান,
এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ
এসো এসো খ্রীষ্টান।
মা'র অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
মঙ্গলঘট হয়নি যে ভরা-
সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থ নীরে
এই ভারতের সাগরতীরে।
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [দ্রঃএ এক অন্য ইতিহাস;পৃঃ ১৬৯-৭০]
রবীন্দ্রনাথের "চিত্রা" কাব্যের "এবার ফিরাও মোরে' এবং "মানসী" কাব্যের "বধূ' কবিতা দুটির ভাব ইংরেজ কবি শেলী ও ওয়ার্ডওয়ার্থের কবিতার নকল। [দ্রঃঐ] নারায়ণ বিশ্বাস এবং প্রিয়রঞ্জন সেন প্রমাণ করেন "গোরা" এবং "ঘরেবাইরে" নকল। কালী মোহন ধরে দেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার নকল। এবং অমিতাভ চৌধুরীর লেখায় প্রমাণিত হয়, যার জন্য কবি নোবেল পান সেই গীতাঞ্জলী নামটাই নকল করা! [দ্রঃঐ]। রবীন্দ্রনাথের একটি নকলের কথা বলেন আহমেদ ছফা তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন রাসেল, অশীষ এবং ব্রাত্য রাইসু। বাউলদের নিয়ে কথা বলার ফাঁকে রাইসু বলেন-
"রাইসু: আমার মনে হয় ছফা ভাই, এইখানে বাউলরাই হইছে সবচেয়ে বড় এলিট।
ছফা: এলিটিজম হচ্ছে একটা জিনিস, যখন একটা অংশে নিজেদের আইডেনটিটি এসার্ট করতে করতে তাঁরা মনে করে যে দে আর বেস্ট ফর সামথিং। বাউলদের এই যে স্যেকুলেড মানসিকতা। এইটা আমি খুব অপছন্দ করি। দেখ, জেনরা মনে করে সমস্ত বস্তু সত্তার মধ্যে প্রাণ আছে। এই কাঠটার মধ্যেও প্রাণ আছে। প্রাণের যে ভেরিয়েশন, সেটা হচ্ছে ডিগ্রি এবং স্টেজের। সেজন্য উর্দুতে একটা শের আছে 'সে মুক্তাতেই নেই, সে পাথরেও নেই, সে নানা বর্ণে দীপ্ত'।
রাইসু: এটারই উল্টো করে রবীন্দ্রনাথ বলতেছেন, তোমারই স্পর্শে পান্না হল সবুজ।
ছফা: রবীন্দ্রনাথ এটা গ্যেটের সেকেন্ড পার্ট থেকে চুরি করছে।
রাইসু: রবীন্দ্রনাথ তো তাইলে বড় কিছু ছিল না।
ছফা: এগজাক্টলি, এই যে বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে তালি দেওয়ার ক্ষমতা এটাই মানুষকে বড় করে।"
[দ্রঃ উত্তরখন্ড আহমেদ ছফা; পৃঃ-২৩২; অধ্যায়-একদিন আহমদ ছফার বাসায় আমরা]
রবীন্দ্রনাথের নকল বিষয়ক আলোচনা এখানেই সমাপ্ত করতে চাই। এ বিষয়ে লিখতে বসলে ছোটখাট একটা বই'ই হয়ে যাবে। যে বিষয়ে আজ লিখতে বসেছি সেটাই এখন সামনে আনা সমীচীন মনে করছি। প্রয়াত বাংলা সাহিত্যিক আহমেদ ছফা প্রণীত "যদ্যপি আমার গুরু" বইটি সম্প্রতি পাঠ করলাম। আহমেদ ছফা তাঁর গুরু অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে দীর্ঘ জীবনে পরিচয়ে যে কথাবার্তা চালিয়েছেন তা তুলে ধরেছেন। বইটিকে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাক্ষাৎকারের বই বলা যায়। বইটির পৃষ্ঠা ৬০-এ নজর পড়তেই চমকপ্রদ একটি কথা দৃষ্টিগোচর হলো। রবীন্দ্রনাথের বিষয় আলোচনা উঠলে ছফা জানতে চান রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে উনার মতামত। এছাড়াও ছফা রবীন্দ্রনাথ বড় মানুষ কি-না এর বিষয়ে ইঙ্গিত দিলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন,
"রবীন্দ্রনাথ বড় লেখক, মানুষ হিসাবে রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাসাগর কিংবা তাঁর মত মানুষের ধারে কাছেও আসতে পারেন না। বড় লেখক আর বড় মানুষ এক নয়। বড় লেখকদের মধ্যে বড় মানুষের ছায়া থাকে।"
জাতীয় অধ্যাপক এখানে কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা কারো বোঝার বাকি নেই। সমাজ সংস্কার বা সাহিত্যের উন্নতিতে রবীন্দ্রনাথের তেমন কোন হাত নেই। এই যে হালের রবীন্দ্রপ্রেমীদের উদ্ভট দাবী সেটা তিনি একেবারই ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছেন। রবীন্দ্র ভক্তরা দাবী করেন, "রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষা বাঁচিয়ে রেখেছেন।" এ বিষয়ে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে আহমেদ ছফা প্রশ্ন করলে উনি নিঃসঙ্কোচে বলেন- "বাংলা ভাষাটা বাঁচাইয়া রাখছে চাষাভুষা, মুট মজুর-এরা কথা কয় দেইখ্যাই ত কবি কবিতা লিখতে পারে। "[দ্রঃ আহমেদ ছফার ঐ বই পৃঃ ৬০-৬১]
এই কথাটির আরো ভালো বিশ্লেষণ করা যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন দিয়ে। মানুষ হিসাবে তিনি বড় ছিলেন কি-না। বড় ভাইয়ের বৌয়ের সাথে পরকীয়া অতঃপর নিজের বিয়ে, বিয়ের পর কাদম্বরি (বৌদি) দেবীর আত্মহনন তাঁর বড় মানুষ হওয়ায় যথেষ্ঠ প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করেছে। এ বিষয়ে শ্রী নীরদচন্দ্র চৌধুরী লিখলেন- "১৮৮৩ সনের ডিসেম্বর মাসে ২২ বৎসর ৮ মাস বয়স্ক রবীন্দ্রনাথের সহিত একটি বারো বৎসরের বালিকার বিবাহ হয়। উহার চার মাসের মধ্যে ১৮৮৪ সনের এপ্রিল মাসে জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঁচিশ বৎসর বয়স্কা পত্নি কাদম্বরী দেবী আত্মহত্যা করিলেন।" তিনি আরো লিখলেন- "জ্যোতিন্দ্রনাথের সংসারের সহিত রবীন্দ্রনাথ ১৮৮১ সনের মাঝামাঝি হইতে ১৮৮৩ সনে বিবাহ হইবার সময় পর্যন্ত যেভাবে যুক্ত ছিলেন তা হতে এই জনশ্রুতি বাঙালী সমাজে ভিত্তিহীন বলিয়া মনে হইলো না। তাহার উপরে কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর সতেরো বৎসর পরে ১৯০১ সনে রবীন্দ্রনাথ 'নষ্টনীড়' গল্পটি প্রকাশ করিয়া এই জনশ্রুতির গৌণ প্রমাণ দিয়া ফেলিলেন।" [আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ -পৃঃ ২৭-২৮]
এই ফাঁকে বলে রাখি, রবীন্দ্রনাথকে বর্ণবাদ-বিরোধী হিসাবে উপস্থাপন করলেও রবীন্দ্রনাথ কিন্তু কোন নমঃশূদ্রের মেয়েকে স্ত্রী-রূপে গ্রহণ করেননি। রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালীনি দেবী ছিলেন পীরালী ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। কাজেই জাতপাত প্রথা থেকে রবীন্দ্রনাথ বের হতে পেরেছিলেন কি-না সেও ভাববার বিষয়। সে সময় সাহিত্যাঙ্গনে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। কারণ, দুধে-আলতা, স্মার্ট বিলেত ফেরত জমিদার পুত্র রবীন্দ্রনাথের কপালে জুটলো কৃষ্ণাকায় এক অশিক্ষিত নারী! মৃণালীনির চেহারা সুরত তেমন ভালো না হলেও পীরালি ব্রাহ্মণ বলেই রবীন্দ্রনাথ একে বিয়ে করেন। এ নিয়ে হেমেন্দ্র প্রসাদ লেখেন- "বউ তেমন সুবিধের হয়নি। সুন্দরী নয় মোটেই।" মৃণালীনি দেবীর গায়ের রং যে তেমন ভালো ছিলোনা সে বিষয়ে হেমেন্দ্র প্রসাদ বলেন- "বউয়ের মুখশ্রী বা দেহের গঠন সাদা মাটা পাঁচপাঁচী। গায়ের রং শ্যামবর্ণ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।" তেমন শিক্ষিতও ছিলেন না দেবী। একমাত্র পীরালি ব্রাহ্মণ বলেই যে তিনি মৃণালিনী দেবীকে বিয়ে করেন এ নিয়ে হেমেন্দ্র প্রসাদ বলেন- "বাংলা অক্ষর পরিচয়টুকু বউয়ের কোন রকম হয়েছে। ঐ পরিবারে শিক্ষাদীক্ষার কোন চলন নেই। মুশকিল হলো এই যে, ধনী জমিদার হলেও পীরালি ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে সবাই দিতে চায় না, কিনা।" মৃণালীনি দেবীর গায়ের রং, তাঁর বংশ মর্যাদা বা শিক্ষা-দীক্ষা টেনে আনার মানে এই না যে আমি তাঁকে ছোট করে দেখছি। রবীন্দ্রনাথ জাতপাতের উর্দ্ধে যেতে পেরেছিলেন কি-না সে বিষয়ে আলোকপাত করার জন্যই এ বিষয়টা টানলাম। রবীন্দ্রনাথ বর্ণবাদের উর্দ্ধেই যদি হবেন তাহলে তাঁর লেখা কাব্য নাটক, কবিতায় মুসলমানদের ম্লেচ্ছ, যবন বলবেন? তাঁর কন্ঠরোধ প্রবন্ধে মুসলমানদের নীচু জাত, ইতর, নিম্ন শ্রেণীর বলে মন্তব্য করেন [রবীন্দ্র রচনাবলীর ১০ম অংশের ৪২৮ পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য ]। আরো বর্ণবাদ প্রকাশ পায় রবীন্দ্রনাথ প্রণীত "ইংরেজী সহজ শিক্ষা"য়। আমি এখানে কিছু তুলে ধরছি সেখান থেকে শুধুমাত্র বাংলায়:
• "সুশ্রী মেয়েটির গাধা আছে। • গরীব ছেলেটির একটি নৌকো আছে। • নিষ্ঠুর মানুষটির একটি মাদুর আছে। • দরিদ্র মেয়েটির একটি ছোটো বিছানা আছে। • খাটো মানুষটির একটি সুন্দর পাখি আছে। • বিশ্রী ছেলেটির একটি উঁচু ডেস্ক আছে। • পাতলা মানুষটির (একটি) উঁচু বড় নাক আছে। • গরীব ছেলেটির একটি পুরানো খারাপ কলম আছে।" [পৃষ্ঠা ১৬ -ইংরেজী সহজ শিক্ষা; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]
কাজেই রবীন্দ্রনাথকে বর্ণবাদ-বিরোধী বলা মূলো গিলানো ছাড়া আর কিছুতো ধরা যায় না। এছাড়াও তাঁর বড় হওয়ার বাঁধা হিসাবে ছিলো জমিদারগিরি, ইংরেজ-তোষণ, নোবেল নিয়ে তদবীর ফিকির, উদ্বৃতি না দিয়ে লেখার জোড়াতালি এবং ক্ষেত্র বিশেষ মুসলমান ও হিন্দু বিদ্বেষীতা। জমিদারগিরি ছিলো তাঁর অন্য আরেক রূপ। কবিতায় এই রূপ পাঠকরা দেখতে পাননা বিধায় রবীন্দ্রনাথের দুষ্টু স্বত্ত্বা তাঁরা দেখতে পান না কিংবা অত্যন্ত সুচারু ভাবে এড়িয়ে যান। শ্রী নীরদ চৌধুরী রবীন্দ্র বিদ্বেষীদের মত রবীন্দ্র ভক্তদের মধ্যেও একটা দিক দেখতে পেয়েছেন যে, এঁরা সুক্ষ্মভাবে রবীন্দ্রনাথের দোষ এড়িয়ে যান। কবি হিসাবে যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে "বড় মানুষ" হিসেবে পূজো করে আসছেন, "জমিদার" হিসাবে তাঁরা কি রবীন্দ্রনাথকে পূজো করতে পারবেন? রবীন্দ্রনাথ দফায় দফায় পূর্ববঙ্গ এস্টেট এর কর, খাজনা বৃদ্ধি করেছেন। তাঁর পাশাপাশি মুসলমান প্রজাদের কাছ থেকে পূজাপার্বণ এর খাজনা আদায় করেছেন বেআইনি ভাবে। এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কিছু উদ্বৃতি দিচ্ছি- "১৮৯৪ সনে রবীন্দ্রনাথ চাষীদের খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, খাজনা আদায়ও করেছিলেন। "[দ্রঃ- শচীন্দ্র অধিকারি, শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ পৃঃ ১৮, ১১৭]। রবীন্দ্রনাথ ২ বার করে খাজনা আদায় করতেন।
"সব জমিদার খাজনা আদায় করতেন একবার রবীন্দ্রনাথ করত দুইবার। একবার জমির খাজনা দ্বিতীয় বার কালী পূজার সময় চাদার নামে খাজনা।" [দ্রঃইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত, লেখক সরকার শাহাবুদ্দীন আহমেদ ]
এখানে আলোচনার আগে তাঁর পিতামহ ও পিতা দেবেনের প্রজাহিতৌষিতা একটু তুলে ধরার দরকার পড়লো। ঠাকুর বংশের প্রজাপীড়নের কথা সাংবাদিক/বাউল কাঙাল হরিণাথ তাঁর গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় তুলে ধরেছিলেন। "কাঙাল হরিণাথের অপ্রকাশিত ডায়েরী, চতুষ্কোণ" আষাঢ় ১৩৭১ সংখ্যা থেকে তুলে ধরা হলো- "ইত্যাদি নানা প্রকার অত্যাচার দেখিয়া বোধ হইলো পুষ্করিণী প্রভৃতি জলাশয়স্থ মৎসের যেমন মা বাপ নাই; পশুপক্ষী ও মনুষ্য যে জন্তু যে প্রকারে পারে মৎস ধরিয়া ভক্ষণ করে; তদ্রুপ প্রজার স্বত্ত্ব হরণ করিতে সাধারণ মানুষ্য দূরে থাকুক যাহারা যোগী ঋষি ও মহা বৈষ্ণব বলিয়া সংবাদপত্র ও সভা সমিতিতে প্রসিদ্ধ, তাঁহারাও ক্ষৎক্ষামোদর।" পিতামহ দ্বারকানাথ আর পিতা মহর্ষি(!)দেবেন এর মত তিনিও প্রজাদের চাবুক পেটা করেছেন, পায়ে দলেছেন লাথি মেরেছেন এমনকি প্রজাদের বাড়িঘর ও জ্বালিয়ে দিয়েছেন! "কিন্তু তাঁর ঔদার্য ও মানবিক বোধের ঐশ্বর্য সত্বেও জমিদার ও জমিদারীর যে ঠাঁট যা সামন্ত সম্পর্কের একটি অঙ্গ, তা তিনি বর্জন করতে পারেন নি। জমিদারের ক্ষমতা আড়ম্বর ও দাপট সম্পর্কে প্রজাদের ভীতি থেকেই গেছে।" [ডক্টর পোদ্দার; পৃঃ২০]
রবীন্দ্র ভক্তরা একথা প্রচার করে বেড়ায়, প্রজাদের সুবিধার্থে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গে 'কৃষিব্যাঙ্ক' একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। মূলে কার সুবিধা হলো, কাদের ধন সম্পদ বৃদ্ধি পেলো সে কথা কোন রবীন্দ্র ভক্ত জানলেও আড়াল করে যাচ্ছেন নাকি জানেন না এ প্রশ্ন থেকেই গেলো। "কলকাতার কিছু বন্ধুবান্ধব যোগাড় করে তাঁদের সঙ্গে কবি নিজেকে যুক্ত করে একটি সুদের কারবার শুরু করেছিলেন-তার নাম দিয়েছিলেন 'কৃষিব্যাঙ্ক'। তাঁরা শতকরা সাত টাকা সুদ দিয়ে মূলধন যোগাড় করেছিলেন। আর কবি তাঁর জমিদারিতে গরীব প্রজাদের কাছ থেকে সুদ নিতেন শতকরা ১২ টাকা।" [ডক্টর পোদ্দার; পৃঃ২২]। কবির জমিদার সত্ত্বার আলোচনায় কবিকে বড় মানুষ হিসাবে ভাবায় যথেষ্ট অসততা আছে। মূর্তিপূজো-বিরোধী মুসলমানদের কাছ থেকে মূর্তিপূজোর চাঁদা আদায়, আবার কবিতায় সেই মুসলমানদের ম্লেচ্ছ, যবন, নীচ ইত্যাদি বলে গালাগাল নিম্ন মানুষিকতা নয় কি? এছাড়াও কবি কলকাতায় করেছেন মুসলিম-বিরোধী জনসভা।
গোঁড়া হিন্দু কর্তৃক গরু বাঁচাতে পৃথিবীর মাটিতে ভারতবর্ষের পূণায় সর্বপ্রথম "গো রক্ষক্ষিণী সভা" নামে যে জনসভাটি ১৮৯৩ সনে হয় সেটির প্রতিষ্ঠা করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ! [দ্রঃএ এক অন্য ইতিহাস] তবে তিনি যে একমাত্র মুসলিম সম্বন্ধেই বিদ্বেষভরা লেখা লিখেছেন তা নয়। তাঁর কিছু কিছু বক্তব্যে তিনি হিন্দু ধর্ম এবং হিন্দু জাতীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি! তাঁর নাটক "অচলায়তন"-এ তিনি হিন্দু ধর্মকে চরমভাবে আঘাত হানেন! আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ থেকে এর উদ্বৃতি দিচ্ছি- "রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ধর্মকে আঘাত করেছিলো তাঁর নাটক অচলায়তনে। সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক -সুরেশচন্দ্র সমাজপতি এর বিরুদ্ধে লিখলেন-রবীন্দ্রনাথ মেটারলিঙ্ক হইতে পারেন, কিন্তু হিন্দুধর্ম সমাজকে আক্রমণ করিবার অধিকার তাহার নাই। "[আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-পৃঃ৫৪]
ফ্যাসিবাদী মুসোলিনির মহৎকর্মের কথা কে না জানে! কিন্তু আমাদের কবি মুসোলিনি-প্রেমে মজলেন যে তিনি তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গেলেন! কবি একসময় ইতালি যান এবং সেখানে বসে ফ্যাসিবাদী মুসোলিনির খুব প্রশংসাও করেন! সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর রবীন্দ্র রাজনীতি গ্রন্থের পৃষ্ঠা ১-এ এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন- "১৯২৬ সালে কবি ইতালি যান মুসোলিনির আমন্ত্রণে, এবং আথিথীয়তায় মুগ্ধ হয়ে মুসোলিনির প্রশংসা করেন।" ১৯০৫ সালে করলেন বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা। বিরোধিতা করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে যে জনসভা হয় তাঁর সভাপতি ছিলেন স্বয়ং কবি। "শত হইলেও প্রজা। আর প্রজার বাচ্চারা কেন উচ্চশিক্ষিত হইব" এই মানুষিকতা আশাকরি কবির ভিতর ছিলো না। এসব নিয়ে কয়েকটি পর্বে লিখতে চাই। "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ এর অবস্থান" এবং "রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান" বিষয় দুটো পর্বাকারে লিখতে চাচ্ছি। এই দুটো বিষয়ে বিস্তারিত বলার ক্ষেত্র এখানে নয়।
নোবেল প্রাপ্তির আগে রবীন্দ্রনাথের যেমন লেখার কদর হয়নি তেমনি নোবেল প্রাপ্তির আগে রবীন্দ্রনাথের মধ্যে প্রকৃত রবীন্দ্রনাথ এর জন্ম হয়নি। তাই দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির পরের লেখাগুলো আগের লেখার সাথে সাংঘর্ষিক। যে কারণে তিনি মুসলমানদের ম্লেচ্ছ, যবন, তস্কর বলে গালাগাল দিয়েছেন ঠিক একই কারণে তিনি মুসলমানদেরকে আবার হিন্দুদের চেয়ে একধাপ আগানো সহযোদ্ধা হিসাবে দেখেছেন। নোবেল প্রাপ্তির আগে উনি ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদ(সঃ)কে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বল্লেন-
"কোরআন পড়তে শুরু করেছিলুম কিন্তু বেশিদূর এগুতে পারিনি আর তোমাদের রসুলের জীবন চরিতও ভালো লাগেনি।" [ দ্রঃ বিতণ্ডা, লেখক সৈয়দ মুজিবুল্লা, পৃ -২২৯ ]
নোবেল প্রাপ্তির পর তিনি মুহম্মদ(সঃ)-এর প্রশংসায় ঈদে মিলাদুন্নবীতে লেখাও পাঠিয়েছেন। স্ববিরোধিতা বলি আর সুন্দর করে 'ভুল বুঝতে পারার জন্য' বলি এই কারণে রবীন্দ্রনাথকে 'বড় মানুষ' বলার বেলায় একটু ভেবেচিন্তেই বলতে হবে। যদি তাঁকে মুসলমানদের প্রতি পরবর্তীকালে সদয় হওয়ার জন্য বড় মানুষ বলি, কিংবা পরবর্তীকালে ইংরেজ বিরুদ্ধবাদ এর জন্য বড় মানুষ বলি তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, "পূর্ববঙ্গেরর প্রজাদের জন্য জমিদার সাহেব কি করেছিলেন?" পূর্ববঙ্গে জমিদারী করার সময় অভূতপূর্ব সম্মান (রবীন্দ্র পত্রাবলি পড়ুন) পাওয়ার পরও পূর্ববঙ্গের জন্য তিনি কি করেছেন বা কোন উপকারটায় এসেছেন? আরো প্রশ্ন থেকে যায়, কেন তিনি মুসলমানদের প্রতি পূর্বে বিষোদগার ছড়ালেন? কেন ইংরাজ তোষামোদ করলেন? নিজে শ্রেফ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য? যদি তাই হয় তাহলে বড় মানুষ তাঁকে কিভাবে বলব? রবীন্দ্রনাথ নোবেল পাওয়ার আগ পর্যন্ত ইংরেজদের নিয়ে 'টু' শব্দটি পর্যন্ত করেননি! বরঞ্চ বিভিন্ন ইস্যুতে বিপ্লবীদের খাটো করেছেন। এমন এমন সব কবিতা ইংরেজদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন যাতে ইংরেজদের অধিষ্ঠিত করেছেন "ভগবান" এর আসনে! ঠিক নোবেল প্রাপ্তির পরপরই কেন ইংরেজদের ভগবান থেকে যবনে নামালেন? এর আগে কেন করেন নি? কারণ কি এই যে, "রবীন্দ্রনাথ জানতেন একবার নোবেল পেলে সেটা আর ফেরৎ নেয়া যায় না, তাই তিনি এখন ইংরেজদের চৌদ্দপুরুষ করলেও পাছে নোবেল খোয়া যাবেনা!" এই ফাঁকে বলে রাখি, বলা হয় যে রবীন্দ্রনাথ নাকি কোন এক বিপ্লবী হত্যার প্রতিবাদে ইংরেজদের দেয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য এই যে, নোবেলের মত 'নাইট' উপাধি একবার পেলে আর ত্যাগ করা যায়না! রবীন্দ্রনাথের ঐ একই সময় ইউসুফ আলী নামক স্যার উপাধিপ্রাপ্ত এক মুসলমানও নাইট উপাধি পেয়েছিলেন। কিন্তু বিপ্লবের মুখে উনিও নাইট উপাধি ত্যাগ করতে চাইলেন। নাইট উপধি ত্যাগ নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় উনি আর ত্যাগ করতে পারেননি। সেসময় রবীন্দ্রনাথের নাইট উপাধি ত্যাগের খবর নিয়ে ভারতবর্ষে হুলস্থূল হয়ে গিয়েছিল। তাই স্যার ইউসুফ আলী রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখে নাইট উপাধি ত্যাগের টিপস জানতে চাইলে রবীন্দ্রনাথ জানালেন, শত চেষ্টা করেও এই উপাধি ইংরেজদের ফিরিয়ে দেয়া যায়নি। এই বিষয়ে "এ এক অন্য ইতিহাস" গ্রন্থে গ্রন্থাকার বিশদ আলোচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ও ইউসুফ আলীর চিঠির হুবহু ছবি দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে তাঁর স্ববিরোধিতা হোক আর সুন্দর করে 'ভুল' হোক, যে কোন কারণেই তাঁকে বড় মানুষ বলা যায় না। রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁর বড় মানুষ হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাই যাঁরা সাহিত্যের পাল্লায় ফেলে রবীন্দ্রনাথকে একজন বড় মানুষ হিসাবে উপস্থাপন করছেন তাঁদের জ্ঞাতার্থে প্রখ্যাত কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ এর এই কথাটুকু রেখে লেখাটার সমাপ্তি ঘটালাম। সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর রবীন্দ্র রাজনীতি গ্রন্থে বলেন-
"ধরা যাক, একজন কথাশিল্পী এমন এক কাহিনী লিখলেন যেখানে প্রধান চরিত্র বিপ্লবী-বিদ্রোহী ও কুসংস্কারেরর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে লেখক নিজে সুবিধাবাদী সমাজের শত্রুদের সঙ্গে একাসনে তাঁর অবস্থান এবং প্রগতিবিরোধী-তাহলে কি তাঁকে আমরা মহৎ ব্যক্তি বলব?"

দেবী থেমিসের মূর্তি: প্রফেসর মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর প্রতি

দেবী থেমিসের মূর্তি: প্রফেসর মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর প্রতি
মুহম্মদ জাফর ইকবাল (ছবি: উইকিপিডিয়া)
মুহম্মদ জাফর ইকবাল



২রা জুন, ২০১৭ বিডিনিউজ২৪ডটকম এ মৃণালের ভাস্কর্য নিয়ে ছাপা হওয়া জাফর ইকবালের কলাম একটা কলাম ছাপে 'স্বপ্ন ভেঙে নয় স্বপ্নের অংশীদার হয়ে' শিরোনামে। কিভাবে বিভিন্ন ইস্যুর সাথে মুক্তিযুদ্ধ জড়িয়ে তার সাথে এক চা চামচ আবেগ মিশিয়ে তরুণ প্রজন্মকে খাওয়াতে হবে সে বিষয়ে প্রফেসর উটপাখি মুহম্মদ জাফর ইকবাল ভালোই জানেন (উনি নিজেকে উটপাখি ভাবেন)। আর চেতনার বলি চশমা পড়া ছাত্র/ছাত্রীরা প্রতিদিন স্যার স্যার করে যা গিলায় ওটাই গিলে নেয় হিঃ হিঃ! স্যারের নামে প্রতিদিন তিনশ দুম্বাহ জবেহ করে স্যারকে উৎসর্গ করেন। জ্বী হুজুর! জ্বী জনাব! জ্বী স্যার এজ্ঞে ইত্যাদি পাখির কলরবে স্যারের চারপাশ মুখরিত থাকে। প্রতিটা 'আজ্ঞে জনাব' টাইপের পত্রিকা ওয়ালারাও স্যারের কলাম ছাপতে মুখিয়ে থাকেন। বিডিনিউজ২৪ডটকম এ প্রফেসর ইকবালের ঐ কলামে আমি একটি মন্তব্য করি কিন্তু বিডিনিউজ২৪ডটকম সেটি অ্যাপ্রুভ করার সৎ সাহস দেখায়নি। পাছে থলের বিড়াল বেড়িয়ে দুধ খাবে কিনা কিংবা প্রফেসরের মানইজ্জত ধুলোয় মিশে যেতে পারে, এই ভয় ছিলো মনে সম্ভবত। আর এভাবে মানইজ্জত চলে গেলে পরবর্তীকালে প্রফেসর বিডিনিউজ২৪ডটকম এ তাঁর কোন লেখা জমা নাও দিতে পারে! এই ভয়েই সম্ভবত মন্তব্যটি অ্যাপ্রুভ করা হয়নি।
এই লিংকে জাফর ইকবালের কলামটি: এখানে
আমি এই প্রশ্নগুলো প্রফেসর জাফর ইকবাল এর প্রতি রেখেছিলাম ২রা জুন ২০১৭ইংরেজী তারিখে ঐ কলামে মন্তব্যের ঘরে।

২/০৬/১৮ ইং
প্রফেসর জাফর ইকবাল কে ধন্যবাদ তাঁর লেখার জন্য। আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কারণ দেবী থেমিসের ইস্যুতে আমি আপনার সাথে একমত নই। তবে আমি আশ্চর্য হই এই দেখে যে হেফাজতে ইসলামকে আপনি যেই দোষে দোষী করছেন ঠিক সেই দোষেই আপনি বা আন্দোলনকারীরা দুষ্ট। হেফাজতে ইসলাম যেমন সকল কাজে ধর্মকে পুঁজি করছে আপনি বা আন্দোলনকারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করছেন। ধর্মব্যবসার মত মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসা হয় কিনা আমার জানা নেই। না হলে আপনি কেন বিভিন্ন ইস্যুতে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন?

   [ক] প্রথমত,আপনি বারবার ত্রিশলক্ষ শহীদকে টেনে আনছেন এখানে প্রশ্ন থেকেই যায় ‘তাহলে কি শহীদগণ ভাস্কর্য বা রাম/বামদের সকল দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ হয়েছেন?’ 
জনগণের জন্য কি শহীদ হননি তাঁরা?
আপনার মত যদি হেফাজত ও শহীদদের/ মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি পুঁজি করে ভাস্কর্যের বিরোধীতা করেন তখন কি করবেন? আর থেমিসের এই গ্রীক মূর্তিতে একাত্তরের কোন চেতনাটা দেখা যাচ্ছে বুঝিয়ে বলুন। 
    [খ] প্রফেসর সাহেব,আপনার কলাম পড়ে মনে হলো থেমিস, আর্টেমিস, হেরা, মিনার্ভা আর ভেনাসের মূর্তি বসানোর জন্যই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। আপনি যেভাবে বলছেন তাতে মনেহয় একমাত্র এই স্বাধীন দেশে আপনারা ছোট্ট একাংশরা যা বলবেন তাতেই দেশ চলবে। যেহেতু গণতন্ত্রবাদী বাংলাদেশ সেহেতু আপনার পক্ষে যদি আপনি তিন এর একাংশও না দাঁড় করতে পারেন তাহলে বলে রাখা ভালো, আপনার কোন দাবীই মেনে নেয়া হবে না। একথাও বলতে হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো বাঙালীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোন বিদেশী থেমিস দেবীর ভাস্কর্য গড়তে নও।


   [গ] দ্বিতীয়ত, এই মূর্তির(ভাস্কর্য) পক্ষে আপনি গুটিকয় লোক ছাড়া পাবেন না। তাদের পরিমাণ নগন্য,তবুও ধরলাম ১০%। আর বিপক্ষে রয়েছে ৯০%। আপনি আপনার পেজ এ পোস্টের মন্তব্যগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন মূর্তির বিপক্ষে কতজন আর পক্ষে কতজন। প্রফেসর সাহেব, এখন কথা হচ্ছে কোটি কোটির চেয়ে গুটিকয়েক এর মতামত গ্রাহ্য করতে হবে কেন? আপনার অবস্থান থেকে আপনি যতটা নিজকে সঠিক মনে করেন তাঁরাও নিজেদের অবস্থান থেকে নিজেদের সঠিক মনে করেন।

 যেহেতু সরকার গণতান্ত্রিক সেহেতু জনগণের দাবী তাকে মানতেই হবে। এক্ষেত্রে গণতন্ত্র রক্ষায় আওয়ামিলীগকে ধন্যবাদ দেই যে তাঁরা গণমানুষের পক্ষে গিয়ে ভাস্কর্যটি সড়িয়েছেন। আরেকটি কথা না বল্লেই নয়; প্রায় উলঙ্গ এবং জাতীয় ঈদগাহের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় এটা স্থানান্তর করা হয়েছে (একেবারে অপসারণ করা হয়নি)। এখানে মুসলমান সম্প্রদায় এর বছরে ২ বার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মুসলমান কেউ চাইবেনা ঈদের নামাজ পড়ে উঠেই দেবী দর্শন করতে। তৃতীয়ত প্রফেসর সাহেব,আপনি বিভিন্ন দেশের ভাস্কর্যের কথা বলছেন। আমাদের দেশেও ঢের ভাস্কর্য আছে,কেউ সেগুলো নামাতে যায়নি (হেফাজত দাবী করলেও সরকার তাতে কান দেয়নি)। এর মধ্যে নগ্ন ভাস্কর্য ও আছে। দেবী থেমিসের ভাস্কর্য সড়ানোর ইস্যুতে আমি মৃণালের দোষ দেবো। 

   [ঘ] মৃনাল হক টক শোতে যে বক্তব্য রেখেছিলেন তাতে এটি প্রতীয়মান হয় – উনি মার্কিনদের রুচি খেয়াল যতটা বোঝেন বাংলাদেশের রুচি খেয়াল ততটা বোঝেনই না। বাংলাদেশের মানুষরা সম্পূর্ণ অনুভূতিসম্পন্ন কোন বিষয়টি ভালো হবে আর কোনটি মন্দ এসব বুঝার ব্যাপারে। মৃণাল হক বেশ ঔদ্ধত্যের সাথে টিভি টকশোতে বাংলাদেশীদের অশিক্ষিত বলে গালি দিলেন বলে মনে মনে অনেকটা ক্ষোভ ও কষ্ট পেয়েছিলাম। আসলে বিদেশে দুচার কলম পড়াশুনা আর একাধিক ডিগ্রীলাভ করেই সকলে শিক্ষিত হতে পারে না, স্মার্ট হতে পারে না মৃণাল কে টিভি সেট এর সামনে দেখে একথাটিই বারবার আওড়াচ্ছিলাম। শিক্ষিত আর স্মার্ট হতেও আপনাকে কথা বলতে শিখতে হবে। কোন স্থানে কোনটি বলা আপনার জন্য মঙ্গলের সেসব মাথায় রাখা চাই।
চিরাচরিত ভাস্কর্যে সচরাচর বাংলাদেশীরা কেউ কখনো আপত্তি করেনি। ভুঁইফোর কিছু হলে সেটা যদি উদ্ভট বা এমন কিছু প্রতীয়মান হয় যা অমঙ্গলকর তবে প্রতিবাদ অবশ্যম্ভাবী। ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং উইমেন টিচার্স ট্রেনিং কলেজে নগ্ন নারীমূর্তির যে ভাস্কর্যগুলি আছে তা তো আপনি দেখেছেন, তা নিয়ে কোন ঝামেলা হচ্ছে না, ফুলার রোডে, টিএসসিতে, কলাভবনের ইত্যাদির ভাস্কর্য নিয়েও কেউ টু-শব্দটিও করেছে না। কারণ সেখানে সকলেই যেতে পারে না। একমাত্র তাঁরাই ওখানে যেতে পারেন যারা ভাস্কর্য বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। ঐসকল ভাস্কর্যগুলির প্রেক্ষাপট ও কিন্তু গ্রহনযোগ্য হয়েছে। কিন্তু এই যে বিদেশী থেমিস বা বাঙালী নারীর তথাকথিত ভাস্কর্যটি এতটাই বেশি অশ্লীল, দৃষ্টিকটু হয়েছিল যা গনতান্ত্রিক পরিবেশে বল প্রয়োগের মাধ্যমে আরোপ করা একদমই অনুচিৎ।
মৃণাল মূলত আমাদের বাঙ্গালীদের অশিক্ষিত বলে ছোট করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিতেও ফেলেছে। মৃণাল গ্রীক দেবীর মূর্তিকে বিকৃত করেছে এবং বলছেন এটা বাঙ্গালী মেয়ের ছবি। হা হা হা কী একটা ব্যাপার ভাবা যায়!

  [ঙ] আবার যারা আন্দোলনে নেমেছে তাঁরা বলছেন ‘এটা ন্যায়ের প্রতিক(মূলত কুসংস্কার) দেবী থেমিসেরই মূর্তি’। তাহলে আমরা কার কথা শুনবো?

আরেকটা প্রসঙ্গ বাদ দেয়া যায় না কোনমতেই, সেটি হলো দেবী মূর্তির খরচাদির কথা। এই ফাও মূর্তি স্থাপনে বাংলাদেশ অার্থিক ভাবে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো বাংলাদেশ মোড়ে মোড়ে ভাস্কর্য করার মত সম্পদশালী হয়েছে কি?
বিভিন্ন সূত্রমতে শুনতে পেলাম;শুধুমাত্র শাড়ি পড়াতে মৃণাল প্রধান বিচারপতি থেকে খসিয়েছে দেড়কোটি টাকা! মৃণাল এতই নিবেদিতপ্রাণ বিনে পয়সায় তো কাজটা করতে পারলো না।
' বাংলাদেশ ভালোবাসি কিন্তু অর্থ দিয়ে নয় কিংবা বাংলাদেশের জন্য রক্ত ঢেলে দিবো কিন্তু নিজের শরীর থেকে একটা ফোটও না' ব্যাপারটা এরকম হলো না?

  [চ] প্রফেসর সাহেব, সর্বশেষ এই বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছে বাঙ্গালীদের সকল প্রকার দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে, বাঙ্গালীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। ত্রিশলক্ষ বা তার কমবেশি শহীদ ও হয়েছে একমাত্র বাংলাদেশীদের সকল দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্ত করতে। কিন্তু আদৌ আমরা তা পারিনি। আপনি নিজেই কখনো গণমানুষের পক্ষে কথা বলেননি। উপরন্তু বিভিন্ন আধুনিকতার দোহাই দেখিয়ে বাচ্চাদের আষাঢ়ে গল্পের সায়েন্স ফিকশন গিলিয়ে রহমত, করীম মিঞা কে দাঁড় করিয়েছেন অশিক্ষিত বাঙাল হিসেবে আর নায়ক হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ভিনগ্রহের প্রাণী। আপনি এতএত শহীদদের কথা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শ্লোক পড়েন, আপনার কাছ থেকে বাংলাদেশ কয়েক ডজন আষাঢ়ে গল্পের সায়েন্স ফিকশান আর একটা অকেজো ভাঙা উড়তে ব্যর্থ ড্রোন ছাড়া আর কী পেয়েছে?

সংযোজন (৮ই ডিসেম্বর ২০১৮) :
 [ছ] বাঙালীরা এখনো দাস। উচ্চবিত্তদের দাস। সরকারের দাস। কারখানা মালিকের দাস। বাঙালীরা পাক দাসত্ব হতে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় দাসত্ব গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পর বহুতল ভবন নির্মাণ আর না খেতে পেয়ে মানুষগুলোর মৃত্যু অন্তত তাই বলে। গরীবের মাথায় নুন রেখে বড়ই খাওয়ার মত ধনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এখানে। কই আপনিতো গরীবের অধিকার তাদের সম্পদ নিয়ে কিছু লিখলেন না! লিখবেন কেমন করে, আপনি তো গণমানুষের পক্ষেই নয়।
আপনার কলম এবং মিছিল তখনই বের হয়,যখন বিতর্কিত কোন ইস্যু খাড়া হয় (অর্থাৎ নিজেকে বারংবার আলোচনায় আনার সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় না কেউই)। 

গরীবরা কেন না খেয়ে আছে? কেন চিকিৎসার অভাবে শিশুরা/বৃদ্ধরা মারা যাচ্ছে? কেন স্কুল কলেজ ইত্যাদি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য? 
আপনি কখনো ইতিবাচক কোন কলাম লিখেছিলেন মাদ্রাসার ছাত্র নিয়ে? মনে করুন তো।
কেমন করে মন্ত্রী, এমপি, মেয়র প্রতিটা রাজনৈতিক নেতা অতি অল্পতেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে? এ প্রশ্নটি করার মতো সাহস কী আপনার আছে? নেই।
জনগণের ৩ হাজার কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটা কী কোন ফায়দা দিচ্ছে? প্রশ্ন করেছেন সরকার কে? না করেন নি। আপনার সে সাহস নেই। আপনার মতো ভাড়াটে বুদ্ধিজীবিদের যেমন লজ্জা কম, তেমনি সাহস ও কম। আপনি জানেন, প্রশ্ন করলেই বিপদ! আপনার প্রফেসরগীরি ছুটে যাবে। সরকারের ইয়ং ছেলেরা আপনাকে বেইজ্জতি করে ধুতি খুলে নিবে। আপনার বিপক্ষে মিছিল বের করবে। আপনাকে পেটাবে, লাত্থি মারবে পেটে একেবারে! আপনি নিজের এতদিনে করা নামডাক খোয়াতে চান না। 
প্রফেসর! মানুষের অধিকার আর লিগ্যাল দাবী-দাওয়া এসব নিয়ে কলাম ছাপুন, মিছিল বের করুন দেখি আপনাদের মানবতার স্বরূপ। জানি আপনি পারবেন না। কারণ আপনি অসৎ!

আমার সম্বন্ধে কে কী ভাবে?



১.

মহাকবি মিরাজুল ইসলাম এর কাব্যিক খিস্তি

.

হয়ত আমি অনেক বড় নই,

আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে কি ই বা দেখেছি,

এখনো অনেক কিছু দেখার বাকি আছে,

এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে,

কিন্তু আমি ছোটো হলেও অভিজ্ঞতা কিন্তু অতো ও কম নয়,

আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি,

আমি বোকাচোদা দেখি নাই,

সজল রে দেখছি,

হালার মত আবুল আমি আমার জন্মে দেহি নাই,

আবুলে নিজেরে অনেক বড় মহাকবি ভাবে,

হা হা হা,

আতেল নামক অশ্লীল কবিতা ছাড়া তো আর ওর মাথায় কিছু আহে না,

ওর কবিতার মধ্যে পাওয়া যায় ওর নিম্ন মানসিকতা,

আবার নিজেরে মহাকবি ভাবন চোদায়,

কিন্তু ওই সমস্ত কবি তো আমি সুদি না

- মিরাজুল ইসলাম

২.

সজল

সারা গায়ে সাঁইত্রিশ কেজি ওজন।

ভাবে যেন হয়ে গেলো বালছাল হরিদাস পাল;

মাথায় হাত দিয়া দেখে টাকে নাই বাল।

- নুরুল-আমিন

৩.

আমি তাকে চিনি বিগত দুবছর

ভাবে তিনি অনেক বড় কোন কো-বি

অথচ অশ্লীলতা ছাড়া পানসে সবই।

তবুও তাকে ভালোলাগে

কেন জানিনা ;

সমালোচকরা বলে আতেল তিনি

আমি ওসব মানিনা।

-শুভ্রত

৪.

প্রিয় বন্ধু আমার সজল

আছো তুমি বেশ চঞ্চল...

বন্ধু তুমি অনেক ভালো

তুমি থাকলে ফিরে পাই আলো;

পরিচয় আমাদের অল্প দিনের

মনে স্থান করেছে আপন জনের....

সখা ডাকলে করো রাগ ..!!

তখন তোমায় দেখি বাঘ....

আদর করে ডাকি দোস্ত....

কবে খাওয়াবে আমায় পোস্ত?

- শিপলু খান

৫.

২২শে জুন

মহান মানবের জন্মদিন।

তার কাছে রহিয়াছে পৃথিবীর ঋন

শুভ শুভ শুভদিন

আজকে মোদের শুভদিন,

আজকে আমাদের শুভদিন,

সজল আহমেদের জন্মদিন।

- শাহাদৎ এমএস হোসাইন

৬.

আমি ছাগল দেখেছি সজল দেখিনি

- রকিবুল হাসান শিহান

৭.

সজল আহমেদ। এ তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি আতেল কবিসভায়। ফেসবুকে ওনাকে একবছর যাবৎ আমি ফলো করি। এবং ইদানিং ওনার বেশ আতেল পাঠক ও জন্মিয়েছে। আতেলদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ক্রমশ। প্রায় ১৫০-২০০ লোক ওনার কবিতা পড়ে ফেসবুকে। এমনকি ইন্টারনেট এর বাংলা পোর্টালে তাঁর আতেল মার্কা কবিতার ভাইরাসের মতো ছড়াছড়ি! ইস্টিশন ব্লগেও ওর একটি প্রোফাইল আমার দৃষ্টিতে পরেছে সাথে বেশ কিছু কবিতা।

  একেও আমার ব্রাত্য রাইসুর ভাব শিষ্য মনেহয়। এর কবিতার ও প্রধান উপজীব্য অশ্লীল এবং হাস্যকর বাক্য। নিজে এখনো লেখা না শিখলেও ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বড়ো মাপের লেখকদের সমালোচনা করেন। 'রবীন্দ্র সমালোচনা' লিখে সার্চ করলে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ওর বিদ্বেষপূর্ণ পোস্ট নজরে আসবে।

- নি.পুঅশ্লীলতা সাহিত্য নও। পরাপর খিস্তি সাঁজিয়ে রাখলেই পোয়েট্রি হয়ে যায়না। ওর দৌড় বড়জোড় ক্ষাণিকটা। পাঠকদের ছিঃ ছিঃ পেয়ে কবিতা লিখেই বা কি হবে? পুষ্পিতার সাথে ওর কোন শত্রুতা নেই। পুষ্পিতা কবিতা ভালোবাসে মনেপ্রাণে আর কবিদের শ্রদ্ধা করতে জানে। তবে তোমাকে কবি হতে হবে। অ-কবি বা আগাছা কবি হলে ঝুটের পাত্রে বাস করতে হবে।

- নি.পু৮.

ভুল কি আমি জানিনা

সজল মহাকবি মানিনা

প্রিয় এ পিথিবীর বুকে আমি কবি দেখেছি অনেক

জীবনান্দ বুকোওস্কি সবে যদি হয় মহাকবি

তবে সজল কেমনে দাবী করে নিজেকে আজ অবধি?

এ কেমন বিচার?

এ কেমন পিথিবীর নিয়ম?

চটি লিখে যদি কবিতা রচনা করা যেতো

তাহলে তাকে কি বলব মহাকবি হাফিজ বসতি তার আফগান।

- সজিদ রহমান

ছোটছোট মন্তব্যে যাহারা আমাকে আর আমার কবিতা আশির্বাদ করলেন

চটিরাজ সাম্প্রদায়িক সজল আহমেদ এর প্রতি ঘৃণা জানাই। ওকে বর্জন করা হোক। আগাছারা বনে সুন্দর।

- মাহবুব সাইদ

Saifur Rahman Kayes

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমানের জন্য এদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।তার প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে নিজেরাই বাতিল মালে পরিণত হয়েছে।

রাধারাণী রাই

এদের কিভাবে কবি হিসেবে গণ্য করা হয় আমি বুঝতে পারছি না। এমন কবিতা তো প্রকাশ করাই উচিত নয়।

তবে দিদিভাই এটুকু বলতে পারবো এক হাতে ৫টা আঙ্গুল থাকলেও সবগুলো সমান হয় না একেকটা একেক সাইজের। বাংলাদেশের তথাকথিত কবি নামক ধর্ষক গুলোকে দিয়ে সম্পূর্ণ বাংলা আর বাঙ্গালিকে বিচার করবেন না।

Shamsuddin Hira

রসময়গুপ্ত চটি সাহিত্যিক আর উনারা হলেন চটিকবি।

Palit Sankar

এইসব কবিদের কবিতা শিশুমনে গভীর দাগ কাটবেই।ফলে অল্পদিনেই তারা ধরষণে আবেগ তাড়িত হবেই।তাই বাংলা একাডেমীর উচিত এগুলো নিষিদ্ধ করা। বাজার থেকে এসব চটি মারকা চটি কবিতার বই বিক্রী বিতরন মূদ্রন এক্কেবারেই বন্ধ করে দেওয়াই আমাদের কাম্য।

Farjana Ahmed

BANGLADESH a agular Vail nai... Ami Bangladeshi hoye o jantam na ader motho pagol sagol o amader deshe ase..thanks apnake for your sharing .

Nasreen Akhter

এরা আমার দেশের নাগরিক হতে পারে না। নর্দমার কীট বললেও সে কীটের প্রতি অবিচার হবে। আমি সিওর এই সবকটা সাইকোসেক্সসুয়াল ডিসঅর্ডারে ভুগছে।

এগুলোর আসল ট্রিটমেন্ট জরুরী আর তা হলো শুধু উপর্যুপরি জুতাপেটা।

বিদ্যুৎ বিশ্বাস

এগুলো কি কবিতা?

বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। দুখ পাচ্ছি এই লেখা দেখে।এসব লিখে কি করে এরা কবি হয়?এসব কবিদের অশ্রাব্য গালি গালাজ ময়, বিকৃত কাম তাড়িত লেখার উপর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান আছে কি? থাকলে তাদেরই বা কাজ কি?নাকি তারা ও আধুনিক কবিতার নামে এই চটি কবিতায় যৌন্সুখে মত্ত হয়ে অনুমোদন দেয়।

এসব কবিতা কি তাদের (কবি নয় ছাগলদের) বাবা মা ভাই বোনেরা পড়ে?তাদের কৈশোর উত্তীর্ণ ছেলে মেয়েরা পড়ে?

তাদের প্রিয় বাবা মা ভাই বোনেরা সন্তানেরা কি এইসব কবিতা পড়ে গরভবতি হয়?

Ami Nul

এইসব কবিতা? ছিঃ ছিঃ! এসব দেখার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়! রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এমন 'সোনার বাংলা'র ছবি দেখেননি।

এইসব কবিদের মুখে একদলা থুতু ছিটাতে ইচ্ছে করছে!!

তৃষিত হিয়া

এসব বিকৃত ও অসুস্থ শিল্প আমাদের খাদ্য নয়। সুস্থ মস্তিষ্কজাত কোনো ব্যাক্তিরই নয়। যারা এগুলোর পূজা করে থাকে তারা নিঃসন্দেহে বিকৃত মানসিকতার অধিকারী।



মজিদ এ মোহাম্মদ

অবিকল মানু‌ষের অবয়বে মানুষের মাঝেই লুকিয়ে থাকা মানুষের চেহারায় কিছু "অমানুষ" বৈ তো নয়!! আর কবি সেতো এক সাধনার বিষয়।

এদেরকে ঘৃনা জানাতে ও ঘৃনা হয়, মানুষের চেহারার এসব অমানুষ দের।

শুধু বলি

আবার তোরা মানুষ হ।



Aslam Ibn Layek

মারজুক রাসেলের ফেসবুক আই,ডি তে আমি একদিন ঢুকে ঘন্টাখানেক ছিলাম। পরে না-পাক অবস্থায় বের হয়ে এসে গোসল করা লেগেছিল। কিন্তু তিনি যখন গীতিকবিতা লেখেন তখন ভাষা স্বাভাবিক।

এই তিন ছাগল (রাইসু, সজল, জামিল) এগুলো কবিতা বলে, কবি ও কবিতার অসম্মান করেছে।

আপনিও এদের আধুনিক কবি (যদি সেটা ব্যাঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার না করে থাকেন) বলে আপনাকে ছোট করেছেন।

Nilanjona Puspita

যারা বলছেন এদের ভাল কবিতা ও রয়েছে: হ্যাঁ ভাল কবিতা কবি সায়্যিদ জামিল এবং কবি সজল আহমেদ উভয়েরই রয়েছে। তবে এদের দু'জনারই ভাল কবিতার চেয়ে অশ্লীল কবিতার পরিমান বেশি। এদের আরো সচেতন হওয়া উচিৎ এবং কবিতায় অশ্লীল ''শব্দ'' প্রয়োগ করা উচিৎ নয়। ভবিষ্যতে এরা কবিতায় অশ্লীল শব্দ এবং খিস্তি পরিহার করবেন বলে আশা রাখছি।

বিঃদ্রঃ কবি ব্রাত্য রাইসু এর কবিতা আমার কখনো কবিতা মনে হয়নি। এতে না ছিল কোন ছন্দ না হয় কোন কবিতা। কবিতা মানে লাইন বাই লাইন খিস্তি সাঁজিয়ে রাখা নয়। কবিতা একজন কবি এর আবেগ।

জি.এম. সুমন সরকার

এদের নামের অাগেকবি বসানো ঠিক হইনি,

ছিঃ ভমি অাসছে..

অনেকে অাবার বলতে পারেন সাহিত্যে কোন অশ্লিলতা নাই,

তবে এমন লেখা বর্জন করাই শ্রেয়

সাংবাদিকদের জবাবদিহিতা কেন দরকার?


সময়টা ২০১৭ এর ১২ ই অক্টোবর। এক জুনিয়র সাংবাদিককে চড় মেরেছিলো এক পুলিশ কর্মকর্তা। প্রত্যেকটা টিভি চ্যানেল প্লাস পত্রিকা সেটাকে হাইলাইট করে যার দরুন কোন ঘটনার সঠিক কোন বিশ্লেষন ছাড়াই চাকুরী চলে যায় ঐ পুলিশ কর্মকর্তার।
মানুষ কোন কথাই বলেনি এ নিয়ে, বরংচ পুলিশ কর্মকর্তার ঘাড় মটকে খাওয়ার যোগাড়! এই ঘটনার পেছনে যে সাংবাদিকের ও কোন ত্রুটি থাকতে পারে সে বিষয়ে কোন কথাই হয়নি। কারণ সে সময় পুলিশের কিছু অমানবিক, বেআইনি খামখেয়ালি কর্মকাণ্ডের দরুন পুলিশ মানুষের কাছে শত্রুতে পরিণত হয়েছিলো। অপরদিকে সাংবাদিক সাহেবরা সেসময় দেবতার অবতার স্বরূপ বাঙলাদেশে বসবাস করতেছেন। কী তাঁর দোষ কী সে করলো সে বিষয়ে কোন কথা নেই। এক তরফা ভাবে পুলিশকেই দায়ী করলো। এর প্রতিবাদে এই লেখাটা আমি লিখেছিলাম।
লেখাটি আমি সকল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে না লিখলেও অধিকাংশকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলাম।
পুলিশ সরকারী চাকুরী করে দেইখা বাধ্যগত ঠিকাআছে। “পুলিশ যদি অন্যায় করে সেইটার জবাব তাগো দিতে হবে” এটা যৌক্তিক এবং এর সাথে কারো মতবিরোধ নাই বলে আমি মনেকরি । কাজেই পুলিশ আর সাংবাদিকের মধ্যে লড়াই হলে জবাবদিহিতা আগে পুলিশের করতে হবে। তাই বইলা সাংবাদিকরা তেলের বাটির মতো তেল তেলায়া পার পেয়ে যাবে সেইটা অযৌক্তিক এবং খামখেয়ালি দাবী। সমাজে তাগোর গুরুত্ব দেখায়া বাঁইচা যাবে তা হবে না তা হবে না। সাংবাদিকরা সমাজে তাদের “সততার / নির্ভীকতার” আলাদা একটা ইমেজ তৈয়ার করছে, কাজেই সাংবাদিক নাম বা সাংবাদিকতা পেশার নাম শুনলেই জনমনে একটা ভক্তির উদ্রেক হয়। তবে ভাবা উচিৎ, সাংবাদিকরা যেই ইমেজ নিজেরা সোসাইটিতে ক্রিয়েট করছেন সেই ইমেজের তাঁরা নাও হইতে পারে। সাংবাদিক মানেই সৎ হবে, সাংবাদিক মানেই নির্ভীক হবে এমন না। এর বৈপরীত্য ও তাগো মাঝে থাকতে পারে। অন্ততপক্ষে উপজেলা পর্যাযে যাঁরা সাংবাদিকতা করে তাঁরা যারপরনাই ভীত এবং দলকানা টাইপের হয়। উপজেলা প্রেসের সাংবাদিকদের সভাপতি হিসাবে যাদের নির্বাচন করা হয় খোঁজ নিয়া জানা যাবে তেনারা সরকারী দলের সাথে সম্পৃক্ত। তাঁরা কিভাবে ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন তা উপজেলা পর্যায়ে আসলে বোঝা যাবে। এমনকি উঁচু পর্যায়ের সাংবাদিকরাও নিয়ন্ত্রিত হন। কাজেই দলকানা সাংবাদিক মাত্রই যে সততার অবতার এই ধারনাটা বাতুলতা বৈ কিছু না। আমরা আমাদের ভাবনায় সাংবাদিকদের বর্তমানে এলিট পর্যায়ের মানুষ ভাবা শুরু করছি, মানে সাংবাদিকদের অনেক উচ্চাসনে বসাইছি। কাজেই সাংবাদিকদের সাথে কারো ঝামেলারে আমরা সাধারণ পর্যায়ে দেখি না অন্যভাবে দেখি। অন্যভাবে দেখা অবশ্য ঠিকআছে। যেহেতু বর্তমানে আমরা সংবাদপত্র নির্ভর, কাজেই এইসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ আমাদের কাছে সাধারণত একটু বেশিই গুরুত্ব পায়। এই গুরুত্বকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে তাঁরা আমাদের মন মগজে কী ঢোকাচ্ছে সেই প্রশ্নটা কেউ তাদের করে না! হাতের কাছে ক্যামেরা পাইয়া তেনার কিভাবে ক্যামেরা সন্ত্রাস হয়ে ওঠে পতিতালয়ে প্রবেশ করা সাংবাদিকদের রিপোর্টগুলো সাক্ষী হিসাবে আছে। একটা ক্যামেরা দ্বারা সোসাইটিরে নিজেদের খেয়াল মতো নিয়ন্ত্রণ করতে চান, এবং অপরাধেরর চিত্র তুইলা ধরতে গিয়া তাঁরা মানুষের অধিকারে, গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করেন! একটা সিম্পল ফ্যাক্টরে তিল থেকে তাল বানানো একজন সাংবাদিকের বাম হাতের খেল মাত্র। সবার মূলে তাদের ঐ ক্যামেরাপণা। হাতে একটা ক্যামেরা হইলেই সাংবাদিক সাব নিজেরে অনেক কিছু মনে করতে থাকেন। পুরা পৃথিবী উল্টায়ে ফেলবেন আরকি! এরপর আসল তথ্যের পাশাপাশি মিথ্যে খবরকেও আসল খবরে পরিণত করার গুণটা তাদের রয়েছে বেশ! সাংবাদিকরা অপরাধ হিসাবে সেটাকেই গণ্য করেন, যেটা রাষ্ট্র কর্তৃক অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। এতে যদি একজন প্রলেতারিয়াত তাঁর দাবী আদায়ে রাস্তায় নামে সেটিকেও তিনি এমন ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের বিদ্রোহ হিসাবেও উপস্থাপন করতে পারেন যা সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে বাধ্য! একজন সাংবাদিক মিডিয়ার নীতিমালার উর্ধ্বে উঠে সংবাদ উপস্থাপন করতে পারে না? সরকারের কোন অপরাধ তাঁর ক্যামেরায় ধরা পরে না এমনকি কোন জাতী যদি ক্যাপিটালিস্টদের হাত থেকে বাঁচতে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে তো তাদের কে সন্ত্রাসী হিসাবে দেখাতে মিডিয়া বা তাঁর তৈরী করা সাংবাদিকদের বাঁধে না।
সাংবাদিকরা যে সমস্ত নীতিমালা বেশ মেনে চলে তাঁর একটা লিস্ট করা যায়।
১) উপজেলা বা গ্রাম পর্যায়ের সাংবাদিকরা মোড়লদের(এমপি, মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বর, প্রসিদ্ধ ব্যক্তি প্রমুখ) বিরুদ্ধে লিখতে পারেন না বা লেখেন না।
২) জেলা বা বিভাগ পর্যায়ের সাংবাদিকরা মেয়র, মন্ত্রী এবং ধনীদের নিয়ে লেখেন না বা লিখতে পারেন না।
৩) ক্যাপিটাল পর্যায়ের সাংবাদিকরা দুএকজন মাথাওয়ালার বিপক্ষে লিখলেও সরকার কিংবা ক্যাপিটালিস্টদের বিপক্ষে তাদের কলম চলে না।
৪) আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাংবাদিকরা আম্রিকা, ইসরাইল, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি ইম্পেয়ারালিস্টদের বিপক্ষে লিখতে পারেন না বা লিখেন না।
কেননা এদের নির্ভর করেই সাংবাদিকরা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকে। যাদের বিরুদ্ধে তাঁরা লিখতে জানেন না বা লিখেন না, প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই এইসব নিউজ এজেন্সি এবং তাদের কর্মকর্তাদের পরিচালনা করে। প্রশ্ন হচ্ছে একজন সাংবাদিক কয়টাকা বেতন পায়? কিন্তু এত কম কামাই সত্ত্বেও একজন সাংবাদিক কিভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয় সে প্রশ্ন করেছেন কী? আমি এমন ও সংবাদকর্মীর কথা জানি যাঁরা কিনা প্রকাশ্যে ঘুষ খায়। এবং যাঁর পক্ষ থেকে ঘুষ পেয়েছে তাঁর সম্বন্ধে বেশ সুস্বাদু খবর তৈয়ার করেছে।
কাজেই শুধু যে পুলিশের জবাবদিহিতা করতে হবে তা ও না। আইনের সম্মুখীন হলে “মূল ঘটনা” বিশ্লেষন করে “কার কতটা দোষ” সেটা জানার আগেই একজন পুলিশ কর্মকর্তারে বরখাস্ত ও মানা যাবে না। সাংবাদিকরা তাগো “ক্যামেরা ক্ষমতার ” অপব্যবহার করে এটা জেনে আগেই পদক্ষেপ নেয়া পুলিশ অফিসাররে বরখাস্ত মানে তাঁর প্রতি রাষ্ট্রের অবিচার বৈ কিছু নয়।

বাচ্চাকে কেন গোপাল ভাঁড় দেখতে দিবেন না?



জাতীতে আমাদের যেমন বাংলাদেশী ভারতী কিংবা হিন্দু মুসলমান ভাগ রয়েছে তেমনই ভাগ রয়েছে আমাদের ইতিহাসে।আর মানুষের ইতিহাসের দরকার রয়েছে ঐতিহাসিক গোলাম আহমেদ মোর্তজার মতে,মানুষই একমাত্র প্রাণী যাদের ইতিহাসের দরকার হয়।তবে এই দরকারি ইতিহাস পাল্টে যায়,জাতী ভেদে পাল্টায় আবার কিছু কুচক্রির হাতে পরে,সময়ে পাল্টায় অসময়ে ও পাল্টায়।
আবার ইতিহাস না বদলেও তৈরী হয় মানুষের মাঝে বিভক্তি।আমাদের কাছে যারা হিরো হয়তবা তেনাদের কাছে তাঁরা হচ্ছে কাপুরুষ বা বেঈমান। আবার আমাদের কাছে যারা কাপুরুষ, সুযোগবাদী তাদের কাছে তাঁরা সুপুরুষ ।
তখন কেমন হবে যখন আমাদের কাছে তাদের হিরো তথা আমাদের নিকট মীরজাফর জগৎশেঠদের চরিত্রের লোকদের আমাদের কাছে হিরোরুপে উপস্থাপন করা হবে? আর আমাদের বাচ্চারাও তাদের হিরোরুপে দেখা শুরু করবে?
ধরুন গজনীর সুলতান মাহমুদ। আমাদের দেশে সুলতান মাহমুদকে দুই রুপে আমরা দেখি।"ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি " এই পাঠ্যবই তে আমরা সুলতান মাহমুদ কে বীর হিসেবে দেখি আবার কলকাতার পাঠ্য "ইতিহাসের" বই তে চিনি একজন সনামধন্য "লুটেরা" হিসেবে।
হ্যা ইতিহাস এমনই।আমাদের হিরো তো ওনাদের কাছে ভিলেন আবার ওনাদের হিরো তো আমাদের ভিলেন।
তাই আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোৎঅনুরোধ দয়াকরে আপনার বাচ্চাকে কখনোই গোপাল ভাঁড় দেখতে দিয়েন না।
এতদিন ধরে আমি "সনি আট" চ্যানেলটির গোপাল ভাঁড় কার্টুনটির প্রায় ৩৫৪ টি পর্ব দেখেছি।শুধুমাত্র যে এই ৩৫৪টি পর্বে বিনোদনই নিয়েছি তা কিন্তু নয়,সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা নিয়েছি কিভাবে ভারতীয় চ্যানেল সনি আট বিকৃত ইতিহাস বাচ্চাদের শিখায়।আপনি ভাবতেও পারবেননা কিভাবে বাচ্চাদের মনে আমাদের ইতিহাসের বিকৃতিরুপ ঢোকানো হয়।

কেন গোপাল ভাঁড় বাচ্চারা দেখবেনা?
গোপাল ভাঁড়ে মাঝে মাঝেই আমরা "নবাব" কে দেখতে পাই,যিনি সব সময়ই কৃষ্ণচন্দ্রের গোপাল ভাঁড়ের কাছে জব্দ হচ্ছেন। কৃষ্ণচন্দ্র কে তিনি সিংহাসনচ্যুত করতে চান, ইত্যাদি ইত্যাদি।

১.আপনি জানেন ঐ নবাব কে?
যদি না জানেন তাহলে আমার এই তথ্য আপনাকে আশ্চর্য করবে! ভাবতে থাকুন নবাব টা কে! হ্যাঁ ঐ নবাব মূলত বাংলার নবাব " নবাব সিরাজউদদৌলা"। অ্যানিমেটেড সিরিজটিতে নবাবকে অন্যকোথার নবাব বা নবাব আলীর্বাদী খা হিসেবে বোঝাবে বোঝাতে চায় কিন্তু আসলে এই নবাবই হচ্ছেন আমাদের নবাব "সিরাজউদদৌলা"।অনেকে বলবেন উনি দিল্লির নবাব কিন্তু ইতিহাস বলে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নবাব সিরাজউদদৌলার সময়কার রাজা এবং উনি শত্রু ভাবতেন একমাত্র নবাব সিরাজউদদ্দৌলাকেই।আর কৃষ্ণচন্দ্র হলেন নদীয়ার রাজা যে রাজ্যটি ছিলো নবাব সিরাজউদদৌলার আয়ত্ত্বে।

২.বিকৃত ও সঠিক ইতিহাসে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও নবাবের চরিত্র
২.১
মিথ্যে ঐতিহাসিক ঘটনা
উল্লেখ্য,আমরা গোপাল ভাঁড়ের পর্বগুলোতে দেখতে পাই, "কৃষ্ণচন্দ্রর খুবই সৎ নিষ্ঠাবান,দেশ প্রেমিক,প্রজাপ্রেমিক লোক গোপাল ভাঁড় সহ তার আরো বেশ কিছু রত্নসম লোক আছে।এর মধ্যে গোপাল ভাঁড়ই বেশি বুদ্ধিমান,দেশপ্রেমিক,গরীবের বন্ধু যিনি সব রকমের বিপদ থেকে রাজাকে বাঁচান। নবাব বারবার কৃষ্ণচন্দ্র কে জব্দ করতে চায় এবং গোপাল বুদ্ধি দিয়ে তাকে বাঁচান।নবাবের আরেকটা খারাপ দিক তিনি ইংরেজ তোষণ করে থাকেন।বাংলায় নবাব সর্বপ্রথম ইংরেজদের স্থান দিয়ে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখছে অথবা দেখা যায় কৃষ্ণ চন্দ্র ইংরেজদের তোষণ করেন না।তিনি তোষামোদ করলেও গোপাল ইংরেজদের তাড়িয়ে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
২.২
গোপাল ভাঁড় বলে ইতিহাসে কেউ নেইঃ
আমরা মনে করি গোপাল ভাঁড় সত্যিই ছিলেন যিনি দুষ্টের দমন করতেন,বিখ্যাত হাস্যরসিক ও ভাঁড়, যিনি হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে অন্যদের আনন্দ দিতেন ইত্যাদি। আসল বা সঠিক হচ্ছে এর বিপরীত। গোপাল ভাঁড় নামক কারো অস্তিস্ত কখনোই ছিলোনা।এই চরিত্রটি মূলত কাল্পনিক।
গোপাল ভাঁড় নামে কেউ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সময় নির্দিষ্ট করে ছিলেন না। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্ব সম্পর্কে ইতিহাসে প্রচুর তথ্য পাওয়া গেলেও তার কোথাও উল্লেখ নেই যে, তাঁর সভায় গোপাল নামে একজন ভাঁড় ছিলেন।(বাংলা পিডিয়া)তবে কোনো না কোনো বিদূষক রাজার প্রিয়পাত্র হন,সে বুদ্ধিমান হলেও হাস্যরসিক ছিলেন না। তবে সে যে গোপাল ভাঁড় তার কোন ইতিহাস কোন গ্রন্থে লেখিত নেই। গোপালের জন্ম কত বঙ্গাব্দে বা খ্রীষ্টাব্দে তার কোন নথিপত্র ইতিহাস দূরে থাক পুঁথিপত্রে ও তা কোথাও লেখা নেই,এমনকি বটতলার সাহিত্যেও না। তার জন্মস্থানের পক্ষেও কোনো নথি নেই, কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা হিসেবে তার সম্পত্তির কিংবা জায়গা-জমির কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি কোথাও।উনিশ শতকের প্রথম দিককার "বটতলার সাহিত্যে" গোপাল ভাঁড়ের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।গোপাল ভাঁড়ের বংশ পরিচয় পাওয়া যায় নগেন্দ্রনাথ এর বই "নবদ্বীপ কাহিনি" থেকে। তবে তা সূত্রহীন এবং অবিশ্বাস্য কেননা ঐ বইটায় নবদ্বীপ নিয়ে কিছু রূপকথার গল্পটল্প ও আছে। আশ্চর্যের বিষয় বইটির লেখক "গোপাল" চরিত্রে রহস্য রাখতে ঐ গ্রন্থে ভাঁড় গোপালের বাবার নাম জানালেও তার মা ও স্ত্রী সম্পর্কে কিছুই লিখেননি। নগেন্দ্রনাথ দাসের মতে গোপালের পদবী ছিল 'নাই'। তার মতে, মহারাজ তাকে হাস্যার্ণব উপাধী দান করেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও ভাষাবিদ সুকুমার সেন বলেছেন ‘গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে আধুনিক বাঙালির কৌতুহল থাকার ফলে বাস্তব অথবা কল্পিত ব্যক্তিটির সম্পর্কে যে জনশ্রুতি জাতীয় ঐতিহ্য গজিয়ে উঠেছে ও উঠছে তার বীজ হচ্ছে ভাঁড় নামের অংশটি, গোপাল ভাঁড়ের ভাঁড়টুকু সংস্কৃত শব্দ ভাণ্ডারের ‘ভাণ্ড’-জাত মনে করে অনেক গোপালের জাতি নির্ণয় করেছেন'।
গোপাল ভাঁড় সম্বন্ধে বাংলাপিডিয়ার বক্তব্য হচ্ছে,

"গোপাল ভাঁড়ের কোনো ঐতিহাসিক স্বীকৃতি নেই। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্ব সম্পর্কে ইতিহাসে প্রচুর তথ্য পাওয়া গেলেও তার কোথাও উল্লেখ নেই যে, তাঁর সভায় গোপাল নামে একজন ভাঁড় ছিলেন।
উনিশ শতকের প্রথম দিককার বটতলার সাহিত্যে গোপাল ভাঁড়ের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। বাংলার ইতিহাস, এমনকি পৃথিবীর ইতিহাসেও, অল্প হলেও দেখা যায় সমষ্টিগতভাবে জনগণের উপস্থিত বুদ্ধি ও জ্ঞান কোনো একজন অতীত লোকের নামে প্রচলিত হয় এবং কালক্রমে তিনি জনগণের মধ্যে হিরো হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। গোপাল ভাঁড় হয়ত এমনি এক কাল্পনিক ব্যক্তিত্ব।"

মূলত এই বুদ্ধিমান প্রাণী বিশেষটি মোল্লা নাসির উদ্দিন এবং বীরবল চরিত্র দুটো কে কাউন্টার করতে তৈরী করা।
২.৩
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র(১৭১০-৮৩)
আমরা গোপাল ভাঁড়ে নিশ্চই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে চিনি যিনি খুবই সৎ নিষ্ঠাবান,শিক্ষিত,দেশ প্রেমিক,প্রজাপ্রেমিক লোক। হ্যা একথা সত্য যে, তিনি শিক্ষিত লোক ছিলেনমোট ৩ টি ভাষা সহ সঙ্গীত ও অস্ত্রবিদ্যায় ও তিনি পারদর্শী ছিলেন।তিনি ছিলেন রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন কূটকৌশলী ব্যক্তি।এসব গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন ইংরেজ প্রেমিক রাজা। রাজা কৃষ্ঞচন্দ্রের আমলেই মূলত বাংলায় ইংরেজরা ঢোকেন।যাকে নবাব সিংহাসনে বসিয়েছিলেন।এবং ১৭৫৭ সালে যখন ইংরেজ সাহেবদের কাছে বাংলার নবাব সিরাজউদদৌলা পরাজিত ও নিহত হলেন তখন নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং কোলকাতার রাজা নবকৃষ্ঞদেব সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন।উল্লেখ্য যে, রবার্ট ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধ ময়দানে যাওয়ার সময় কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের প্রাসাদে রাত যাপন করেছিলো।তারা কোম্পানির জয় কে হিন্দুদের জয় মনে করতেন।আরো উল্লেখ্য যে,নবাব হেরেছেন আর কোম্পানি জিতেছেন এই খুশিতে সেই ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন এর পরপরই নবকৃষ্ঞ চালু করেন দুর্গাপূজা।আর কৃষ্ণচন্দ্র চালু করেন জগদ্ধাত্রী পুজা।
বঙ্কিমচন্দ্র কৌতুক করে লিখেছিলেন, দূর্গোপূজোর মন্ত্র ইংরেজীতে পঠিত হইবে।[বাঙ্গালী জীবনে রমনী:নীরদচন্দ্র চৌধুরী,পৃষ্ঠা নং ১৮]
ইংরেজদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের পুরস্কারস্বরূপ কৃষ্ণচন্দ্র ইংরেজ কর্তৃক ‘মহারাজা’ উপাধিতে ভূষিত হন। তদুপরি ক্লাইভের নিকট থেকে উপঢৌকন হিসেবে পান পাঁচটি কামান।(বাংলাপিডিয়া)

[কৃষ্ণচন্দ্র সম্বন্ধে সামান্য তথ্য "এ এক অন্য ইতিহাস গ্রন্থের পৃষ্ঠা নং ৩২ এ দ্রষ্টব্য ]

শেষকথা
আমরা ইতিহাসে মীর জাফর মীর জাফর বা জগৎশেঠ জগৎ শেঠ করে ঘৃণা প্রকাশ করলেও তাদেরই মত একজনকে হিরো রুপে আমাদের শিশুদের কে দেখাই।আবার প্রকৃত ইতিহাসকে লুকিয়ে, আমাদের নায়ক নবাব সিরাজউদদৌলাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই কার্টুন সিরিজে বদ,শয়তান, ইংরেজ তোষণকারী হিসেবে দেখানো হয়, অথচ তিনি ইংরেজদের বিপক্ষে যুদ্ধ করে নবাব প্রাণটাই খোয়ালেন।অপরদিকে ইংরেজদের পা চাটচাটি করা রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কে দেখানো হয় সুপার হিরো হিসেবে!এই সিরিজটায় একেবারে সুক্ষ্ম ভাবে কাল্পনিক গোপাল দ্বারা শিশুর কাছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে হিরোরুপে তুলে ধরা হচ্ছে যা ন্যাক্কার জনক!

আপনি কি চান আপনার বাচ্চা ছোটবেলা থেকেই আপনার আমার হিরো সিরাজউদদৌলার প্রতি তীব্র ঘৃণা নিয়ে বড় হোক?
যদি না চান তাহলে মিথ্যা ইতিহাসের ভিত্তিতে গড়া গোপাল ভাঁড় থেকে তাকে দূরে রাখুন তাকে।
তথ্যসূত্রঃ


উইকিপিডিয়া
বাংলাপিডিয়া
ইতিহাসের

মঙ্গোল শোভাযাত্রা নিয়া মুসলমানরে অপবাদ দিতাছেন আপনে?


এই যে মঙ্গোল শোভাযাত্রা হইবে এইটা নিয়া চুপই ছিলাম চারুকলার বন্ধুগো খাতিরে।এই যে তাঁরা রাক্ষস টাক্ষস নিয়া লাফাইবে তাও তাগো খাতিরে সাম্প্রদায়িকতা ধরিনায় কিন্তু এখন চুপ থাকনতো গেলোনা।মঙ্গোলে গোল করেন না মনা করছে কে আপনাগো? কিন্তু এইটারে শ্রেফ পুরানা বাংগালী সংস্কৃতি বানাইতেই হবে? যান বানান মানা করছে কে? কিন্তু এইটার দোহাই দিয়া আপানে বাংগালী মুসলমানরে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী,বাংলা সংস্কৃতি বিরোধী ইত্যাদি বলনের আপনারা কে?
মঙ্গোল শোভাযাত্রা বাংলাদেশীগো পালনের জিনিস হইলো কবে থেইক্কা? বাংলাদেশীরা প্যাগান সভ্যতা ছাড়ছেন সেই কবে। পূর্ববঙ্গের কোন প্রাচীন ইতিহাসে এর উল্লেখ নাই তবুও এইটা হইয়া গেলো বাংগালীর প্রাচীনতম উৎসব!




বাংগালী মুসলমানদের যেহেতু সাম্প্রদায়িক বলা হইলো সেহেতু সত্য তো বলতেই হয়, 'এই উৎসবে সাম্প্রদায়িকতার ছোঁয়া আছে'!ঐযে রাক্ষস টাক্ষস ঐসব হিন্দুধর্ম থেইক্কা ধার করা হইছে।আর এইটায় সাম্প্রদায়িকতার ছাপ চাক্ষুষ দেখা যাইতেছে সেহেতু এইটারে বড়জোর হিন্দু বহুল পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের উৎসব হিসাবে খাটান যাইতে পারে যেহেতু এইটায় হিন্দুয়ানির ছাপ ১০০% দেখা যায়( যদিও এইটা তাগো আবিষ্কৃত ও না।চারুপীঠ নামের একটি সংগঠনের শামীম আর তাঁর বন্ধুরা সহ ৩০০ শিক্ষার্থী ১৯৮৫ সালে যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষের উৎসবে পাপেট ও মুখোশ নিয়া বাদ্যাটাদ্য বাজায়া মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এরপর ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা চারুকলার শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখের সকালে মঙ্গোল শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসতেছেন।আমি যে সাল হইতে লেখতেছি তার মাত্র ৩২ বছর আগে থেইকা আবিষ্কার হয়।আর নিয়মিত হয় তারও ৪ বছর পর থেইকা ৮৯ সালে)।বৈশাখে পান্তাভাত ইলিশমাছ খাওন রীতির মতো এইটাও হালের নতুন উৎসব।
যদি ধরিই হোলীর মত কইরা এইটারেও পালন করবেন মূর্তি সাজাইয়া "রাক্ষস " কান্ধের উপরে ফালাইয়া প্যাঁপু বাঁশি বাজাইয়া দৌড়াইতে হবে এইটা বাংগালী হিসাবে ফরজ হইয়া দাঁড় করান হইছে, বা সরকার ফরজ করছেন বা উৎসব মানেই করতে হবে বাংগালী হিসাবে ইত্যাদি ইত্যাদি, তাইলে আগেই কইয়া রাখা ভালো এইটা পূর্ববঙ্গে ফরজ করা খাটে না এই উৎসব পশ্চিমবঙ্গের খাটে আমাগো জন্য খালি পহেলা বৈশাখ উৎযাপনই যথেষ্ট।পহেলা বৈশাখের পুরান কোন অনুষ্ঠানে বাংগালী মুসলমান বাগড়া দেয়নায় বা বলেনায় যে এইটা করা যাবেনা। যেই ক্যালেন্ডার দেইখা বৈশাখ উদযাপন করা হয় সেই ক্যালেন্ডারই 'ফতেউল্লাহ সিরাজি' নামের একজন মুসলমান তৈরী করছেন মোঘল সম্রাট আকবরের আমলে।তাই পূর্ব থেইকাই নববর্ষ উদযাপনের লগে মুসলমানরা জড়িত।আসেন বঙ্গাব্দ'র ইতিহাস দেখিঃ

"ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে "বঙ্গাব্দ " বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।
আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া।"[দ্রঃউইকিপিডিয়া]

তো ইতিহাসের নিরিখে এইটারে হাল বৈশাখ কওন যায়।এরপর বিবর্তন হইতে হইতে আজকের এই পান্তা ইলিশে আসছে।আকবরের আমল থেইক্কাই মুসলমান কেউ বৈশাখ উদযাপন নিয়া টু শব্দ করেনায় বরঞ্চ পালন কইরা আসছে, এই নিয়া মুসলমানদের কেউ সংস্কৃতি বিরোধী কইতে পারেনায় কিন্তু হালের কিছু বুদ্ধিজীবি মঙ্গোল শোভা যাত্রার
 বিরোধীতা করায় মুসলমানদের সংস্কৃতি বিরোধী তো বানাইছেনই লগে মৌলবাদী,সাম্প্রদায়িক ইত্যাদিও বানাইছেন!
 কেন মুসলমানরা এর বিরোধীতা করছেন সেইটা জিগানোর পর্যন্ত কোন বুদ্ধিজীবি বাকি রইলোনা!মূর্তি মুসলমান ধর্মবিরোধী আর মঙ্গোল শোভাযাত্রার মূলই হইলো মূর্তি নিয়া লাফালাফি।মূর্তি বিরোধী মুসলমানরা কিভাবে মূর্তি নিয়া লাফালাফি করবেন? তাগো উপরে জোড় কইরা এই নতুন সংস্কৃতি চাপাইয়া দেওয়াও এক প্রকার সাম্প্রদায়িকতা নয় কি?
 সরকারের মন্ত্রী নূর সাহেব জোড় জবরদস্তি কইরা এইটারে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিছেন এইটা কি তিনি ঠিক করছেন?
তার উপর এইটা আবার পূর্ববঙ্গে বসবাসরত সংখ্যাগরিষ্ট মুসলামান বাংগালীগো ধর্ম বিরোধী কাজ আর মূলেও তারা এইটার বিরোধী।



বিডিনিউজ২৪ডটকম শিরোনাম করছে
"দেয়ালচিত্রে পোড়া মবিল: ‘বাঙালির শৈল্পিক অনুভূতিতে আঘাত’
ভাই আপনাগো শৈল্পিক অনুভূতি থাকতে পারে আর মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি থাকবেনা এইটা কেমন কথা?
আর সেই অনুভূতি থেইক্কা তাঁরা এইটার বিরোধীতা করলেই আপনারা ঝাপাইয়া পরবেন এইটা কেমন কথা হইলো? নিজেগো বেলায় ১৬ আনা পরের বেলায় ৪!
আপনারা মাত্র ২৮ বছর আগের উৎসব দিয়া বাংগালী মুসলমানরে ঐতিহ্য সংস্কৃতি বিরোধী বলতে আসছেন অথচ বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর বাংলাভাষাটা রক্ষা করছেনই পূর্ব বঙ্গের মুসলমারা,হিন্দুদের কোন অবদান থাকলেও সেইটা পূর্ববঙ্গের জন্য গোনায় ধরার মত না।এইখানে প্রমাণ স্বরূপ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বইয়ের একটা উদ্বৃতি টাইনা প্রমাণ করতেছি পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্য আর বাংলাভাষা রক্ষায় কাগো অবদানঃ

"সেই অভিবক্ত বাংলার বিধান সভায় নবনির্বাচিত মুসলমানরাই ছিলো খাঁটি বাঙালী।এর আগে রাজনীতিতে আসতেন শুধু বড় বড় জমিদার,উকিল,ব্যারিস্টার বা রায়বাহাদুর খাঁনবাহাদুর।তাদের পোশাক হয় সাহেবী অথবা চাপকান।মুখের ভাষা সব সময় ইংরেজী।কিন্তু গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত মুসলমান প্রতিনিধিরা বিধান পরিষদে নিয়ে এলেন বাংলাভাষা।লুঙ্গির উপরে পাঞ্জাবী পরে আসতেও তাঁদের দ্বিধা নেই।পশ্চিম বাংলার মুসলমানরা তো ধুতি পরে নিয়মিত।তাঁরা তাদের বক্তব্য বাংলায় পেশ করতে লাগলেন।তখন নিয়ম ছিল কোন সদস্য বাংলায় বক্তৃতা করলে তা রেকর্ড তা রেকর্ড করা হোতনা। বক্তব্যের সারাংশ ইংরেজীতে তর্জমা করে দিতে হত।তাই সই।তবু তাঁরা বাংলায় বলবেনই।বাঙালী হিন্দু নেতারা তখন খদ্দেরের ধুতি পাঞ্জাবী ধরেছেন বটে।কিন্তু বক্তৃতার সময় ইংরেজীর ফোয়ারা ছোটান।কে কি বল্লেন সেটা বড় কথা নয়।কে কত জোড়ালো ইংরেজী তুবড়ি ছোটাতে পারেন সেটাই গর্বের বিষয়।হিন্দু নেতাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা ছিল যে,সর্বসমক্ষে বাংলা বললে লোকে যদি ভাবে যে,লোকটা ইংরেজী জানেননা!শিক্ষিত মুসলমানদের বালাই নেই।যাঁরা ভালে বক্তা তাঁরাও ইংরেজী ছেড়ে প্রায়ই শুরু করতেন বাংলায়।স্বয়ং ফজলুল হক ছিলেন শিক্ষা দীক্ষায় অনেকের চেয়েই উঁচুতে,তিনি মাঝে মাঝেই ইংরেজীর বদলে শুধু বাংলা নয় একেবারে খাঁটি বরিশালী বাঙাল ভাষায় কথা বলতেও দ্বীধা করতেন না। [দ্রষ্টব্যঃ পূর্ব-পশ্চিম ১ম খণ্ডের ৯৭ নং পৃষ্ঠায়]"

যেহেতু পূর্ব বঙ্গের ঐতিহ্য এবং বাংলা ভাষাটা বাঁচাইছেন মুসলমানরাই সেহেতু তাগো ১৯৮৫ সালে আবিষ্কৃত মঙ্গোল শোভাযাত্রা দিয়া বাংলা সংস্কৃতি বিরোধী কওনের আগে ইতিহাস অবশ্য পাঠ্য।আর আপনাগো মঙ্গোল শোভাযাত্রা কি মঙ্গলের? বুকে হাত দিয়া বলেন তো মঙ্গোল শোভাযাত্রা মঙ্গলকর কিনা!এই একটা দিনে আপনারা জনগণরে রাস্তা আটকাইয়া কি ভোগান ভোগাইতে পারেন সেইটা সর্বজনবিদিত।
এইবার মঙ্গোল শোভাযাত্রা বাদ দিছে খোদ আওামিলীগই-
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার(এপ্রিল ১৩/২০১৭ ইং) ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জনগণের যাতে ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সেজন্য শোভাযাত্রা বাতিল করা হয়েছে।”[বিডিনিউজ২৪ডটকম ১৩ ই এপ্রিল ২০১৭]
কেন আওয়ামী লীগ পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বাতিল করেছে, তার ব্যাখ্যায় ওবায়দুল কাদের বলছেন, “আমাদের ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত। আমরা চিন্তা করেছি, এ ধরনের শোভাযাত্রায় জনগণের ভোগান্তি হয়। বহুদিন ধরে কোনো ধরনের র্যালি করার পক্ষে আমরা নই।"

“আমাদের নেত্রীর সংবর্ধনার বড় ধরনের আয়োজন… নেত্রী জানালেন, ‘জনগণকে ভোগান্তি দিয়ে আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই’। একই কারণে আমরা শোভাযাত্রাও বাতিল করেছি। আমরা গণভবনে নেত্রীর সঙ্গে বৈশাখী উৎসব পালন করব।… বাইরে মানুষের যেন ভোগান্তি না হয়।”
[দ্রঃঐ]
আপনারা ভোগান তাতেও কোন আপত্তি নাই কিন্তু বাংগালী মুসলমানদের শোভাযাত্রার বিরোধীতা করার কারণে মৌলবাদী,সাম্প্রদায়িক আর ঐতিহ্য বিরোধী কওনের আগে দয়া কইরা ইতিহাস পইড়েন।ইতিহাস একদিন আপনাগোও ক্ষমা করবেনা মিথ্যা অপবাদের দায়ে।

প্রফেসর মুহম্মদ জাফর ইকবালের কলামের জবাব


সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ডটকম এ মৃণালের ভাস্কর্য নিয়ে ছাপা হওয়া জাফর ইকবালের কলামে আমার এই মন্তব্যটি তারা এপ্রুভ করেনি। [জাফর ইকবালের কলাম] আমার মন্তব্যঃ প্রফেসর জাফর ইকবাল কে ধন্যবাদ তাঁর মতামতের জন্য।আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কারণ দেবী থেমিসের ইস্যুতে আমি আপনার সাথে একমত নই।তবে আমি আশ্চর্য হই এই দেখে যে হেফাজতে ইসলামকে আপনি যেই দোষে দোষী করছেন ঠিক সেই দোষেই আপনি বা আন্দোলনকারীরা দুষ্ট।হেফাজতে ইসলাম যেমন সকল কাজে ধর্মকে পুঁজি করছে আপনি বা আন্দোলনকারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করছেন।ধর্মব্যবসার মত মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসা হয় কিনা আমার জানা নেই। প্রথমত,আপনি বারবার ত্রিশলক্ষ শহীদকে টেনে আনছেন এখানে প্রশ্ন থেকেই যায় ‘তাহলে কি শহীদগণ ভাস্কর্য বা বামদের সকল দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ হয়েছেন?’ জনগণের জন্য কি শহীদ হননি তাঁরা? আপনার মত যদি হেফাজত ও শহীদদের পুঁজি করে তখন কি করবেন? আর থেমিসের এই গ্রীক মূর্তিতে একাত্তরের কোন চেতনাটা দেখা যাচ্ছে বুঝিয়ে বলুন।প্রফেসর সাহেব,আপনার লেখাটি পড়ে মনে হলোথেমিস, আর্টেমিস, হেরা, মিনার্ভা আর ভেনাসের মূর্তি বসানোর জন্যই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। দ্বিতীয়ত,এই মূর্তির(ভাস্কর্য) পক্ষে আপনি গুটিকয় লোক ছাড়া পাবেন না।তাদের পরিমাণ নগন্য,তবুও ধরলাম ১০%।আর বিপক্ষে রয়েছে ৯০%।আপনি আপনার পেজ এ পোস্টের মন্তব্যগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন মূর্তির বিপক্ষে কতজন আর পক্ষে কতজন।প্রফেসর সাহেব, এখন কথা হচ্ছে কোটি কোটির চেয়ে গুটিকয়েক এর মতামত গ্রাহ্য করতে হবে কেন? যেহেতু সরকার গণতান্ত্রিক সেহেতু জনগণের দাবী তাকে মানতেই হবে।এক্ষেত্রে গণতন্ত্র রক্ষায় আওয়ামিলীগকে ধন্যবাদ দেই যে তাঁরা গণমানুষের পক্ষে গিয়ে ভাস্কর্যটি সড়িয়েছেন।আরেকটি কথা না বল্লেই নয়; প্রায় উলঙ্গ এবং জাতীয় ঈদগাহের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় এটা স্থানান্তর করা হয়েছে(একেবারে অপসারণ করা হয়নি)।এখানে মুসলমান সম্প্রদায় এর বছরে ২ বার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।মুসলমান কেউ চাইবেনা ঈদের নামাজ পড়ে উঠেই দেবী দর্শন করতে। তৃতীয়ত প্রফেসর সাহেব,আপনি বিভিন্ন দেশের ভাস্কর্যের কথা বলছেন।আমাদের দেশেও ঢের ভাস্কর্য আছে,কেউ সেগুলো নামাতে যায়নি(হেফাজত দাবী করলেও সরকার তাতে কান দেয়নি)।এর মধ্যে নগ্ন ভাস্কর্য ও আছে।দেবী থেমিসের ভাস্কর্য সড়ানোর ইস্যুতে আমি মৃণালের দোষ দেবো।এখানেই ওয়াসীউল রানা সাহেব মন্তব্য করেছেন ওটাই উদ্বৃত করলাম; ‘‘মৃনাল হক সম্প্রতি টক শোতে যে বক্তব্য রাখলেন তাতে প্রতীয়মান হয় – উনি মার্কিন রুচি যতটা বোঝেন বাংলাদেশের রুচি ততটা বোঝেন না। বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট অনুভূতিসম্পন্ন ভাল এবং মন্দ বোঝার ব্যাপারে। মৃণাল হক বেশ ঔদ্ধত্যের সাথে আমাদের অশিক্ষিত বলে গালি দিলেন, মনে কষ্ট পেলাম, মনে পড়ল “বিদ্বান হইলেই সকলে শিক্ষিত হয় না” চিরাচরিত ভাস্কর্যে সচরাচর কেও আপত্তি করে না। ভুঁইফোর কিছু হলে সেটা যদি উদ্ভট প্রতীয়মান হয় তবে প্রতিবাদ অবশ্যম্ভাবী। ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং উওমেন টিচার্স ট্রেনিং কলেজে নগ্ন নারীমূর্তির যে ভাস্কর্যগুলি আছে তা তো আপনি দেখেছেন, তা নিয়ে কোন ঝামেলা হচ্ছে না, ফুলার রোডে, টিএসসিতে, কলাভবনের ভাস্কর্য নিয়েও কথা হচ্ছে না। কারণ সেখানে সকলের গমন বাধ্যতামূলক নয়। উপরন্তু ঐ ভাস্কর্যগুলির প্রেক্ষাপট গ্রহনযোগ্য হয়েছে। কিন্তু এই থেমিস বা বাঙালী নারীর তথাকথিত ভাস্কর্যটি এতটাই বেশী দৃষ্টিকটু ও অসহনীয় হয়েছিল যা গনতান্ত্রিক পরিবেশে বল প্রয়োগের মাধ্যমে আরোপ করা অনুচিৎ।’’ মৃণাল মূলত আমাদের বাঙ্গালীদের ছোট করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিতেও ফেলেছে।মৃণাল গ্রীক দেবীর মূর্তিকে বিকৃত করেছে এবং বলছেন এটা বাঙ্গালী মেয়ের ছবি। আবার যারা আন্দোলনে নেমেছে তাঁরা বলছেন ‘এটা ন্যায়ের প্রতিক(মূলত কুসংস্কার) দেবী থেমিসেরই মূর্তি’।তাহলে আমরা কার কথা শুনবো? আরেকটা প্রসঙ্গ বাদ দেয়া যায়না,সেটা হলো দেবী মূর্তির খরচাদির কথা।এই ফাও মূর্তি স্থাপনে বাংলাদেশ অার্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এখনো বাংলাদেশ মোড়ে মোড়ে ভাস্কর্য করার মত সম্পদশালী হয়েছে কি? বিভিন্ন সূত্রমতে শুনতে পেলাম;শুধুমাত্র শাড়ি পড়াতে মৃণাল প্রধান বিচারপতি থেকে খসিয়েছে দেড়কোটি টাকা!মৃণাল এতই নিবেদিতপ্রাণ বিনে পয়সায় তো কাজটা করতে পারলোনা! প্রফেসর সাহেব,সর্বশেষ।এই বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছে বাঙ্গালীদের সকল প্রকার দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে।কিন্তু আদৌ আমরা তা পারিনি।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পর বহুতল ভবন নির্মান অন্তত তাই বলে।গরীবের মাথায় নুন রেখে বড়ই খাওয়ার মত ধনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।কই আপনিতো গরীবের অধিকার তাদের সম্পদ নিয়ে কিছু লিখেন না।আপনাদের কলম এবং মিছিল তখনই বের হয়,যখন বিতর্কিত কোন ইস্যু খাড়া হয়(অর্থাৎ নিজেকে বারংবার আলোচনায় আনার সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায়না কেউ যদিও আপনার বিষয়টা এখানে আলাদা)।গরীবরা কেন না খেয়ে আছে? কেন চিকিৎসার অভাবে মারা যায়? কেন স্কুল কলেজ ইত্যাদি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য? এসব নিয়ে কলাম ছাপুন মিছিল বের করুন দেখি আপনাদের মানবতার স্বরূপ।

বাঙ্গালী হিন্দু মোসলমান সম্পর্ক ও সাম্প্রদায়িকতা



বাংলাদেশে যাঁরা বিভিন্ন দোহাই দিয়া হিন্দু নির্যাতনরে মুসলমান কমিউনিটির উপরে চাপাইয়া দিতে চায় তাগো দাবী-দুবীতে ঘাপলা আছে। আমি তাগো লগে এক্কেবারে একমত কেন জানি হইতে পারি না!এই দেশে হিন্দু কমিউনিটির উপরে যে অত্যাচার অনাচার হইতাছে তার লগে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে দায়ী হইলো পলিটিকস। হিন্দু নির্যাতনের জন্য পলিটিকসরে তাঁরা দায়ী না কইরা দায়ী করতাছেন মুসলমান কমিউনিটিরে? তাগো দাবী দাওয়ারে শক্ত করতে তাঁরা কিছু প্রশ্ন সাজাইয়া রাখেন। যেমন ধরেন "অ্যাভারেজ মুসলমানরা কেন হিন্দুদের মালাউন বলেন?'' "মুসলমানরা কেন হিন্দু মরলে ফী নারে জাহান্নামা বলেন?'' ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রশ্নগুলার পিছনে তাগো উদ্দেশ্য হইলো, সস্তা জনপ্রিয়তা পাইয়া আলোচনায় আসা, তাগো দুর্বল চিন্তা নতুবা তাঁরা বিদাশে বইয়া হিন্দু-মুসলিম কমিইউনিটির হালচাল না দেইখা হাপিত্তেস করতাছেন। ইন্টালেকচুয়্যাল সাজতে গিয়া তাঁরা ক্লাউন হইয়া যাচ্ছে।
তাঁরা যতই বাঙ্গালী কমিইউনিটি নিয়া বড় বড় বুলি কপচাক না কেন এখনো বাঙ্গালী হিন্দু-মোসলমানের মনের ভিতর ঢুকতে পারেন নাই। বাঙ্গালী মোসলমানের চিন্তা তাগো কাছে এখনো পরিচিত না। আমরা বাংলাদেশে হিন্দু-মোসলমান ভাই হিসাবে আছি। আমি বাঙ্গালী মোসলমান আর বাঙ্গালী হিন্দু আমার ভাই,সো আই লাভ মাই ভাই সো মাচ! একই বাড়িতে দুইটা ভাই থাকলে যেমন একটু গালাগাল ঝগড়াবিবাদ হয় তেমনি কইরা হিন্দু-মুসলমান বাস করতাছি। অ্যাভারেজ মুসলমান হিন্দুদের মালাউন মুখে বলে। মন থিকা, অ্যাভারেজ মুসলমানস না মাইনরিটিরা বলে। ওয়াজ মেহফিলে হইতে পারে এটা। ওয়াজ মেহফিলেও এখন হিন্দুদের নিয়া বিষোদগার হয় না এইটা ইন্ডিয়া না বইলা এইখানে পুলিশি হেফাজতে মেহফিল হয়। "কাফের,মোশরেক'' ইত্যাদি বলা হইতে পারে। একেবারে ডাইরেক্ট মুখে হিন্দু উচ্চারণ কইরা হয় না কইলেই চলে। মোসলমানরা যেমন হিন্দুদের "মালাউন'' মুখে বলে তেমনি হিন্দুরাও মুসলমানদের "শেখের পো'' "ন্যাড়া'' "আগাকাটা'' ইত্যাদি বলেন। এইটা তাঁরা মন থিকা বলে না, কারণ ভোর হইলেই তাঁরা আবার একই কমিইউনিটির মানুষ! তারা তো একই সোসাইটিতে ওঠাবসা করে। বিভিন্ন উপজেলায় তো এখনো একই বাড়িতে হিন্দু মুসলমান থাকে।(বরিশালের, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে এখনো দেখা যাবে)। তবে একই কমিইউনিটিতে থাইকা ক্ষেত্র বিশেষ বাঙ্গালী হিন্দুরা এমন অ্যাক্ট করে যে, মনে হয় মুসলমানরা তাগো গিইলা খাবে ভবিষ্যতে। এইটা তাগো দোষ না। এইটা পলিটিকস এর দোষ। আরো আছে কিছু অল্পে আলোচনায় আসতে চাওয়া অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট গণ লাইক অই সব প্রশ্ন তোলা লোকজন। বাংলাদেশে যতগুলা হিন্দুর বাড়ি পুড়ছে, যতগুলা হিন্দু মারা গেছে সবগুলা ফাসাদ আর হত্যার পেছনে জড়িত পলিটিকস। পলিটিশিয়ানরা হয় রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হিন্দু-মোসলমান ফাসাদের উষ্কানি দিছে নতুবা ক্ষমতার জোড়ে হিন্দুদের বাড়িঘর দখল করছে। বাঙ্গালী মুসলমানরা তো এক হিসাবে হিন্দুদের ভয় পায় যে, এদের উপর অত্যাচার করলে আইনি ভাবে ফাঁইসা যাইতে হবে। এইদিক তাকাইয়াও তাঁরা হিন্দুদের লগে মানাইয়া চলতে শিখছে। বাঙ্গালী মোসলমানরা মনে করে যে, হিন্দুদের প্রচুর টাকা পয়সা আছে। তাঁরা মাটির ভিতরেও লুকাইয়া রাখে টাকা। তাই এগো কাজের সময় এরা টাকা দিয়া মামলা চালাইবে। হিন্দু বাড়িতে আগুন, তাগো জমিজিরাত দখল অথবা হত্যা এর পেছনে পলিটিকাল একটা কালো হাত থাকে। এরা ভোট কামাইতে বিরোধী দলরে ফাঁসাইতে এমন কাজ করে, না হয় হিন্দুদের সম্পদে এর জিহ্বা লকলক করে। নতুবা বাঙ্গালী মুসলমান কর্তৃক সাহস কইরা হিন্দুদের সাথে এসব ঘৃণিত আচরণ করা অসম্ভব। যদিও বা কইরা থাকে তার সংখ্যা নগন্য। এখন আপনি বলবেন, এই নগন্যই বা কেন করতে গেলো? ভাইসাব,এই নগন্যটা করার জন্য দায়ী হইলো ভারতের হিন্দু-মোসলমান প্রেক্ষাপট। আমরা যতই ভারতরে সড়াইতে চাই না কেন,সামান্য হইলেও ভারতের রাজনৈতিক আবহাওয়া আমাগো উপর আসে। সেইটারে ট্যাকল দেওয়ার মুরোদ আমাগো রাজনীতিকদের নাই। এখন প্রেক্ষাপট হিসাব না কইরা আপনে যদি মুসলিম কমিইউনিটিরে গালমন্দ করতে থাকেন তাইলে আপনাগো কাছে আমার প্রশ্ন থাইকা যায় "মোসলমান মোল্লা নামে পরিচিত লোকগুলা যে ইদানিং আক্রমনের স্বীকার হইতাছে তাগো দায় কার?'' আপনি তখন অজুহাত খুঁজবেন। আপনের আমার চিন্তায় পার্থক্যই হইলো এই!
তবে বর্তমানে মাঝেমাঝে যে হিন্দু নির্যাতনের কথা আমরা শুনি সেইগুলার পিছনে কিছু নেংটা ইঁদুর বিদ্যমান। এই নেংটা ইঁদুরগণ ফেসবুক বা ব্লগ থিকা হিন্দু-মুসলমান লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটায়। ফেসবুকে "জয় হিন্দু'' "নয়ন অমুক'' অমুক ব্লগ তমুক ব্লগ ইত্যাদি পেজ/ব্লগের মাধ্যমে এরা প্রতারিত হয়। এঁরা একটা হয় উগ্র মন মানসিকতার মুসলমান অন্যটা হয় ভারতীয় উগ্র হিন্দু সংগঠন কর্তৃক প্রভাবিত(প্রতারিত ও বলা যায়)। অনলাইনে এরা একে অপরের দেবী-পয়গম্বর নিয়া গালিগালাজ করতে করতে ফ্যাসাদের সূত্রপাত ঘটায়। বর্তমানে এইসব সাম্প্রদায়িক ফ্যাসাদের মধ্যে ভারতীয় কয়েকটা সংগঠন আছে বইলা আমি মনে করি। যারা বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের দোহাই দিয়া ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটাইবে। তাদের পায়তারা লক্ষনীয়! আর তাদের এই প্রচেষ্টারে উস্কে দেয় ভারতীয় হাইকমিশন। কোনখানে হিন্দু নির্যাতনের খবর পাইলে বাংলাদেশ সরকার যাওয়ার আগে এরা গিয়া হাজির হয়। আমি আশ্চর্য হই যে, কোন মুসলমানের এইরকম বিপদে ভারতীয় হাই কমিশন যান না! বোধকরি তেনারা জানেনই না বা জানতে চান না। ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশের হিন্দুদের ভারতের জনগণ মনে করেন কিনা এই প্রশ্ন থাইকা যায়। আর কেনইবা ভারতীয় হাই কমিশন হিন্দুদের বাড়ি যান অন্য কোন সম্প্রদায়ের বাড়ি যান না এই প্রশ্ন কেউ তাগো করেন না। সরকার ও এই বিষয়ে চুপ থাকেন। বাংলাদেশে হিন্দু মুসলমান ফাসাদের নতুন নতুন পন্থা তৈয়ার করে আরো একটা গোষ্ঠী। এইটা হলো "হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ''। আশ্চর্য হবেন যে, এরা তিনটা একই কমিউনিটিতে থাকতে চায় আর তার থেইকা মুসলমানদের একেবারে বাদই দিছে! আমি অন্যকোন রাষ্ট্রে একক সংগঠনের কথা শুনছি কিন্তু এইরকম ৩ সম্প্রদায় নিয়া কোন সংগঠনের নাম শুনিনায়। প্রশ্ন থাইকা যায় যে তাহলে মোসলমানরা কি অপরাধ করছেন যে তাগো বাদ দিয়াই এই সাম্প্রদায়িক সংগঠন গড়া হইলো? যাইহোক। এই সংগঠনের হর্কাকর্তা আর সদস্যদের বক্তব্যও চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাইতে পারে যেকোন সময়। এরাও ফেসবুকে গ্রুপ খুইলা মুসলমানদের আক্রমণের প্লান করে এমন খবর ও আমি জানি। তাঁরা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ-ব্লগে গালাগাল দেয় ও উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করে। গরু নিয়া বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের একটা বক্তব্য আমার এখনো মনে আছে। ঐটা বিদাশে বইসা দিছিলো। কি সাম্প্রদায়িকই না ছিলো বক্তব্যটা! এদের বক্তব্য শুনলেই মনে হবে, এঁরা একটা দাঙ্গার অপেক্ষা করে সর্বদা। সরকার এই সংগঠনটা কেন বন্ধ করেন না এখনো আল্লা মালুম!
এই সংগঠনটা দাঙ্গাবাজ সদস্য দিয়া ভরা। এইটারে বাদ করা হোক।

"রোহিঙ্গা প্রলেতারিয়াত'' ইস্যু ও বাংলাদেশ এর বৌদ্ধ সম্প্রদায়


বাংলাদেশে বিদ্যমান বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে ঘৃণাবাদ ছড়াচ্ছে কারা?

বৌদ্ধরা এখন ঘুমাতে পারছেনা সাম্প্রদায়িক হামলার ভয়ে এ দায় কাদের?
এমনিতেই বৌদ্ধরা "সাম্প্রদায়িক হামলা হতে পারে' আঁচ করতে পেরে মানববন্ধন করতেছে সেইটা ঠিকআছে। একটা গ্রুপ মুসলমান সমাজকে উস্কে দিচ্ছে এই বলে যে "বৌদ্ধরা ভয়ে এইসব করতেছে, এমনিতে এরা মায়ানমারের বৌদ্ধদের মতোই, যুদ্ধ বাঁধলে এরা মায়ানমারের পক্ষ নিবে ইত্যাদি ইত্যাদি''।
ঘৃণাবাদ যারা ছড়াচ্ছে ওঁরা ভুলে যাচ্ছে যে ৭১ এ পাকিস্তানের সরকার মুসলমান তকমা ইউজ করা সত্ত্বেও "বাংলার মুসলমান'' সমাজের সাপোর্ট পায়নি এবং তাদের বিপক্ষে অস্ত্র ধরেছে বাঙালী মুসলমানেরাই। যদি মায়ানমারের সাথে যুদ্ধ হয় ও (তাদের যুক্তিতে) তাহলে এই রেসিস্টরা কীভাবে বুঝলো যে, বৌদ্ধরা মায়ানমারের পক্ষপাতিত্ব করবে?
কেন বৌদ্ধরা মায়ানমারের পক্ষ নেবে সে প্রশ্ন পরের, তবুও যদি নেয় ও তাহলে সে দায় আপনার রাষ্ট্রের। আপনার রাষ্ট্র তাদের আয়ত্বে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বা তাদের যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে।
আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছি গুজরাতের দাঙ্গার কথা যেটি ১৯৯১ এর দিকে হয়েছিলো। গুজরাতের দাঙ্গার পর বাঙালী মুসলমান সম্প্রদায়ের একটি দলকে কে বা কারা হিন্দুদের মন্দির-বাড়িঘর ইত্যাদি ধ্বংসে লেলিয়ে দিলো। আহমদ ছফার "সাম্প্রতিক বিবেচনাঃ বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'' এ আমি যখন ঐ সময়কার হিন্দুদের অবস্থা পড়লাম আমি শিহরিত হলাম! শয়ে শয়ে মন্দির ভাঙা হলো, বাড়িঘর পোড়ানো হলো। কিন্তু আদৌ গুজরাতের মুসলমানদের কোন উপকার হলো না বরংচ তাঁরা এখনো নির্যাতিত হচ্ছে ভারতে। উপরন্তু স্বদেশী হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হলো! সাম্প্রদায়িক হিসাবে বাংলাদেশ ও পরিচিতি পেলো ভারতের পাশাপাশি।
এত কথা বলার মানে এই যে, আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই "শুধুমাত্র রোহিঙ্গা নয় সিটিজেন মুসলমান ও বার্মায় আছে''। আপনি যদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৌদ্ধদের হামলা করে বা ঘৃণাবাদ ছড়িয়ে মুসলমান-বৌদ্ধদের দূরত্ব সৃষ্টি করেন তা দ্বারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের কোন উপকার হবেনা। বরংচ বার্মায় বসবাসরত অন্যান্য মুসলমান সম্প্রদায়ের ও ক্ষতি হবে। তাঁরাও সাম্প্রদায়িক হামলার স্বীকার হতে পারে। তারচে এই'ই ভালো নয় কী, স্বদেশী বৌদ্ধরাও এই গণহত্যার বিপক্ষে মানববন্ধন করুক, পৃথিবী দেখুক যে "বার্মার বৌদ্ধরা এতটাই নিচ যে তাদের একই ধর্মের লোকরাই তাদের বিপক্ষে ব্যানার হাতে নেমেছে''?
সর্বোপরি অন্য রাষ্ট্রের ইস্যু টেনে নিজ রাষ্ট্রে বসবাসরত কোন সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণাবাদ ছড়ানো এক প্রকার ফ্যাসিজম! এমন সঙ্কটাবস্থায় সংগ্রাম নিজদেশের অসহায় সম্প্রদায়ের সাথে নয়, সংগ্রাম করতে হবে শত্রু শ্রেণীর সাথে। "রোহিঙ্গা প্রলেতারিয়াত'' ইস্যুতে আমাদের শত্রু পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বৌদ্ধরা নয়, আমাদের শত্রু বরংচ মায়ানমারে যারা রোহিঙ্গাদের প্রতি বর্বরতা প্রদর্শন করেছে তাঁরা।

মহান আম্রিকা



সম্প্রতি কিছু মানুষের দেখা পাই আমরা। যারা আম্রিকার সুরে কথা কয়। তাগো মতে আমরা আইলসা আর আম্রিকানরা কাজ করতে করতে মইরা যায়। আম্রিকা উন্নত আমরা অধম অমুকরে তমুকরে, টুইনটাওয়ার জঙ্গীরা ধ্বংস করছে ইত্যাদি...........
অর্থাৎ আমরা বাঙালীরা কেন আম্রিকান হচ্ছিনা, আমরা আইলসা, আমরা সব খারাপের মূল। আর আম্রিকা হইতাছে পূজনীয় মাল, তাগো দেবতার আসনে বসাইয়া পূজা করতে হবে। আমাগোর ফলো করতে হবে। আমরাতো জাতে মুসলমান আর এ জন্যই আম্রিকারে ফলো না কইরা আমাগো আর মধ্যপ্রাচ্য থেইকা জঙ্গী পয়দা হচ্ছে, মাথা উঁচা কইরা উন্নততর জাতী হইতে হলে আমাগো আম্রিকারে ফলো করতে হবে, ইত্যাদি তাগো মূল বয়ানে বিভিন্নভাবে সবক দিতে চাচ্ছেন তেনারা।

ওনারা কী গিলতাছে বা কী গিইলা আইসা অন্যর সাথে তর্ক করতে আসে। এইগুলার স্বরূপ কী? আমাগো জানা উচিৎ। "আম্রিকার মুখে '' কথা বইলা ওনারা বেশ নিজেগো প্রগতিশীল ভাবতে শুরু করছে আর এজন্য ওনাদের লজ্জা করে না। এগো লজ্জা অবশ্য কম থাকে। এরা সেই প্রকৃতির থিওরী দাতা যারা মনে করেন "পৃথিবীতে অনলি দুইটা শ্রেণী আছে। তাঁরা হইলেন উচ্চবিত্ত, বুর্জোয়া আর পেটিবুর্জোয়া। '' আরো যে কয়েকটা শ্রেণী থাকা দরকার বা আছে তা তাগো জানার বাইরে থাকে বা সেদিকে নজর যায় না। আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়ার অলস উৎপাদন অক্ষম হয় এইটা তাঁরা ঠিক বলেন, কেননা তাদের গবেষণা চলে এই ৩ টা শ্রেণী নিয়া। তাগো লিস্ট থিকা বাদ যায় "প্রলেতারিয়াত শ্রমিকশ্রেণী''। যারা কিনা দুইবেলা খাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁরাই দেশের প্রধান উৎপাদক। অথচ তাদের নিয়া কোন গবেষণা চলে না, তাগো উন্নতি কিভাবে করা যায় এই নিউ গবেষকরা তা ভাবেও না। অথচ গালাগালির সময় বাঙালীর চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার কইরা ফেলতে তেনারা ভালোবাসেন বা আনন্দ পান।
আর আম্রিকা বিষয়ে তাগো বয়ান লেখালেখি দেখলেই ইচ্ছা হয় জিগাইতে "আম্রিকান পলিটিকস'' সম্বন্ধে উনারা কতদূর কী জানেটানে! আম্রিকা থাইকাও পলিটিকস বোঝে না খোদ আম্রিকান পিপলসরাই। তাই মাঝেমধ্যে তাঁরা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব গিইলা স্বাধীনচেতা ইরাক, সিরিয়া, লেবানিজ আর প্যালেস্টাইনিয়ানদের গালাগালি করেন। কেননা তাঁরা হোয়াইট হাউজ, বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদদী প্রতিষ্ঠান আর এমবেডেড মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন। যখন আম্রিকান পিপলসরাই আম্রিকার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন তখন আমাদের এই অতি প্রগতিশীলরাও একই সাথে দেশীয় এমবেডেড মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন; বিবিসি, সিএনএন, ডেইলিমেইল বিবিধ পত্রিকায় ইরাকে হামলার ব্যাপারে যখন রিপোর্ট করে এইরকম "সিরিয়ায় আইএসএস এর ঘাটি লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফায় বোমা হামলা! নিহত ৫০ আইএস জঙ্গী, আহত ৮০!'' আমাদের দেশীয় পত্রিকার রিপোর্ট ও হুবহু এইরকম হয়। কিন্তু যখন আপনি যখন ঐ হামলার ভিডিও দেখবেন কোন সঠিক সূত্রে বা ভালোভাবে হামলার খোঁজ নিবেন তখন দেখবেন হামলার স্থানটি ছিলো একটা হসপিটাল এবং ওখানের সব ছিলো বেসামরিক নাগরিক! তাহলে কী দাঁড়ালো? আমাদের পত্রিকা এমবেডেড মিডিয়া গুলারে সোর্স হিসাবে নিচ্ছে! কেন নিচ্ছে? আপনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন দেশীয় পত্রিকাওয়ালারা হুবহু খবরের জন্য মাসোহারা পান সাম্রাজ্যবাদী কোন না কোন প্রতিষ্ঠান থিকা। এবং এরাও আম্রিকার এমবেডেড মিডিয়া হিসাবে কাজ করে। আম্রিকা খুব ধূর্ত আপনার বুঝতে হবে। কিভাবে এরা বাজারে টিইকা থাকে আপনার পলিটিকস বুঝতে হবে। আম্রিকার পলিটিকস উপলব্ধি করতে হইলে আপনারে আম্রিকার পেছনের-সামনের মধ্যের সবকিছুর ইতিহাস আগে দেখতে হবে। ইতিহাস রাষ্ট্রের পলিটিকস এর বাহক। আপনার রাষ্ট্রের ইতিহাস পাঠ করে আপনার রাষ্ট্রের পলিটিকস এর ভবিতব্য কিছুটা আন্দাজ করা যাবে।

৩.
আর আমাগোর ভেকধরা প্রগতিশীলমনারা অন্য কী বলে, ইতিহাস কী বলে সেইটা ওনারা দেখবেনা। এইটা ওনাগো দোষ। আম্রিকা যা প্রচার করে, এমবেডেড মিডিয়া আর সাম্রাজ্যবাদীদের পাচাটা বুদ্ধিজীবিরা কী কইলো তাতেই ওনাগো সই! সাম্রাজ্যবাদী আম্রিকা যে কী কইরা এতো উন্নত হইলো, কাগো মাথা চিবাইয়া এতো উন্নত সেইটা ওনারা জানে না। ওনারা প্রশ্ন করতে শিখেনাই "কেন আমাগো ১ টাকার মূল্য ১ টাকা হইলেও আমাগো দেশে আম্রিকার ১ টাকার মূল্য ৮০ টাকা? কিংবা ইন্টারনেট অ্যাডভারটাইজমেন্টস এ কেন আমাগো এক ক্লিকের মূল্য ১ সেন্ট এর কম হইলেও একজন আম্রিকানের ক্লিক মূল্য ১৫-২০ সেন্ট?''
ওনারা আসে শ্রমে-শ্রমে তুলনা দিতে! আর শ্রম নিয়া বয়ান দিতে! "আম্রিকা'' নিজেরে বাজারে টিকিয়ে রাখতে বা সম্রাজ্য লাভ করা ইত্যাদি সবকিছু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অন্যর রক্ত ঝড়ানোর মাধ্যমে। আম্রিকার পেছনের কথা আমাগোর ভেকধরা প্রগতিশীলরা জানে না বইলাই সাম্রাজ্যবাদী আম্রিকার লগে আমাগো তুলনা দিতে আসে। তুলনার আগে ইতাহাস থিকা আম্রিকারে প্রশ্ন করতে হবেঃ
ক) কেন আম্রিকা ইরাকের লগে ফাও যুদ্ধ করলো? এর মূলত কারণ কী? তাবৎ পৃথিবী বিশ্বাস করে না যে ইরাক আম্রিকায় বোমা হামলার যোগ্যতা রাখে। একমাত্র আম্রিকাই এইটা কেন বিশ্বাস কইরা ইরাকে হামলা করলো। কেন করলো? কারণ কী? কেন লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহ হারা করলো? কেন হাজার হাজার নারী শিশু হত্যা করলো? আম্রিকা যেইটা ভাববে সেইটাই কী শেষ ভাবা না তাইলে? আর গায়ের জোড়ে ভাইবা আক্রমণটাই কী সাম্রাজ্যবাদ এর চিহ্ন না? তাইলে আম্রিকা কাগো রক্ত পিইয়ে উন্নত হইতে লাগলো? [নোম চমস্কির সাক্ষাৎকার নিয়া বই "ইম্পেরিয়াল অ্যাম্বিশনে'' চমস্কি বলেন ; হিটলারের চেয়েও কম বিশ্বাসযোগ্য ছিলো আম্রিকার ইরাক আক্রমণ। ]
বিভিন্ন ইস্যু সাজাইয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের মাথা চিবাইয়া হালের রাজা সাইজা আছে আম্রিকা। এখন সে অর্ধ পৃথিবীতে তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করছে। প্রায় দেড়শ বছর আগে আম্রিকা টেক্সাস ও মেক্সিকোর উপর কর্তৃত্ব গ্রহণ করছিলো। কারণ কী? কারণ সেই সময় তুলা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আর টেক্সাসে তুলা সবচে বেশি হইতো। আম্রিকা টেক্সাসরে সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে নিলো এই জন্য যে, তুলার একচ্ছত্র অধিকার গ্রহণ করতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারে। এইভাবে যারা যখন সম্পদের মালিক হইলো, আম্রিকা তাগো উপর জোড় কইরা কর্তৃত্ব খাটাইয়া একচ্ছত্র মালিক বনে যাইতে লাগলো। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদ বলতে বা যুদ্ধবাজ বলতে আমরা শুধুমাত্র বুঝি ক্লিন্টন, বুশ, ট্রাম্প প্রমুখরে। মূলত আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদ মানেই শুধুমাত্র ট্রাম্প, বুশ বা ক্লিন্টন না। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদের পিছনে আছে কিছু প্রতিষ্ঠান তা রাষ্ট্র ও হইতে পারে কিংবা প্রতিষ্ঠান, যাঁরা কিনা সর্বাত্মকভাবে হেল্প করে আমেরিকারে যুদ্ধ ফাসাদ আর অন্যের সম্পদ অবৈধ দখলের জন্য। বাজার ঠিক রাখতে আম্রিকা যত অমানবিক কাজ আছে অনায়াসে করতে পারে। তাতে জাতীসংঘ ও মাথা গলানোর মুরোদ রাখে না! মোদ্দাকথা আম্রিকা একটা খামখেয়ালি মোড়ল হইয়া রাষ্ট্রসমূহের মাথা চিবুচ্ছে। জাতীসংঘ-ফাতিসংঘের চান্স নাই এখানে।
খ) জন.এফ কেনেডি যারে মনীষীরূপে জ্ঞান করা হয়, তিনি কেন কিউবায় হাজার হাজার মানুষরে হত্যা করলেন তা নিয়া কখনো প্রশ্ন না কইরা সেইটা মাটি চাপা রাখা হইলো কেন? আম্রিকার স্বরূপ প্রকাশিত হইবো বইলা? কিউবার হামলার কারণটা কী ছিলো? নিজেগো সাম্রাজ্যবাদরে প্রতিষ্ঠিত করতে নয় কী? তাইলে আম্রিকা রক্ত খাইলো না?
গ) আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে গায়ের জোড়ে আম্রিকা প্রথম পারমাণবিক বোমা ইয়্যুজ করলো হিরোশিমার নাগসিকায়! এই গায়ের জোড় কী সাম্রাজ্যবাদ না? লক্ষ মানুষ কী মারেনাই আম্রিকা? ৪
তাগো শ্রম লাগে না এমনিতেই বইসা বইসা মুনফা আসে। অবৈধভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্ররে তেল দিতে বাধ্য করছে তারা। তেল নিয়া ছলাকলা করলেই তার উপরে চড়াও হইছে আম্রিকা এবং শেষ পরিণামে রাষ্ট্রগুলা ধ্বংস করছে বোমা মাইরা, রাষ্ট্রে পলিটিকাল কোন্দল বাঁধাইয়া আরো কত কী কইরা। আম্রিকা তারেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বইলা আখ্যা দিছে যারা কিনা আম্রিকার আক্রমণের হাত থেইকা রক্ষা পাওনের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তাইলে আম্রিকা নিজের শ্রম খাটাইয়া কী বড় হইছে? নাকি সাম্রাজ্যবাদরে পুঁজি কইরা? তারপরও আমরা আমাগো প্রগতিশীল গো কাছে অলস! কারণ আমরা তো আর আম্রিকার মতো সাম্রাজ্যবাদী হইতে পারিনাই। অামাগো তাঁরা (নয়া প্রগতিশীলরা) অলস বইলা তিরষ্কার করে। আচ্ছা এত যে তাঁরা অলস অলস করেন আমাগো- কাজ না থাকলে কী করবে বাঙালী মানুষ? শ্রম আছে কারখানা নাই। শ্রমিকরে কর্মসংস্থান / কারখানা দেন। ধনী গরীবের পার্থক্য লোপ করেন। বড়লোকী কইরা আইসা অলস বলা যাবে ঠিকই কিন্তু এদের কাতারে আইসা নেতৃত্ব দেওয়ার মুরোদ আছে কী ডিয়ার?
এরপর ও তাঁরা বলেন যে আমরা নাকি শাক দিয়া মাছ ঢাকতেছি! মানে ঐ টুইনটাওয়ার হামলা নাকি ইরাক বা সাদ্দাম দ্বারা হইছে।
আম্রিকায় ভূরি-ভূরি কর্মসংস্থান আছে আর তাগো মজুরি হইলো উচ্চমানের মজুরি। আমাগো শ্রমিকের মজুরি সেই অনুপাতে কিছুই না বললেও হয় না। আমাদের দেশে সিংহ ভাগের দৈনিক আয় হইলো ২ ডলার। আমাগো শ্রমিকদের সাথে বুর্জোয়ারা যারপরনাই খামখেয়ালিপনা করতেছে। তাঁরা(বুর্জোয়ারা) এত বেশি পরিমাণ উপার্জন করতেছে যে, সেই অনুপাতে শ্রমিকদের পিছনে অত্যন্ত, অত্যন্ত, অত্যন্ত কম ব্যয় করতেছেন! অল্পদামে শ্রম কিইনা বুর্জোয়ারা বেশি বেশি মুনফা অর্জন করতেছেন আর সেইটার প্রতিবাদ না করায় বুর্জোয়ারা ক্রমশ সুদখোর মহাজনদের আব্বা মহাজনের মতো মুনফাখোর হইয়া উঠতেছে। আবার মুনফাখোর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা বেতন বাড়াইনার আন্দোলন করলে সেইখানে সরকারী শেল্টারে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হয়! বলা যায় আমরা বুর্জোয়াতন্ত্রে আছি....
তো আমাদের "পাতি/অতি প্রগতিশীল'' জনাবরা সেই শ্রমিকদের পাশে আইসা দাঁড়াইছেন কখনো? তাঁরা তো ভাই অলস না! মূলত যারা অলস অলস কইরা বাঙালীগো গালিগালাজ করেন তেনারা ঐ চিল্লা পাল্লা আর গালি-গালাজের মুরোদটুকুই রাখেন। বাস্তবে এরা ভারতের ভাষায় অষ্টরম্ভা! ৭ নাইন ইলেভেন ইস্যুতে আমরা যখন বলি "এইটা বুশের একটা চাল ছিলো টিইকা থাকনের আর ইরাকের তেল মাগনা পাওনের। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদী খোলসের একটা রূপ মাত্র এইটা''! তখন ওনারা বলেন "উইকিপিডিয়া তে ১১ ই সেপ্টেম্বর নিয়া অমুক তথ্য আছে, উইকিপিডিয়া তে তমুক তথ্য আছে!'' এ যেন উইকি সব কথার মানদণ্ড। আর উইকি যেটা বলছে সেইটাই শেষ দলিল! উইকি সব লিগ্যাল তথ্য দেয়? উইকির FAQ পড়ছেন যারা তারা নিশ্চই জানেন যে, উইকিতে স্বীকার করে যে "তাদের সব তথ্য সঠিক নাও হইতে পারে।
অথচ জঙ্গী কিভাবে তৈয়ার হইলো তার খোঁজ নিবে না। কয়েকদিন পর তাঁরা এমবেডেড জার্নালিজমের বদৌলতে ইরানরেও জঙ্গী বলবেন সেইটা দেখনোর অপেক্ষায় আছি। মাশাল্লাহ চালায়ে যাক না তাঁরা। তাঁরা তাগোর পেছনে অনেকে আছেন যারা ক্যাটাগরিতে উচ্চবিত্ত আর প্রলেতারিয়াত+স্বাধীনচেতাদের গালাগালি করে সকালের নাস্তা খান। বাঁইচা থাকেন গলাবাজদের লগেই তাগো শ্রেণী সংগ্রাম হবে।
এরপর ও অনেকে বলেন উইকিরে বিশ্বাস করা যায় এর সিংহ ভাগই নাকি সত্য! তাঁরা মনে করে, আমরা অনলাইনে আইসা উইকি টুইকি দেখি না, তাঁরাই দেখেন! আপনি কী মনে করছেন আমি ঐসব জনাব, উইকি-টুইকি না দেইখা আপনার লগে ফাও তর্ক করতে আসছি? উইকিরে রেফারেন্স হিসাবে আপনি টানলে অনেক কিছু আপনের বিশ্বাস করতে হবে যা একদম অবাস্তব।
শাক দিয়া মাছ ঢাকবো কী পাঠককূল? তাগো দূর্বলতা তাঁরা স্বীকার করেন যে ; তাঁরা যেইটুক জানেন সেইটুক বলছেন, আম্রিকার এমবেডেড জার্নালিজম তাঁদের যেটুক গিলাইছে তাঁরা সেইটুক ঠোঁটস্থ করছেন। এর বাইরে জানার সুযোগ তাগোর এখনো হয়নাই বা ইচ্ছা করেই জানেন নাই। ৯/১১ তো ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস "নতুন নিরাপত্তা কৌশল'' ঘোষণার আগে ৯০% আম্রিকান বিশ্বাস করতো না যে "এইটা ইরাকের বা সাদ্দাম হুসেনের শক্তি আছে এই পর্যায়ের''। সেপ্টেম্বরে তাঁরা এমবেডেড জার্নালিজম এর মিডিয়াবাজ, বুদ্ধিজীবি ইত্যাদির দ্বারা এমন পর্যায়ে ৯/১১ নিলো যখন পুরা আম্রিকারে ভীত কইরা ফালানো হইলো যে "এই রকম হামলা ভবিষ্যতে আরো হবে''!
মানুষরে জোড় করে ইরাকরে ভয় পাওয়াইতে শুরু করা হলো এমনভাবে যে; তখন ৬০% আম্রিকান বিশ্বাস করা শুরু করলো এইটা ইরাকের কাজ। আর এখন পুরা বিশ্বের হুজুগেরা বিশ্বাস করে যে এইটা "ইরাক বা সাদ্দামের কাজ''! কুয়েত ও ইরান যাগো ইরাক আক্রমণ করছিলো, তাঁরা ইরাকরে হুমকি মনে করলো না। ইসরায়েলের দিকে তাক কইরা ইরাক জায়ান্ট কামান বানাইতে চেষ্টা করলো সেই ইসরায়েলরে ইরাক আক্রমণ করলোনা। তাঁদের(ভেক ধরা প্রগতিশীলদের) জঙ্গী আক্ষ্যা দেওয়া সেই ইরাক আক্রমণ করলো আম্রিকার টুইন টাওয়ার? বড্ড ফূর্তির কথা না ভাই?
স্বাধীনচেতাগো তাঁরা জঙ্গী কইবেন আম্রিকার গলায়। বড়লোকী কইরা বাঙালীগো বলবেন অলস (কেননা তাঁরা বাঙালী মানুষ বলতে শুধু বোঝেন উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তরে) অথচ গলাবাজরা প্রলেতারিয়াত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান / কারখানা দিবেন না অালসেমী ভাঙতে! উইকি যা বলে তা দিয়া তাঁরা নাইন ইলেভেন ইস্যু টাইনা ইরাকরে বলবেন জঙ্গী!