Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

প্রতিশোধ



একটা মজার গল্প বলি,আমার এক বন্ধু আছে ওর নাম মোহাইমিন। খুবই বুদ্ধিমান,রাগী,হ্যান্ডসাম,মিষ্টভাষি আর ডানপিটে স্বভাবের।ওর আরেকটা গুন হলো, কথায় ওকে কেউ ঠকাতে পারেনা।বন্ধু মহলে ওকে আমরা ক্ষেপাই পিষুপিষু নামে।পিষুপিষু নাম হওয়ার ঘটনাটা হচ্ছে, স্কুলে পড়াকালীন ওর একটা বিড়াল ছিলো,হুলো বিড়াল। গর্দান মোটা আর বেশ ভারি ছিলো বিড়ালটা, ও শখ করে বিড়ালটার নাম রেখেছিলো পিষুপিষু। ও প্রত্যেকদিন বিড়াল কে কি খাওয়ালো,কি শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করালো ইত্যাদির বিবরণ স্কুলে এসে বেশ গর্বের সাথে বলত।ওর সেই কথা দিয়েই স্কুলের দুষ্টু ছেলেরা ওর নাম বিড়ালের নামে পিষুপিষু দিয়ে দিলো।কিন্তু মজার কথা হলো,মার খাওয়ার ভয়ে এই নাম ওর সামনে কেউ নিতে পারেনি!একবার বন্ধু আলী মহিবুল বলে এমন ঘুষি খেলো যে তিনদিন বিছানায় পরেছিলো।সেই থেকে বন্ধুরাও ওকে এই নামে কখনো ডাকেনাই।যাক সে কথা।হ্যান্ডসাম আর মিষ্টভাষী হওয়ার দরুন গার্লফ্রেন্ড জোটাতে ওর বেগ পেতে হয়নি।ফেইসবুকের মাধ্যমে আমাদের কলেজেরই একজন জুনিয়র মেয়ে কে জুটিয়েছেন তার নাম নদী।নদী যারপরনাই ভদ্র ও সুশ্রী মেয়ে পড়ে আমাদের কলেজে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে,নদী যখন কলেজ থেকে হেটে যায় তখন কলেজের ছেলেরা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে,মুখে মশা মাছি গেলেও টের পায় না।সকলের বুকে রোলার চালিয়ে মোহাইমিন কেমনে গোছাতে পেরেছে সেটাও আমাদের কাছে এক কোটি টাকার রহস্য!আমার সব বন্ধুদেরই একজন করে ইয়ে আছে আমিই একমাত্র লোক যার কপালে এখনো কেউই জোটেনি,মাঝে মাঝে বন্ধুরা আমার দিকে এমন করে তাকায় যেন ভীনগ্রহের কোন সিঙ্গেল প্রাণী দেখছে,কখনো কখনো শ্লেষ ভরা কন্ঠে আমাকে বলে,খুঁজে দেবো নাকি একজন?
নদী আমার সিঙ্গেল লাইফের কথা মোহাইমিনের কাছে শুনে করুণার দৃষ্টি দিয়ে বলেছিলো,"ভাইয়া আমার খোঁজে একটা ভালো মেয়ে আছে, অনুমতি দিলে চেষ্টা করতে পারি।" আমি কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না,বল্লাম "না আপু দরকার নেই,আমার যা চেহারা তাতে আপনার সন্ধানের লোক ভূত বলে ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবে।" নদী দাঁত বের করে হোহোহো করে এমন ভাবে হাসলো, লজ্জায় আমি মোমের মত গলে উবে যেতে পারলে বাঁচতাম বন্ধুর গার্লফ্রেন্ডের কাছে নিজের ইজ্জত পাংচার হওয়ার পর আমি আর ওদের সামনে যাইনি ১ মাসে।এর মধ্যে হঠাৎ একদিন কলেজে প্রেমিক যুগল এর সাথে দেখা।নদী আমাকে দেখে মিটমিট হাসছে।মোহাইমিন হালকা হলুদ দাঁত বার করে হেহে করে হেসে বল্ল,
"তোমার মত বলদ দিয়ে হালচাষ ও হবেনা!মেয়েদের সামনে দাঁড়াতে পারে না ওটা কেমন পুরুষরে? তুই জানিস মেয়েটা তোকে কি বলেছে?"
"এতদিন কই আসিলি তোর কি আমাশয় হইছিলোনি? হেঁহেঁহেঁহেঁ" মনে চাইতেছিলো দাঁত কপাটি খুলে ওর হাতে ধরিয়ে দেই,কিন্তু শত হলেও গার্লফ্রেন্ড সাথে তাই মাফ পেয়ে গেলো। আমি প্রসঙ্গ ঘোরাতে চাইলাম তাই কলেজে তানভীর স্যার আসছে কিনা জিজ্ঞেস করলাম।কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস নদী কাকে যেন ইশারা দিয়ে বল্ল,এইদিকে আয়।আমার দিকে তাকিয়ে বল্ল,"ভাইয়া ঐ যে আসতেছে সে যার কথা বলেছিলাম মনে আছে? আমার বান্ধবি তূণা।" আমি তাকিয়ে দেখলাম সুন্দরী এক ললনা আমাদের দিকে আসতেছে।পাঠক এক ফাঁকে জানিয়ে রাখি আমি কিন্তু খুব লাজুক!সুন্দরী ললনার হেটে আসার স্টাইল দেখেই আমার পেটের মধ্যে গুড়গুড় করতে লাগলো।এই মেয়ের যা চেহারা তাতে এর সাথে কথা বলতেই পাঁচশ টাকা অগ্রীম দিতে হয়। আমার বারটা বাজতে আর দেরী নাই!কি করি কি করি সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে মেয়েটাও প্রায় কাছে পৌঁছে গেলো, আমিও খিচ্চা দৌড় পিছনে তাকাইনি,দৌড়ে একদম কলেজ টয়লেট এর পিছনে।ওখানে কি হয়েছিলো আমি জানিনা তবে বিকেল হতেই মোহাইমিন আমাদের বাসায় হাজির।ওর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে আর তাকানোর সাহস হচ্ছিলোনা।থোতাটা ঠিক বাংলা পাঁচ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
"তুই দৌড়াইয়া আসলি কেন?" আমি ভয়ে ভয়ে বল্লাম, "দোস তুই তো জানস আমি মেয়েদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারিনা,আমার কাঁপুনি শুরু হয়!তাছাড়া ঐ মেয়েটা যা সুন্দর তাতে আমার মত আলকাতরার ওর সাথে কথা বলা সমীচীন মনে হলোনা" মোহাইমিন এবার খেকিয়ে উঠলো, আমি মাথা নিচু করে বসে আছি জানি এখন সমানে বজ্রপাত হবে।মোহাইমিন বলেই যাচ্ছে "কি?" "বলছে তুই একটা, তুই একটা বলদে মোতাহার!" আমি বড় একটা শক খেলাম।লজ্জায় আর কোন কথাই বের হলো না।মোহাইমিন চলে গেলো।আমি মন খারাপ করে বসে আছি।এমন সময় বন্ধু শাকিল এর ফোন, "কিরে তোর নাকি কাঁপেরে?" "কে বলছে তোরে?"
"হাহাহা শুনছি ব্যাটা,আমাগো নেটওয়ার্ক সারা বাংলায়।তবে তোর নামটা কিন্তু জোশ হয়েছে,বলদে মোতাহার আঁ হাহাহাহা" রাগে আমার গা গজগজ করছে!আমার আর বুঝতে বাকি রইলোনা কাজটা মোহাইমিনের।ও নিশ্চই সব বন্ধুদের ফোন করে বিষয়টা জানিয়েছে।রাগে দুঃখে আমার কান্না পাইতে লাগলো,নেহাৎ পুরুষ মানুষ দেখে চোখে পানি আসেনি।এর মধ্যে ফোন দিলো স্বপন,জুম্মান,শাহেদ,শাহরিয়া সবার ঐ একই গান "কিরে বলদে মোতাহার" অবশেষে আপায় উপায় না পেয়ে ফোনের রিংটোন ভলিউম বন্ধ করে ফোন পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।মিনিট পনেরো পরে টুটুটুন শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল।হায়রে কপাল ইন্টারনেট কানেকশন অন হয়ে আছে আর এর জন্য মেসেঞ্জারে অনবরত মেসেজ আসছে!মেসেঞ্জার অন করে দেখি প্রায় ৫৪ টি মেসেজ সব মেসেজ একই ধরনের! কেউ লিখেছেন "হাই বলদে মোতাহার" কেউ লিখেছেন "কি করছেন মোতাহর সাহেব?" তার পর কল লিস্ট চেক করে দেখলাম ৭৭ টি মিসডকল।টেক্সট মেসেজ এসেছে ৯৪ টি!বুঝলাম যারা কল দিয়ে পায়নি তারাই টেক্সট পাঠিয়েছে।আমার মাথা বোঁবোঁ করছে, বিষয়টা সবার কাছে পৌঁছলো কেমন করে?এমনকি আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ডসরাও জানে কেমন করে?ফেসবুক লগইন করে বিষয়টা বুঝতে আর দেরী হয়নি। মোহাইমিন বজ্জাতটা আমার আজকের ঘটনা নিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে!আমি তখন লজ্জায়, রাগে ফোপাচ্ছি। বন্ধু মহল ছাড়িয়ে ঘটনাটা বাড়াবাড়ির পর্যায় চলে গেলো। এলাকার গুড়ো থেকে বুড়ো সবাই আমাকে ঐ নামে ডাকতে লাগলো!ঘটনা এই হলো,আমি আর ঘর থেকেই বেরুচ্ছি না!মোহাইমিনের উপর প্রতিশোধ নেয়ার চাপা একটা প্রবণতা কাজ করতে লাগলো,কিন্তু কিভাবে যে নিবো সেটাই মাথায় আসতেছিলোনা।কি করা যায় ভাবতে ভাবতে শেষে একটা আইডিয়া আসলো, মোহাইমিন সেদিন কি কাজে ওর জান্নাতুল আপুদের বাড়িতে গিয়েছিলো, আর আমিও সে সু্যোগ কাজে লাগালাম।অনেকদিন পর ফেইসবুক ওপেন করে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে বের হয়ে আসলাম।স্ট্যাটাসটি ছিলো নিম্নরুপঃ
" মোহাইমিন, জানি দোস আর ফিরবি কিনা!তবে তুই যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস এই কামনাই করি।আল্লাহ্ তোকে জান্নাতুল ফেরদৌস আপাদের বাড়ি সহীসালামতে পৌঁছে দিক!"
ফোন রাখলাম খোলা,মিনিট যেতে না যেতেই টুনটুন করে নদীর মেসেজ, "ভাইয়া আমি বিশ্বাস করি না!" আমি তখন হাসবো না গড়াগড়ি দেবো ভেবেই পাচ্ছিনা। ওকে কোন রিপ্লাই দিলাম না।নদী অফলাইনে চলে গেলো,বুঝলাম বেশ শক খেয়েছে!পাঁচমিনিট অতিবাহিত হলো কোন মেসেজ বা ফোন আসলো না,ছয় মিনিটের মাথায় এত ফোন আসতে শুনু করলো যে আমি দিক খুঁজে পেলামনা।উঁকি দদিয়ে দেখলাম মোহাইমিনদের বাসার সামনে বড়সড় একটা জটলা!সবাই মরহুম মোহাইমিন ককে শেষ দেখা দেখতে চায়।বিশ মিনিটের মাথায় কাকে যেন দৌড়ে আমাদের বাসার দিকে আসতে দেখলাম।কাছে আসতে বুঝলাম মোহাইমিন!জান্নাত আপুদের বাড়ি থেকে আসতে কমসে কম ৩০ মিনিটের পথ,এত দীর্ঘপথ মনে হয় দৌড়েই আসছে!ওকে আসতে দেখে আমি আমার খাটের নিচে লুকালাম!মোহামিন দৌড়ে আমার রুমে ঢুকে হাপাচ্ছে আর বলছে,
"আমি জানি তুই কই,তাড়াতাড়ি স্ট্যাটাস ডিলিট কর না হয় খবর আছে তোর!" আমি মাথা বাড়িয়ে বল্লাম, "মানুষরে ইনসাল্টে করতে কেমন লাগে?"
মোহাইমিন থ মেরে চেয়ারে বসে আছে,আমার মুখেও কোন কথা নেই!আমাকে শেষ বারের মত স্ট্যাটাসটা ডিলিট করতে বলে ও চলে গেলো,সেই যে চলে গেল আমার সাথে একমাস আর দেখা করেনি,হয়নি কোন কথাও!একমাস পরে এলাকার খেলার মাঠে দেখলাম মোহাইমিন কাকে যেনন কান ধরে ওঠবস করাচ্ছে।পাশের একজনের কাছে কারণ কি জিজ্ঞেস করতে বল্ল,এই ছেলেটা নাকি ওকে মরহুম মোহাইমিন বলেছে।আমাকে দেখেই ও মুখ ঝামটা দিয়ে সড়ে পরলো।আমি হাসতে হাসতে বাসার দিকে চলে আসলাম।

অনুস্মৃতি


আমার অনেক মজার ঘটনা আছে ছোটকালের।এই ঘটনাগুলা মনে হইলে নিজে নিজেই খলখল কইরা হাসি।
ঘটনাগুলা এমন অবাস্তবের মত যে আপনে ভাবতে পারেন ঘটনাগুলা আমি বানায়া বানায়া লেখতাছি,কিন্তু সত্য হইলো এই যে, লেখাতে যা যা আমি বলতাছি এর ছিটেফোটাও আমি বানাইয়া লিখতাছিনা।সবই নিজের পুরানা স্মৃতি থিকা লিখতাছি।ছোটকালে আমি চলাফেরা করতাম সব সিনিয়র সিনিয়র ভাইদের সাথে।তাঁরা কেহ কেহ আমার থিকা বয়সে ১০-১৫ বছরেরও বড় ছিলো।তাস খেলা থিকা শুরু কইরা এমন কিছু নাই যা তাঁরা আমারে শিখান নাই(এইখানে তাগো দোষ দিতাছি না কারণ আমার ইচ্ছাতেই তাঁরা শিখাইছেন)।তখন আমি কেবল ক্লাশ সিক্সে পড়ি।বয়স ১১-১২ হইবে। সিক্সে থাইকা যেরকম আচরণ হওয়ার কথা আমি তাঁর বিপরীত ছিলাম অর্থাৎ, বয়স ১১-১২ হইলেও আচরণ ছিলো ১৮ বছরের পোলাগো মতন।তাসতোস খেলা সহ বাকিসব তখনই রপ্ত কইরা ফেলছি।তো যাইহোক, আমি তখন বেশি চলাফেরা করতাম ‘মামুন’ নামে আমার এক প্রতিবেশীর সাথে।সম্পর্কে উনি আমার কাকা।তিনি আমার থিকা বয়সে কমসে কম ৭ বছরের বড় তো হবেনই। তবুও বন্ধুর মত ছিলো আমাগো চলাফেরা।উনি খুব সোজা টাইপের লোক ছিলো(সবদিক থিকা না)উনার কিছু গুণ আমারে ঐ বয়সে মুগ্ধ করছিলো। যেমন ধরেন উনি ছিলো চরম পর্যায়ের চাপাবাজ মানুষ!একটা চাপা উল্লেখ করি;একদিন উনি আইসা বললো, ‘জানিস সজল আইজগো একবিঘা সোয়াবিন ত্যালের উপরে একটা ডিম ভাইজ্জা ভাত খাইয়া আসছি’!আমি হা কইরা শুনতাম কি কয় এগুলা কিছু কইতাম না কারণ আমার শুনতে ভালো লাগে!সারাটা জীবন শেখ/শেখ হোয়্যাইট নামক অল্পটাকা দামের সিগারেট টাইনা আসছে আর আমাগো বলতো ঢাকা গিয়া বেন্সন সুইস,গোল্ডলিফ,মার্লব্রো ছাড়া খাই না।আরো একটা গুণ হইলো উনি মানুষরে বেশ পাম পট্টি দিতে পারতেন।একবার উনারে খুশি কইরা দেওয়ার পর বলছিলেন, ’‘সজল তোরে গিটার কিন্না দিমু ঢাকা গিয়া চাকরী লওনের পর’’।যেহেতু উনার লগে চলার দরুন উনি জানতেন, ছোটকাল থিকা আমার একটা গিটারের শখ আছে সেহেতু আমারে এক কথাতেই উনি খুশি কইরা ফেলছেন। উনারে খুশি যেভাবে করছিলাম সেইটাও একটা মজার ঘটনা!আমি মাঝে মাঝে পরিচিতদের লগে জ্যোতিষবীদ হইয়া যাইতাম(এমন ভাব লইতাম যে নিজে ওনাগো ভবিষ্যতের গোড়াগাট্টি সব জানি)।তো আমি একদিন কইলাম ‘কাকা তোমার হাত টা দেও’। উনি কোন প্রশ্ন না কইরা হাতটা দিলেন।আমি হাতটা উপরের দিকে নাড়াইয়া চাড়াইয়া এ রেখা ও রেখা দেইখা কইলাম ‘’তোমার ভবিষ্যৎ তো ফকফকা।রেখায় কোন অান্ধার দেখতাছিনা।ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল,বিশাল ধনের মালিক হবা।সুন্দরী সুশ্রী লম্বা বৌ পাবা।বৌ হইবো তোমারচে লম্বা ২ ইঞ্চি।’’ উনি আমার এই কথা শুইনা এত খুশি হইলেন যে আমারে গিটার দেওয়ার ঐ প্রতিশ্রুতিটা দিয়া ফেল্লেন।তারপর থিকা এই ৯ বছর শেষ হইয়া গেলো গিটার তো দূরে থাক ১ গজ সূতাও উনি আমারে দেন নাই।না দেওয়ার মূলত কয়েকটা কারণ থাকতে পারে।প্রথমত, উনি বড়লোক তো দূরে থাউক এই ক'বছরে জীবনে উন্নতি কি জিনিস উহা চোখে দেখেন নাই।বর্তমানে তিনি বাপের মাথায় বইসা বইসা খাইতাছেন।ঢাকা গিয়া একটা মেয়ে পছন্দ কইরা ফেল্লেন।সে আন্টি আমার মোটামুটি দেখতে রূপসী হইলেও সেই আমার কওয়া মত লম্বাটা আর না।মামুনকা যদি হন ৫ ফুট ৫" তাইলে আন্টি ৪ ফুটের বেশি হবেনা।আমার কথা ঠিক হইলেও উনি আমারে দিতেন না আমি জানি,উনি আসলে চরম পর্যায়ের কিপ্টা ছিলেন এখনো আছে।আরো একটা চরিত্র উনার,উনি যে মেয়ে দেখতো পছন্দ কইরা ফেলতো।গড়ে সব পছন্দ করলেও ওনার বর্তমান বৌ আর এক দাঁতউঁচা কিউটি ছাড়া ওনার জীবনে কেউ আসছে বইলা মনে পরেনা আমার। একবার একটা মেয়েরে পছন্দ করলো, প্রোপোজ দিতে গিয়া জানলো ঐ মেয়েটা ওনার দুঃসম্পর্কের ফুফাতো বোনের মেয়ে।মানে ভাগনি!তাও ঐ মেয়েরে প্রপোজ দেওনের সময় ঐ মেয়েই তারে মামা কইয়া ডাকছিলো(কারণ মেয়েটা উনারে চিনতো,কা'য় চিনতোনা।)
মামুনকার স্মৃতি বলতে গেলে অনেকখানি লেখা হইয়া যাবে কিন্তু শেষ হবেনা তাই আমি সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনাটা বইলা মামুনকার অধ্যায়টা শেষ করতে চাই।
তারিখটা ঠিক আমার মনে নাই ।মামুনকা হাওয়া নামের একটা মেয়েরে পছন্দ করতেন।হাওয়া নামের মেয়েটা ছিলো আমাগো এখানকার এক মুরব্বীর বোনের মেয়ে।মামুর বাড়ি প্রায় সপ্তাহান্ত হাওয়া আসতো।সেই দেখাদেখি ভালো লাগা।দুঃখের বিষয়, হাওয়া মামুনকার কৃষ্ণবর্ণ দেইখা জীবনে তাঁরে পছন্দ করেন নাই।মামুনকা আর হাওয়ার মামাদের সম্পর্ক ভালো হওয়ার সুবাদে তিনি সেই ঘরে প্রত্যহ যাতায়াত করতেন।সেই যাতায়াতে সুযোগ পাইয়া উনি সেইঘর থিকা হাওয়ার ৫-৬টা ছবি মাইরা দিছিলেন।তাই সবসময় হাওয়ার ঐ ৫-৬টা লেমিনেটিং করা ছবি উনার পিঠের পিছন দিকে জামার নিচে লুঙ্গীর লগে খোচা থাকতো।হাওয়া মেয়েটার একটা বিশাল রোগ ছিলো রোগটা হইলো মৃগী ব্যারাম!এই রোগটা উঠলে নাকি তাঁরে জুতা শুকতে দেওয়া লাগতো।এই রোগেরর কথা মামুনকার অজানা আছিলোনা তদুপরি এই রোগ মামুনকার ভালোবাসা ঠেকাইয়া রাখতে পারে নাই।
একদিন সকালে আমি আর মামুনকা পুলের উপর গিয়া বসলাম। উনার মুখটা বেশ গম্ভীর দেইখা আমি কারণ জিগাইলাম।উনি কইলেন ‘হাওয়ারে তো ভাও করতে পারতেআছিনা!ভাইয়া ভাইয়া **দায় ঠিকই কিন্তু কামের কালে নাই’!আমি বেশ কইরা সমবেদনা জানাইলাম তারে।হঠাৎ তিনি আমার দিকে তাকাইয়া কইলেন;
‘সজল বাবা তুই আমারে কিছু পরামর্শ দে।কিভাবে তাঁরে সাইজে আনা যাবে?’
‘আমি কি দিমু কাক্কু?’
‘আরে দে,মাঝেমাঝে ছোডগো বুদ্ধিও কামে লাগে।দে তুই’।
জসীম-শাবানা, রিয়াজ-শাবনুর,শাকিল খান-পপি,আনোয়ার হোসেন-আনোয়ারা,গ
োলাম মোস্তফা এগো সিনেমা দেখতে দেখতে তখন মাথায় নায়কীয় বিভিন্ন ফন্দি ফিকির জমা ছিলো।আমি সেইখান থিকাই একটা আইডিয়া মারলাম।কাকার উদ্দেশ্যে কইলাম,
‘কাকা অরে পাইতে হলে তোমার এখন একটা পথই খোলা!’
তিনি বেশ আগ্রহ কইরা জিগাইলেন ‘কি সেই পদ্ধতি?’
‘কাকা তোমারে বিষ খাইতে হবে!’
‘কসকি তুই!’ কাকা বেশ ঘাবড়ায়া গেলেন।
আমি তারে নিশ্চিত কইরা বল্লাম ‘আহা বুঝোনা কেন এই বিষ সেই বিষ না!এই বিষ হইবে নকল বিষ।তুমি একটা ভিটামিনের কৌটা যোগাড় কর,সেইটায় থাকবে চিনির পানি।হাওয়ার কাছে গিয়া জাস্ট কৌটাটা খুইলা বিষ হিসাবে চালাবা।আর বলবা, 'হাওয়া তুমি আমারে ভালোবাসলানা তাই বিষটা খাইলাম,ভুল হলে ক্ষমা করে দিও!' তারপর দেখবা মাইয়া এক্কেবারে কাইত’।
মামুনকা কিছুক্ষণ মৌনতাবলম্বন করলো,আশেপাশে না তাকাইয়া সোজা বাড়ি দিকে হাইটা গেলো।আমি বেশ ঘাবড়ায়ে গেলাম। ভাবছি আমার পরামর্শে উনি বেশ চোট পাইছেন।আমিও বাড়ি গেলাম। দুপুর তখন ২ টা।মামুনকা আমারে ডাক দিলেন।আমি ঠিক দৌড়ায়া ওনার কাছে আসছি।আইসা আমি অবাক!ওনার হাতে ছোট্ট একটা ভিটমিনের শিসি।কই থিকা যেন যোগাড় করছেন।শিসির উপরে আবার কলম দিয়া আর্ট কইরা লেখা ‘বিইষ’!আমার দিকে চাইয়া একগাল হাইসা কইলেন ‘সব কম্প্লিট এহন ল’।আমি জিগাইলাম ‘কই যাবা?’ উনি আমারদিকে তাকায়া ভেংচি মত কাটলেন ‘কোঁই যাবা নাঁ? মন নাই হালারপো? হাওয়াগো বাড়ি যামু।আইজ যা হওয়ার হবে।আমিও ঐ পণ কইরা মামুনকার লগে হাটা শুরু করছি।প্রায় ১ ঘন্টা যাওয়ার পর হাওয়াগো বাড়ি পৌঁছাইলাম।গিয়া দেখি হাওয়া উঠানের সামনে জলচৌকিতে বইসা কাঁথা সিলাই করতাছে।আমরা প্রথম হাওয়ার কাছে দাঁড়াইলাম না সোজা তাগো ঘরে, যেন কেউ সন্দেহ না করে যে আমরা হাওয়ার জন্য আসছি।যেহেতু হাওয়ার মা আমাগো গ্রামের মেয়ে সেহেতু সে আমাগো চিনে।চেনার খাতিরে সে বসতে কইলো।বসার পর আমাগো মুড়ি আর কি কি যেন খাইতে দিলো ঠিক মনে নাই।খাওয়ার পরপরই আমরা উঠলাম, বিদায় নিয়া বাড়ির সামনে উঠানে আসলাম,হাওয়া যেইখানে কাঁথা সেলাই করে।আমি মামুনকা রে হাত দিয়া চিমটি কাটলাম যে উনি কাজটা এখনই করেন।মামুনকা হাওয়ার পাশে গিয়া দাঁড়াইয়া সালাম দিলেন;
‘হাওয়া আসসালামু আলাইকুম কেমন আছো?’
‘অলাইকুম সালাম।ভালো আপনে কেমন আছেন মামুন ভাই?’
মামুনকা ভালো আছেন কিনা তা না কইয়াই ঐযে নকল বিষের কৌটাটা বাইর করলেন।উনি শিসি খুইলা গপগপ কইরা দুই ডোজ খাইলেন।আমার ওনারে দেইখা কেন যেন নায়ক জসীমের কথা মনে পইরা গেলো।জসীম যেমন বিষ খাইয়া দাড়াই সাপের মত দাড়াইয়া গলা চাইপা ধরে উনিও নকল বিষ খাইয়া দাড়াই সাপের মত দাড়া হইয়া আছে।হাওয়া কেন যেন বিষ খাওয়া খেয়াল করেনাই সে একমনে সেলাই করতাছিলো।এইবার মামুনকা আরো দুইডোজ খাইয়া হাওয়ার দিকে চাইয়া চোখটোখা বড়বড় কইরা ফেল্লেন তারপর ঠিক আনোয়ার হোসেনের মত বুকে হাত দিয়া কইলেন,
‘হাওয়া আঃ আঃ আঃ! আঃ আঃ আঃ হাওয়া!’ হাওয়া মামুনকার দিকে তাকায় আছে।আমি দৌড়াইয়া আইসা ধরলাম ‘কাকা কি হইছে কি হইছে?’ ‘হাওয়া আঃ আঃ আঃ’ ছাড়া মামুনকা এক নাগারে আমার শিখাইনা কথাগুলা আর কইতে পারলেন না।বেশিক্ষণ থাকলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হইতে পারে ভাইবা আমার কান্ধে মাথা ঠেকাইয়া তারে নিয়া বাইর হইয়া আসলাম।যেইনা হাওয়াগো বাড়ির সীমানা পার হইছি,কোলায় নাইমা জান বাঁচাইনা দৌড় দিয়া বাড়ি চলে আসলাম।বাড়ি আইসা মামুনকা তার বাড়ি, আমি আমার বাড়ি চইলা আসলাম।৩দিনে আর বাড়ির বাইর হইনাই!৩দিন পর বাড়ি থিকা বাইর হইয়া একটা দুঃসংবাদ শুনলাম!মামুনকা ২দিন আগে ঢাকা চইলা গেছে।কেমন কইরা যেন তাঁর বাড়ি এই বিষ খাওয়ার ঘটনা জানাজানি হইয়া গেছে তাই তাঁর বাপে ঘেটি ধইরা ঢাকা পাঠাইয়া দিছেন।আমি শুকরিয়া করলাম আল্লাহ্ আমারে বাঁচাইছেন! তারপর হাওয়ার লগে অনেকবার দেখা হইছে কিন্তু শরমে মুখের দিকে তাকাইতে পারিনাই।এখনো মামুনকারে দেখলে সেই কথা মনে পরে।নিজে নিজেই খলখল কইরা হাইসা উঠি।বন্ধুবান্ধব অনেকেরেই গল্পটা বলি,ওরা একটু হাসলে সমস্যা কি? হাসলে হার্ট ভালো থাকে।

মেয়েটা যদি জানতো যে মইরা যাবে


আজকে আপনাদের একটা বেদনার কথা বলছি। প্রস্তুত তো? আমি যার গল্প শেয়ার করতেছি উনি আমার বন্ধু হন। মনির। বাবা মা কেউ বেঁচে নাই ওনার। একটা গার্লফ্রেন্ড ছিলো কাল সকালে সেইটায়ও মারা গেছে। সম্ভবত ক্যানসারে। যে মেয়েটার মরণে উনি কাঁদতেছেন এই মেয়েটার শরীর যখন জীবিত আর রোগমুক্ত ছিলো, ও মনির ভাই'র সাথে ধোকাবাজি করছিলো। এক চরম ধোকাবাজি। আমার খুব গায় বাজছিলো কেননা এই মনির লোকটা খুব সরল লোক। আমার মনির ভাইর কান্নার দিনগুলা মনে আছে। দাগ কাইটা রাখছিলাম। ঘটনাটা ছোট্ট পরিসরে বলি। মেয়েটা কোন এক সমস্যায় পরে বাড়ি ছাড়ছিলো আর মনির ভাই রিস্ক নিয়া ওরে ঢাকায় নিয়া ওনার বন্ধুর বাসায় থাকার ব্যবস্থা কইরা দেয়। টাকারে পয়সারে যা যখন লাগছে মনির ভাই দিছেন। এমন কোন অসুবিধা নাই ওঁর যা উনি দেখেননায়। কিন্তু মেয়েটা ওনার উপকারের বদলে একটার পর একটা উষ্ঠা দিতেই লাগলো! যখন ওনার সাথে প্রেম চলছিলো পাশাপাশি অন্য একটা ছেলের সাথেও প্রেম চালাইতেছিলো মেয়েটা। এক পর্যায়ে মনির ভাই সব জাইনা ফেল্লে উনি তিনি অপর ছেলেটার সাথে যোগাযোগ করলেন। মেয়েটার জারিজুরি ফাঁস হওয়ার পথে গেলে এক পর্যায়ে মেয়েটা মনির ভাইরে এই বইলা ব্ল্যাকমেইলিং করতে লাগলো 'তুমি যদি ওরে কিছু বলো তাইলে আমি আত্মহত্যা করব!' ঐ ছেলেটা বিদেশ থাকতো। মেয়েটা চাইছিলো ঐ ছেলেটারে বিয়ে করতে। এইদিকে মনির ভাই যেন ছাইড়া না যায় তাও চাইতো। কারণ তা না হইলে ঢাকায় ওর থাকাটা প্রবলেম হইয়া যাইতো। তো এজন্য মেয়েটা শুরু কইরা দেয় পাগলামি আর ইমোশনাল ব্ল্যাক মেইলিং! এক পর্যায়ে খুব কষ্টে পইরা মেয়েটারে ত্যাগ করে মনির ভাই। এর মধ্যে মনির ভাইর এক প্রকারের স্থায়ী জ্বর হয়। কোন ডাক্তার কবিরাজেও এই জ্বর কমতেছেনা! কোন এক হাতুড়ে ডাক্তার কইলো ওনার নাকি ক্যান্সার কোষ আছে শরীরে! এইসব শুইনা ভাড়াক্রান্ত মন নিয়া মনির ভাই আমারে ফোন দিলেন। আমি ওনার লগে প্রায় আধাঘন্টা কথা কইলাম। আর বল্লাম যে চিন্তা কইরেননা এইসব রিপোর্ট ভূয়া আপনে অন্য ডাক্তার দেখান। তবুও ভয় সত্যই হইলো কিনা! কিছুদিনের মধ্যে উনি অন্য ডাক্তার দেখাইলে রিপোর্ট ভালো আসে! এর ও এক-দেড়মাস পর উনি সুস্থ হন। এরপর ওনার দিন আবার আগের মতোই ভালো চলছিলো। মাস পাঁচেকক বা তার বেশি কম সময় হইতে পারে ঐ মেয়েটা তাঁরে হঠাৎ ফোন কইরা বলে 'আমি অমুক হসপিটালে আছি আমার কীডনি আর শরীরে পানি হইছে!' মনির ভাই মেয়েটার সব ধোকাবাজির কথা নিমিষেই ভুইলা যায় যেহেতু একটা সময়ে উভয়ের ভালোবাসা ছিলো। আর পাগলের মতো মেয়েটারে দেখতে যায়! এরপর মেয়েটা যতদিন হসপিটালে ছিলো সম্ভবত প্রতিদিনই মেয়েটার খোঁজ নিছে। এইতো কয়েকদিন আগেও মনির ভাইর লগে মেয়েটারে নিয়া কথা কইছিলাম তখন উনি কইলেন মেয়েটা বাঁচবে ডাক্তার বলছে। হয়তো ডাক্তার সান্ত্বনা দিয়া আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছিলেন যা কারো দৃষ্টিগোচর হয়নাই। তারপর কিছুদিন বাদে কইলেন মেয়েটার হাত পা ফুলছে। আর আজকে মেয়েটা সম্পর্কে শেষ কইলেন 'মেয়েটা বাঁইচা নাই!' কী আশ্চর্যের পৃথিবী ব্রো! এই মেয়েটার সুখের দিনে কী কখনো ভাবতে পারছে যে ও কখনো মারা যাবে?
খুব নাকি শখ আছিলো নার্সিং নিয়া পড়বে তাও কী আর হইলো? আশাপূর্ণ সবার হওয়া আসলে মানায়না। মেয়েটার ধোকাবাজিরে আমি হাইলাইটস করতে এতবড় কইরা লিখিনাই। আমি মূলত মনির ভাইর সরলতা দেখাইতে, আর লাইফ ঘুইরা যাইতে পারে কিভাবে তা দেখাইতে লিখছি। কিভাবে ধোকাবাজি আল্লার আসমান কাঁপায় এইটাও বুঝাইলে বুঝাইতে পারি। মনির ভাইর সরলত্ব আর মেয়েটার ধোকাবাজি নিয়া আমি এই কবিতা লিখছিলাম;

মনির
আমি আপনাকে চিনি
একটা ভীতু আপনি।
মনির
আপনার এতটা
সরল হওয়া
অস্বাভাবিকতা
আপনি যতটা।
সাবধান!
আপনি চা খান
পান আপনি চাবান
আর আপনি কাজে যান
মনির
আপনি কি শুনছেন আমার কথা?
জানি আপনি নন বঁধীর।
মনির
আপনি ভাবছেন হয়তোবা আমি
ঐ গিপ মেয়েটার কথা লিখবো
মনির একটি কথা
বারবার ফিকে হয়
আপনাকে বলতে ভয়
তবুও বলি,
মেয়েটি আপনাকে মনির পেয়ে বসোছে
ও জানে, আপনি একজন মনির!
মনির
আপনি খুড়তে থাকুন
আমি খুঁজে দেখি গর্ত বেশ গভীর!

মনির ভাই কবিতাটা পইড়া খালি হাসছিলো কোন মন্তব্য করেননাই। যেহেতু খুব সরল মানুষ। আজ মেয়েটার জন্য আফসোস হইতেছে! বোকা মেয়েটা মৃত্যু পর্যন্ত মনিরের কাছে হাইরা গেলো আহা! ওর প্রতি কোন রাগ নাই আমাগো। আল্লাহ্ ওঁরে যেইখানে খুশি রাখুক দোআ।

গন্ধপোকা


যিযাম এক মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র ছেলে,পিতা রহমত মিয়া মধ্যবিত্ত চাষী।যিযামের সপ্ন বিরাট বড় লোক হওয়া।তার থাকবে একটি বিশাল বাড়ি।সুস্মিতা নামক একটা হিন্দু মেয়ে কে পছন্দ যিযামের।সেই সুস্মিতা হবে ওর অর্ধাঙ্গীনি।বাড়িতে সুস্মিতা আর আব্বা আম্মাকে নিয়ে থাকবে।নিজের আর সুস্মিতার জন্য থাকবে দুটো লাল গাড়ি, আব্বা আম্মার জন্য স্পেশাল একটা নীলা গাড়ি।বাড়িতে আরো থাকবে কাজের লোক যারা সর্বদা ওর হাত পা টিপে দিবে।যা ফরমায়েশ দিবে সাথে সাথে সেগুলো এনে সামনে হাজির করবে।এক পাশে থাকবে আব্বা আম্মার এসি রুম,তাদের জন্য দুজন লোক রাখা হবে যারা সর্বদা আব্বা আম্মার সেবা করবে।তবে বড় লোক হতে যিযাম কে তো শিক্ষিত হতে হবে মা বলেন।বিএ,এমএ পাশ করে ভাল চাকুরী নিতে হবে তারপর না হয় টাকা আসবে।ও সবে মাত্র ক্লাশ নাইনের ছাত্র,ক্লাশেও তেমন একটা ভাল ছাত্র না। দুই তিনটা সাবজেক্টে দুর্বল ইংরেজী,গনিত,হিসাব বিজ্ঞান ঐ তিনটার কথা ভাবতেই পড়ালেখা ছেড়ে ঢাকা চাকুরীে যেতে ইচ্ছে হয়!সেবার ইংরেজীতে পেয়েছিলো মোটে ১২ আর অংকে ডাবল শূণ্য!অংক খাতায় হিকমত স্যার বড় বড় করে দুটো আন্ডা দিয়ে নিচে লিখে দিয়েছিলো “উহা যিযামের প্রাপ্ত আন্ডা!দয়া করিয়া যিযামের মা তাহাকে দুবেলা ভাত খাইবার আগে ভাজিয়া দিবেন!” সেবার সবাইকে ওর আন্ডা দুটো দেখিয়েছিলেন হিকমত স্যার! সে কি লজ্জার!সুস্মিতা তো হেসে চোখে জল এনে ফেলেছিল!অপমানের সেখানেই শেষ নয়,খাতাটা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আব্বা আম্মার সাইন পর্যন্ত নিয়ে আসতে হয়েছিলো।তখন তাদের প্রতিক্রিয়া কি ছিলো সেটা না হয় গোপনই থাক।
যাইহোক, পড়ালেখায় একেবারে কাচা যিযাম। পড়ালেখার কথা কখনো ভাবতেই ইচ্ছাই হয়না তার।মাঝে মাঝে মনে হয় মাষ্টারদের মেরে তক্তা বানিয়ে দিতে পারতাম।নিজ মন থেকে প্রশ্ন জাগে, পড়ালেখা কে আবিষ্কার করলো? তারে যদি পেতাম….ইত্যাদি ইত্যাদি।
জীবনের ঝামেলাকর অধ্যায় পড়ালেখাকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে চায় যিযাম কিন্তু ঐ বিরাট বড় সপ্নটার জন্য তার পড়ালেখার জন্য মায়া লেগে যায় “পড়ালেখা না করলে আমি কি ধনী হতে পারবো নাকি? মা যখন বলছেন তখন না কখনো না পড়ালেখা ছাড়া ধনী হওয়া যাবেনা।”
সামনের কচুরিপানা ওয়ালা পুকুরে হুমরি দিয়ে পরে গোসলটা সেড়ে নেয় যিযাম,গোসল করে মাকে ভাত দিতে বলে।”খাড়া বাপ হাত ধুইয়া ভাত দিতাছি” গোবর দিয়ে ঘর লিপতে থাকা মা বলেন।যিযাম মাথায় খাঁটি শুরেষ সরিষার তৈল দিলো চুল আছড়ালো আধা ময়লা ইস্কুলের জামাটা পরে ভাত খেয়ে স্কুলের দিকে রওয়ানা দিলো।মেইন রোড এর পাশ ধরে প্রায় আধাকিলো দূরে জামিনা মহম্মদ ইস্কুল।সাড়ে নয়টায় ইস্কুলে পৌঁছলো।সামনে কোন সিট নেই, পিছনে একটা সিট খালি দেখা যাচ্ছে।ওহ আল্লাহ্ ওখানে আবার মেম্বরের ছেলে ইদ্রিস বসেছে!আশেপাশে তাকালো,কোন সিট নেই। যে সিট গুলো আছে সেগুলো আবার একেকজন তাদের প্রিয় বন্ধুদের জন্য দখল করে রেখেছে। বাধ্য হয়ে মেম্বরের বেটা ইদ্রিসের পাসে বসতে হবে এখন!মুখ ছোট হয়ে গেলো যিযামের। এই ইদ্রিস যিযাম কে দুচোক্ষে দেখতে পারে না! এর মূলত কারণ হিসাবে ধরা যায় যিযামের বাবার দরিদ্রতা আর ইদ্রিসের বাবার সচ্ছলতা।যিযাম কি করবে ভেবে পায়না।এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেল্ল “আজ ইদ্রিস এর পাশে বসব কিছু তো আর করার নেই!” মুখ কালো করেই ইদ্রিসের বেঞ্চির দিকে এগিয়ে গেল যিযাম।ইদ্রিসের পাশে বসতে না বসতেই ইদ্রিস লাফ দিয়ে উঠে গেল তার পাশ দিয়ে! চিত্কার দিয়ে বল্ল “কিরে জামা কাছস না কয় বছর ধরে হুঁ?ক্ষ্যাত যেন কমতের!” যিযাম প্রচন্ড রকমের ধাক্কা খেলো!ঐ পাশে মেয়েদের সাড়ি থেকে বিশাল চক্ষু নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে সুস্মিতা।
যিযাম নির্বাক ওর চোখে জল ছলছল করছে!যিযাম প্রথম খেয়ালই করেনি মিল্টন স্যার ক্লাশে এসেছেন।স্যারের চোখে চোখ পরলো।স্যার চেয়ে আছেন।যিযাম স্যারের চোখে চোখ পরায় নিচের দিক তাকিয়ে রইলো।কিছুক্ষণ পর স্যার বল্ল “ঐ যিযাইম্মা এই দিকে আয়।” যিযাম মাথা নিচু করে ইতস্তত বোধ নিয়ে স্যারের দিকে এগিয়ে গেলো।স্যার সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে যিযামের শার্ট শুকলো।ওয়াক ওয়াক করে বমি দেয়ার মত করে উঠলেন তিনি।ফাঁকে বাইরে গিয়ে মুখ ভর্তি থুথু ও ফেলে আসলেন!যিযামের দিক কেমন যেন দৃষ্টি দিলো “যেমন দৃষ্টি আমরা গুয়ের দিকে দেই”।স্যার হুঙ্কার ছাড়লেন,”কতদিন গতরে সাবান লোবান মাহোনা?এই ভাবে কেউ গন্ধওয়ালা শার্ট নিয়ে ইচকুলে আহে? মনে হইতেছিলো পাদগুড়া পোক ছ্যাঃ ছ্যাঃ ছ্যাঃ!এমন গন্ধ তো পোকেও থাহেনা বাবা ইয়াক!”
স্যারের এমন আচরণে বাকি সহপাঠীরাও তার দিকে গু দেখার মত চোখে তাকিয়ে আছে।ঐ চোখে তাকিয়ে আছে সুস্মিতা ও।যিযাম কেঁদেই ফেল্ল,হনহন করে বের হয়ে চলে আসল স্কুল থেকে।
পরদিন আবার আসলো স্কুলে।ক্লাশে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই মেম্বরের ছেলে ইদ্রিস বল্ল “ঐ দ্যাখো গন্ধপোকা আসছে হ্যাঁহ্যাঁহ্যাঁ! আইজকা সাবান দিছোতো যিযামপোক?”
অমনি সবাই ভ্যাক ভ্যাক করে হেসে উঠল বাকি সহপাঠীরা।আর তখন থেকে তাকে সবাই গন্ধপোকা ডাকা শুরু করল।যিযাম স্যারদের কাছে বল্ল কাজ হলনা স্যারেরা এসবের জন্য ইস্কুলে আসে নাকি? তারা তো আসেন ঠ্যাঙাতে।
স্কুলেই তার নাম উঠে গেল গন্ধপোকা।প্রিয় বন্ধুরাও তাকে ডাকে ঐ নামে,এমন কি স্যাররা পর্যন্ত ঐ নামেই ডাকতে শুরু করলো!যিযাম খুব কাঁদল।রহমত মিয়া কারণ জিজ্ঞেস করল,কিন্তু যিযাম কাউকে কিছু বল্লনা।সন্ধ্যায় পড়তে বসলো কিন্তু মন বসছেনা।মা ভাত খেতে ডেকেছেন খিদে নেই বলে খায়নি।না খেয়েই ঘুমোতে গেলো। ঘুমের মধ্যে যিযাম স্বপ্ন দেখছে “সুস্মিতা ওকে বলছে “গন্ধপোকা,ওরে গন্ধ পোপোকারে..পোপোকাআরে…সুস্মিতা তুমিও? সহপাঠীরা একত্র হয়ে তালিয়া বাজিয়ে বলছে,ওরে গন্ধ পোপোকাআআরে….”
লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে হাউমাউ করে উঠল যিযাম “ক্ষাণকির পোলারা আমি গন্ধপোকা না!আমি গন্ধপোকা না!” হুহু করে বিছানায় মুখ থুবড়ে কাঁদলো কিছুক্ষণ।রাতে ভাল ঘুম হলনা তার।সকালে গোসল করে স্কুলে গেল কিছু খেলোও না,আম্মা জোড় করেও কিছু খাওয়াতে পারেনি।ইস্কুলে যখন পৌঁছলো তখন হিকমত স্যারের গনিতের ক্লাশ চলছে,কাল হিকমত স্যার বাড়ির কাজ দিয়েছিলো,সবাই খাতা জমা দিছে,কিন্তু যিযাম দেয়নি।হিকমত স্যার রাগে ফায়ার,স্যার বল্লেন “ঐ গন্ধপোকা বেঞ্চির উপরে ওঠ!”
“স্যার আফনেও!” যিযাম ভাবতেও পারেনি স্যার ও এই নামেই ডাকবেন।স্যার বল্লেন “তোরে যা বলছি তা কর বিয়াদ্দপ!” ছলছল চোখ নিয়ে যিযাম দাঁড়ালো।স্যার বল্লেন কান ধর।যিযাম একটু ইতস্তত বোধ করল তবুও ধরলো।সহপাঠীরা ভ্যাক ভ্যাক করে হাসছে।স্যার ধমক দদিয়ে সবাইকে থামালেন।তারপর যিযামের দিকে তাকিয়ে বল্ল “এইরাম হাঙ্গা পিরিয়ড নীলডাউন থাকবি”।”জ্বী স্যার” যিযাম মাথা নাড়লো। সারা পিরিয়ডই তার কান ধরে থাকতে হল।ছুটির ঘন্টা বাজল।যিযাম আগে আগেই দৌঁড়ে মেইন রোডে গেল।ওদের সাথে গেলে সারাটা পথ যিযাম ককে ওরা খোঁচাবে।যিযাম মেইন রোড ধরছে।যিযাম আনমনে হাটছে,স্যার-সহপাঠীদের কথা ভাবছে।আর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে,এখনো ওকে সুস্মিতা ঐ নামে ডাকেনি।যেদিন সুস্মিতা ডাকবে সেদিন থেকে আর স্কুলেই পা রাখবেনা ঠিক করেছে।হঠাৎ কে যেন বলে উঠল ‘কিরে গন্ধপোকা কই হাটস? গাড়ির তলে পইরা তো মরবি’ যিযাম পেছনে চাইলো,মেস্বরের ছেলে ইদ্রিস এর এর গলা!যিযামের খুব মনকষ্ট হলো।যিযাম আনমনে হাটতে হাটতে রাস্তার মধ্যে কখন যে চলে গেলো তা আর মনে নেই।পরক্ষণে প্যাট্টাত করে একটা শব্দ হলো সাথে ‘ও মাগো’ বলে একটা চিৎকার।চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে গেলো!লোকজন দৌড় আসতে দেখা গেলো রাস্তার দিকে।একটা লোকাল বাস প্রাণপণে ছুটছে ।ঘিলু গুলো রাস্তায় লেগে আছে।মুন্ডু থেৎলে যাওয়া একটা বডি ধরফর ধরফর করে লাফাচ্ছে,ঘোৎ ঘোৎ শব্দ হচ্ছে আর কোৎ কোৎ করে ফিনকি দিয়ে লাল লাল হিমোগ্লোবিন মিশ্রিত রক্ত বেরুচ্ছে ধরের নিচ থেকে! রক্তে রাস্তা একাকার!
ইদ্রিস ভির ঠেলে মধ্যে গেলো।ইদ্রিস নির্বাক!মুখ দিয়ে কথা সড়ছেনা ওর!জড়ো কন্ঠে একবার ডাকলো “ভাই যিযাম!”
যিযামের বডি তখনো লাফাচ্ছে হালকা হালকা!ইদ্রিস খেয়াল করলো, পরে থাকা ঘিলু গুলো হাসছে আর তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ইদ্রিসকে বলছে,”ডাকছিস কেন? তুই না গন্ধপোকারে ঘেণ্যা করস? গন্ধপোকা আমি, আমি গন্ধপোকা!’
ইদ্রিস লাশটার দিকে বাকরূদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।

বাঙাল চরিত


১৪ই আগষ্ট ২০১৭ বিকালে আমি আর কবি মইজ গেছিলাম পটুয়াখালীর পাঙাশিয়া ইউনিয়নে। কবি মইজের সময়ের খুব দাম তাই তেনার লগে কোনখানে যাইতে পারাটা ভাগ্য। যাইহোক অইখান থিকা আসার পথে সন্ধ্যায় লেবুখালী ফেরিঘাটের এপার নামলাম(মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলার যেইখানে আগে আইসা গেছিলো ২০১৭ তে) । অইখানে দাঁড়াইয়া দেখি ৩টা চায়নিজ। ২টা মেয়ে আর ১টা ছেলে। মেয়ে দুইটা বেশ সুন্দরী।
আমার একটারে বেশ পছন্দ হইছিলো! ওঁরা ফলের দোকানে কমলালেবু কিনতেছিলো। আমি আর কবি মইজ দাঁড়াইয়া গেলাম চায়নিজদের কথার শোনার আগ্রহে। ওরা চিংচিংপং না কি যেন কইতাছিলো নিজেরা নিজেরা। যেহেতু চায়নিজ ল্যাংগুয়েজ কিছু বুঝি না তাই হাসি পাইতেছিলো খুব! আমি আর কবি মইজ যেহেতু দুইটা বাঙাল সেহেতু “চিংচিংপং, অংচিংপংপং” ইত্যাদি কইয়া হাসতেছিলাম। ওঁরা আমাগো দিক ফিরাও চাইলো না। আমি কবি মইজরে বললাম, “ব্যাটা অংচিংপং যে কও, আইসা যদি কারাতি দিয়া নাক বোঁচা কইরা দেয়? এমনিতেই চায়নিজরা বেশ কুংফু পারদর্শী! ” মহিবুল কিছু না কইয়া হাসতেছিলো।
চায়নিজরা খুব ভালো দরাদরি করতে জানে। কমলা লেবু খুব দরদরি কইরা কিইনা সামনের দোকানে গেলো কলা কিনতে। পিছন থিকা কিছু লোক তখন ওগো অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেছিলো। আর সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্ট তো আছেই। আমরা ও আগ্রহ নিয়া পিছন পিছন গেলাম। আমরা অন্য দোকানে দাঁড়াইয়া কিছু কিনতেছিলাম, পাশাপাশি চায়নিজগো দেখতেছিলাম। ওঁরা সাগর কলার দাম জিজ্ঞাস করলো চায়নিজ ভাষায়। দোকানদার কিছুই বুঝলনা। চায়নিজগো হেল্প করতে এক লোক আগায়া আসলো সম্ভবত লোকটা অটো ড্রাইভার। চায়নিজরা হাত দিয়া কলা দেখায়া দিয়া দাম জিজ্ঞাস করতাছিলো তখনো। অটোঅলা ছোটবেলার আদর্শ লিপির মত একটু আধটু ইংলিশ জানে। সে সেইটা জাহির করতে আসছে সম্ভবত। অটো ড্রাইভার সামনে আইসা জিজ্ঞাস করলো,
“কি নিবেন?” ওঁরা হয়তো বুঝতে পারছে অই লোকটার কথা। তাই হাত দিয়া কলা দেখায়া দিলো। আর ওগো ভাষায় পার পিস প্রাইস জানতে চাইলো। অটো ড্রাইভার কইলো “টেন মানি টেন মানি”। তারপর হাত দিয়া দেখাইয়া দিলো দশ টাকা পারপিস। বাঙালী হইলে পারপিস কলার দাম পাঁচ টাকার বেশি একটা টাকাও দিতো না। যেহেতু বিদাশী তাই ডবল চাওয়া হইছে। ঐখানে থাকা একটা চায়নিজ মেয়ে কইলো,
“নো নো এইট মানি! এইট মানি!” তারপর বুঝাইতে চেষ্টা করলো দামটা একটু বেশিই চাওয়া হইছে। অটোঅলা দোকানীর দিকে চাইয়া কইলো,আট টাকার বেশি দিবে না। দোকানী রাজী হইলে অটোঅলা চায়নিজদের দিকে তাকায়া কইলো,
“ওকে ওকে!”
চায়নিজরা কয় হালি কলা নিলো অতটা খেয়াল করিনি। টাকা পেইড কইরা ওঁরা সম্ভবত থ্যাংকস দিছে নিজেগো ভাষায়, নতুবা বলছে টাকা ঠিকাছে কিনা। অটোঅলা হঠাৎ কইরা উইঠা কইলো কি,
“ওকে ওকে চোদে চোদে চোদে!”
আমরা দুইজন এইপাশে ছিলাম, খটখট কইরা হাইসা উঠলাম, হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাইতে লাগলাম। যেহেতু আমরা বাঙাল সেহেতু আমি আর মহিবুল কোন শরম না নিয়াই হাসতেছিলাম। আমাগো হাসি দেইখা পাশের সবাই হাসতে লাগলো। পুরুষ চায়নিজটা আমাগো দিকে তাকাইয়া ছিলো। বোধকরি শালায় বুঝতে পরছে। আমি মনে মনে কইলাম “বুঝলে তুই বোঝ শালা, কেন বাংলা শিইখা আসোসনায়”? চায়নিজগুলা তারপর অতিদ্রুত চইলা গেলো, আমরাও আইসা পরলাম। সারা রাস্তা এই নিয়া বেশ হাসাহাসি করছি দুইজন। অন্তত তিনদিন মন খুইলা হাসার একটা টপিক পাইছি তো!
আব্বার কওয়া একটা ক্ষুদ্র গল্পের কথা ও মনে পইরা গেলো। ঘটনাটা ৬৩ সাল বা তার আগের হবে। আমাগো পাশের ইউনিয়ন শিবপুর “সেন্ট আল ফ্রেডস হাইস্কুল” অইখানে একটা গির্জায় ইতালি থিকা একজন ফাদার আসছিলো। আব্বা কি যেন নামটা বলছিলেন মনে নাই। যেহেতু মিশনারি স্কুল এবং ইতালির খ্রীস্টানগো সাহায্যে গড়া স্কুল তাই গীর্জার ইতালি ফাদার আবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির লগেও জড়িত থাকতো। আমার আব্বা তখন অই স্কুলেরই ছাত্র। স্কুলের পাশে খোলা জায়গায় বাগান করার কাজ চলছিলো তখন একজন বাঙালীর তত্ত্বাবধানে। মাঝে মাঝেই গীর্জার ফাদার সেইখানে কাজ দেখতে যাইতো। একদিন একটা শ্রমিক অই বাগানে কাজ করতেছিলো। তখন অই ফাদার হুট কইরা বাগানে ঢুইকা গিয়া জিজ্ঞাস করলো,
“শালোম(শ্রমিকের নাম শাহআলম) খাজ কেমোন চলছে?”
তখন শাহআলম কাজ কইরা খুব বিরক্ত!বিরক্তি মনে রাইখা মুখে হাসি রাইখা বললো “গুড গুড চুদির পুত!” ফাদার যেহেতু গালিগালাজ শিখেনাই তাই সে বেশ অবাক হইলো।আশ্চর্যবোধ নিয়াই আওড়াইলো “চুদির পুত! হোয়্যাট ইজ দিজ?” শ্রমিক বেশ ভয় পাইলো এই ভাইবা যে, উনি যদি কোনমতে চুদিরপো’র অর্থ জাইনাই যায় তাইলে তো অই শ্রমিকের খবর আছে! ফাদার খালি কইতেছিলো “হোয়্যাট মিইনিং ছুডির পুত? এক্সপ্লেইন ইট….!” এর মধ্যে অইখানের সর্দার আইসা পরলো। সর্দার আসতেই ফাদার প্রশ্ন ছুইড়া দিলো “লুটফার(সর্দারের নাম লুৎফার) হোয়্যাট ইজ চুদিরপুত? এক্সপ্লেইন ইট প্লিজ!” সর্দার দেখলো এইটার অর্থ কইলে শ্রমিকের চাকুরী শেষ তাই সে মিথ্যার আশ্রয় নিলো শ্রমিকের মুখপানে চাইয়া। সে কইলো,
“স্যার! হি ওয়ার্কেড হার্ড অ্যান্ড ‘চুদিরপুত’ ইজ অ্যান অ্যাডমিরাবল ওয়ার্ড! ইটস মিইন অ্যা গুড ম্যান!”
“হাউ ফানি! ইউ সেইড ইট! দেন উই আর ট্রেডিশনাল “চুদিরপুত!” মাই গ্রান্ডপা ওয়াজ বিগ চুদিরপুত! দেন মাই ফাদার, দেন মি অ্যান্ড মাই ব্রাদার্স আলবার্ট, জিসবার্ড, চার্লসবার্ড! চুদিরপুত ইজ আওয়ার প্লান্টজিনেট টাইটেল! ”
এরপর থিকা নাকি যারাই ভালোকাজ করতো তাগো উনি
“গুড ওয়ার্কার চুদিরপুত” বইলা প্রশংসা করতেন।
যাইহোক, রাস্তার গালাগালি, আমাগো দুইজনের হাসাহাসি, অশ্লীল বক্তব্য ছোড়া, অটোঅলার শেষ বাক্য কিংবা দোকানদারের বেশি দাম চাওয়া সবগুলা আমাগো চরিত। এইটা নিয়া আমি ভাবি কিন্তু আমাগো বাঙালের চরিত্রের উপর আমার কোন ঘৃণা বা ক্ষোভ নাই। এইটাই আমাগো চরিত্র। আপনিও বা কি আমিও বা কি সবাই এইরকম কিছুটা হইলেও। রাস্তায় দাঁড়ায়া আপনে অন্য ভাষাভাষী আগ্রহ নিয়া দেখবেন। ভাষা অংচিংপং হইলে হাসবেনই। সরাসরি না হইলেও মনে মনে। অন্তত অটোঅলার শেষ কথা “চোদে চোদে চোদে” সেইটাই প্রমাণ দিছে যে, আমি বাঙালী! আমি তোমাগো ক্যাটেগরি ছাইড়া যাইতে পারি? তাঁর কিন্তু আমাগো হাসাইনার কোন ইচ্ছা আমি দেখিনায়, আমি স্পষ্ট দেখছি উনি বুঝাইতে চাইছেন যে, আমি তোমাগো থিকা ভিন্ন না। আমিও তোমাগো মতনই!
(১৪ই আগষ্ট ২০১৭ ইং)