Showing posts with label রচনা. Show all posts
Showing posts with label রচনা. Show all posts

এমিনেম : কখনো হারেনি

১.
রিয়েল লাইফে আমি যারে গানের দেবতা হিসাবে পূজো করি সে হলো অ্যামিনেম। আমার সংগ্রহে অ্যামিনেম এর ১৮০টা গান আছে প্রায়। সবগুলোই আমার প্রিয়র তালিকাতে। লেখাটা যখন লিখতেছিলাম তখনো আমার ব্যাকগ্রাউন্ডে প্লে হইতেছিলো অ্যামিনেম, ফিফটিসেন্ট,ক্যাশিশ, ইলিয়ড ব্যাংকসের ডোন্ট নো। আমি আর রাজ এই গানটা ২বছর যাবৎ শুনতেছি আর প্রতিদিনই কমপক্ষে একবার। 
অ্যামিনেম আর টুপ্যাক শাকুর এর নাম এখন একই সাথে উচ্চারিত হয়। 
অ্যামিনেমের প্রথম অ্যালবাম ইনফিনিটি বাইর হইলো ১৯৯৬ সালে। ফ্লপ হইছিলো। মাত্র ১০০০কপি বিক্রি হইছিলো ঐটা। তখন আশেপাশের ঐযে কাক পাখিরা তাঁরে র‍্যাপ করা ছাইড়া দিতে কইছিলো। তাঁরা কইতো "তুমি তো ধলা চামড়ার তো তুমি কী র‍্যাপ করবা?" (তখন র‍্যাপে ব্ল্যাক আমেরিকানগো একচ্ছত্র অাধিপত্য ছিলো) 

২.
ফ্লপ প্লাস এত নিষেধের পরও অ্যামিনেম তখন র‍্যাপ করা ছাড়লো না। বরংচ সে তাঁর সারফেসের উপরে সমাসীন রইলো এরপর র‍্যাপ অলেম্পিক এ সুযোগ পায় আর ২য় স্থান অধিকার করে। তখনই সে ড. ড্রের নজরে আসে। ড. ড্রে ভিতরের মার্শাল ব্রুস ম্যাথার্সরে দেখতে পায়। ড. ড্রে তাঁরে স্টুডিওতে নিয়া আসে আর প্রথম রেকর্ডটা করায়। ড. ড্রে তাঁরে রিদমডের সুরে বল্ল কও - "মা নেম ইজ, মা নেম ইজ অ্যামিনেম " ড. ড্রেরে আশ্চর্য কইরা সেই অ্যামিনেম বলতে লাগলো - "হা মা নেম ইজ, মা নেম ইজ অ্যামিনেম।''
২০০০ সালে বের হয় অ্যামিনেমের দ্বিতীয় ও সফল অ্যালবাম "দ্য স্লিম শেডি এলপি" এইটা এত সফল হয় যে প্রথম সপ্তাহে ২৮০০০+ কপি বিক্রি হয়! এরপর যেইটা বেরহয় সেইটা রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি হয়। এরপরের অ্যালবামটা "দ্য মার্শাল ম্যাথার্স এলপি" যেইটা বিক্রি হয় ১৭৬০০০০ হাজার কপি! এরপরে এরপর একের পর এক আসে কোনটাই আর ফ্লপ হয়নি। আমরা পেতে শুরু করলাম অ্যামিনেম এর বিখ্যাত র‍্যাপপগুলা- আই অ্যাম নট অ্যাফ্রেইড, ব্যাড মেটস ইভিল, লুজ ইওর সেল্ফ, র‍্যাপগড, লাভ দ্যা ওয়ে ইউ লাই, মোকিং বার্ড, ফাল, নো লাভ, বারজার্ক, অন ফায়ার ইত্যাদি।

৩.
 ২০০০ সালে তাঁর মুভি "এইট মাইল" আর তাঁর "লুজ ইওর সেল্ফ'' সেরা র‍্যাপ সং হিসেবে পায় গ্রাম্মি অ্যাওয়ার্ড! অ্যামিনেম সেই ঘেটোর র‍্যাপার মার্শাল ম্যাথার্স থিকা হইয়া ওঠে আমাদের সকলের প্রিয় অ্যামিনেম! লুজ ইওর সেল্ফ যারা শুনছেন, নিশ্চই তাঁরা গানটার এই কথাগুলা বার না আওড়াইয়া পারেন না "He's nervous, but on the surface he looks calm and ready
To drop bombs, but he keeps on forgettin'
What he wrote down, the whole crowd goes so loud
He opens his mouth, but the words won't come out
He's chokin', how, everybody's jokin' now
The clocks run out, times up, over, blaow!
Snap back to reality, oh there goes gravity''
এই সং রাইটার এখানে অ্যামিনেম এর সাথে আমাগোও আঁকছেন। যখন আপনি স্টেইজে গান বা কবিতা একটা কিছু বলতে যাবেন, দেখবেন স্টেইজের আশেপাশে কিছু ছাগল টাইপের মানুষ আপনারে হাসে। আপনি বিষম খান। আপনার মনে আবৃত্তি আছে কিন্তু মুখ থিকা তখন বের হয়না। গলায় আটকে আছে। এখন আপনার গলায় আটকে থাকা আবৃত্তি বা গানটা যে কইরা হোক বের করতে হবে। বের করলেই দেখবেন যারা স্টেইজের পাশে হাসাহাসি করতেছিলো, ওরা হাসি থামায়ে দিয়া আপনার গান বা আবৃত্তি শুনতেছে, তাতে সেইটা মানসম্মত হোক বা না হোক। আপনি যে গাইতেছেন বা আবৃত্তি করতেছেন সেটাইতো অনেক কিছু নাকি?
স্টেইজটা হইলো যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। এইখানে সারা পারা মাতানো দামাল বাচাল ছেলেটাও বোবা হয়ে যায়!

ভালোবাসার মানুষ কবি ইউসুফ বান্না

ইউসুফ বান্না ভাই
ছবি: রাশপ্রিন্ট

বছরের পর বছর আমি বহু সাংবাদিক, লেখক, বহু কবি, বহু কিছু দেখছি কিন্তু আমার ২২বছরের লাইফে জ্ঞান হওয়ার পর একজন ইউসুফ বান্না ভাই কখনো দেখিনি। তিনি আমার কাছে আহমদ ছফার মতোন। যাঁর কোন স্বার্থ নাই সাহিত্য করায়। বিনাস্বার্থে তিনি সাহিত্য করেন। কবিতা লিখেন, ছবি আঁকেন। আর ভালোবাসেন ঐ ছবিগুলো মানুষরে দেখাইতে। শো-অফ বইলা কিছু তাঁর মধ্যে নাই। তবে সম্ভবত ছবি আঁইকা বিক্রি করতে পারেন আমার জানা নাই অত। বান্না ভাইরে আপনার মনে হবে যে 'ক্রেজি পার্সন।' আপনি ভাবতেও থাকবেন এমনই। কিন্তু তাঁর মতো পিস বেশি একটা আমাগো বাঙলা সাহিত্যের অঙ্গনে দেখা যায় না। বান্না ভাই এমন যে, আপনারে শিখাইবো খুব গোপনে আপন কইরা। আর আপনার মধ্যে নিঃস্বার্থ গাঁইথা দিবে ভালোবাসার বীজ যা আপনারে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট কইরা ফেলবে।

আমাগো সাহিত্যাঙ্গনের উপর তলায় যারা থাকে ওরা সব শালারা হইলো মাদারফাকার! একেবারে স্বজনপ্রীতিতে ভরা রাজনৈতিক নেতাগো মতোন এই বাইঞ্চোদগুলা। আপনারে চিনে তো কাম হইছে, আপনারেই প্রোমোট করবে। চিনে না তো আপনি তাগো কাছে গেলে এমন ভাব ধইরা থাকবে যে তাঁরা শিরু খাঁ আর আপনি তাগো ভৃত্য! বেশ্যার দালালগুলা মেয়েদের ক্ষেত্রে আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুন্দরী হইলে কোন কথাই নাই!

 বান্না ভাই উপর তলার কিনা জানি না, তবে তিনি উপর তলার হইলেও তিনি এ মাদারফাকারগো থিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমারে যদি কেউ জিগায়, তোমার এই পৃথিবীতে অচেনা লোক এমন কারে ভালো লাগছে? আমি নিঃসংকোচে কমু 'সে ইউসুফ বান্না ভাই।' আমি সিনিয়রদের মধ্যে এই একটা মানুষরেই সম্মান করি। তাঁর সাথে আমার মাত্র একদিন কথা হইছে, কোনদিন দেখাও হয়নি বা তিনি আমার জন্য কোথাও সুপারিশ করছেন তাও না। একজন ভালো মানুষরে চিনতে বেশি সময় মূলত লাগে না। আমার পক্ষে একদিনেই সম্ভব হইছে এইটা। 

হঠাৎ একদিন আমি আমার চরিত্রগত ভাবে ধুমচে ফ্রেন্ডরিকুয়েস্ট পাঠাইতেছি এর মধ্যে বান্না ভাই ও ছিলেন। তাঁর কাছে ফ্রেন্ডরিকুয়েস্ট চইলা গেছে। তিনি প্রথমে আমার টাইমলাইনটা ভালো কইরা চষলেন। আমার একটা কবিতা এই কবিতাটা তাঁর ভালো লাগছিলো

'সিগারেট আমারে খাইতে থাকলে একবার কইলাম; এইবার থামো!
সবই যদি খাও একবারে
খাইতে পারবানা আর কখনো।'

তিনি আমারে ইনবক্স করলেন নিজ থিকা। জানাইলো কবিতাটা ভালো লাগছে। এরপর তিনি আমারে কইলো, রিলেকরে চিনো? আমি তখন কোন বাল ও চিনি না। না কোন বাল ও জানি। এখনো যে অনেক কিছু জানি, চিনি তাও না। তখন আরো চিনতাম না। আমি সোজাসুজিভাবে কইলাম, না। তিনি আমারে কইলেন, মারিয়া রিলেকের কাছে তাঁর ভক্তের চিঠিগুলো পড়ছো? আমি কইলাম, না ভাই। তিনি আমারে রিলেকের ঐ চিঠি যোগাড় কইরা দিলেন। আমি তাঁরে জোগাড় কইরা দিতে বলছিলাম কিনা মনে নাই।

আমি ভাবতেছিলাম- 'লোকটার মধ্যে ক্রেজিনেস আছে সম্ভবত! নতুবা চিনে না, জানে না তিনি কেন আমারে এইসব জোগান দিতেছে?' 
তিনি আমার সাথে এমন কইরা কথা কইতে ছিলো যেন আমার লগে তাঁর লগে অনেক আগ থিকা পরিচয়। ফোন নম্বরটা দিয়া কইলো, ঢাকায় আসলে যোগাযোগ কইরো। মনে হইতেছিলো চেনাজানা অনেক আগের। 
তখন আমার প্রোফাইলে সিগারেট মুখে একটা ছবি ছিলো, তিনি আমারে ঐটা নিয়া বললেন, বললেন ঐসব ব্যাকডেটেড। আমি খুব মাইন্ড করছিলাম অবশ্য এবং বলছিলাম, নিজরে মার্কেটে উঠাইতে ঐসব করতেছি। তিনি কইলেন, তুমি মার্কেটে উঠলে এমনেই উঠবা। আমার কেমন যেন গুরুগিরি মনে হইলো ব্যাপারটা। আমি তাঁর ঐকথাটা পাত্তা দিলাম না।
আমার মুখের অবস্থা তো জানাই সবার। আমি আমার মতো তাঁর লগে 'বালবোল' আকথা কুকথা সবই কইলাম, মজার ব্যাপার এই মানুষটা একটুও মাইন্ড করতেছে না অথচ সে আমার বয়সে কমসেকম ১৫-২০ বছরের বড় তো হবেই!
খু্ব স্বাভাবিক চেনাজানা মানুষের মতো তিনি আমার লগে কথা কইতেছিলেন মনে হইতেছিলো আমরা দুই বন্ধু। এই বিষয়টা আমারে ভিতর থিকা ইন্সপায়ার্ড করছে! সবচেয়ে বেশি ইন্সপায়ার্ড হইছি, তাঁর অহংকার শূণ্য মনুষ্যেত্ব দেইখা। এত জানাশুনা, এত বড় মাপের একজন কবি অথচ সামান্য অহংবোধ নাই নিজের মধ্যে।


তাঁর সাথে আমার অনেক কথা হইলো। আর্ট নিয়াও কথা হইলো, কথা হইলো সাহিত্য, রাইসু, মজহার ইত্যাদি নিয়াও। 
একপর্যায়ে তিনি কইলেন, তাঁর প্রেমিকারা কল দিতেছে। তিনি কল ধইরা আইসা ফের আমারে আরো অনেক বই জোগাড় কইরা দিলেন। যেমন, কবিতার ক্লাশ, কবিতা কী, বাংলাদেশের ইতিহাস, সৈয়দ শামসুল হক এর একটা বই এবং কবি নির্মলেন্দু গুণ এর কয়েকটা বই। বই জোগান দিয়া কইলেন সেইগুলা পড়তে।
ঐই শেষকথা। আমিও তাঁরে আর নক করিনাই, তিনিও না।


আমি বইগুলা সংগ্রহে রাখি ঠিকই কিন্তু তখন আর পড়িনাই। বাল পড়মু? তখন পড়ার প্রতি অত আমার আগ্রহ নাই। এইভাবে চইলা গেলো একটা বছর। একবছর পর আমি যখন বইগুলারে পড়তে নিলাম, তখনই মনে হইলো, এই লোক তো আমারে নিজের স্বার্থে কিছু দেননি! এই লোক তো আমার ভিতর থিকা ভালো কিছু বাইর করতে এইসব সাজেস্ট করছেন একেবারে বিনাস্বার্থে! 
আমি ভাবতেছিলাম, কেমনে এইরকম একজন কবি হইতে পারেন? আমাগো সিনিয়র কবিরা তো চায় না তাগো থিকা কেউ একজন ভালো লিখুক। চায় না কেউ একজন তাঁরা চইলা যাওয়ার পর তাগো স্থান দখল করুক। কেউই চায় না। তাঁরা কোন লেখক তৈরী কইরা যায় না। আমি বান্না ভাইয়ের মধ্যে নিঃস্বার্থ যে রূপটা দেখছি,।এইরকম নিঃস্বার্থ মানুষ ছিলেন আমাগো আহমদ ছফা। যিনি তরুণ লেখকগো সবসময় নিজের পাখনার তলায় রাখছেন। লেখক তৈরী করছেন। এমন হইছে যে তিনি নিজ দায়িত্বে তরুণ মেধাবী লেখকগো লেখা ছাপাইতে প্রকাশকদের দুয়ারে দুয়ারে গেছেন! জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর প্রথম উপন্যাস তিনিই পাবলিশ করায়ে দেন। বান্না ভাইও এমন। হয়তো কারো বই পাবলিশ না করুক, কিন্তু বাংলা সাহিত্যে মেধাবী লেখক আসুক এইটা তিনি মনেপ্রাণে চান। বান্না ভাইরে বেশি কেউ একজন চিনবে না। বাংলাদেশের স্বজনপ্রীতিময় সাহিত্য পরিবারে মেধাবী এই মানুষটা বিখ্যাত বা প্রতিষ্ঠিত না। না তাঁর সম্বন্ধে কেউ একটা বেশি জানবে। কারণ তিনি নিজ থিকা কাউরে দেখাইতে যান না। শো-অফ জিনিসটা তাঁর মধ্যে নাই। লুকায়ে লুকায়ে থাকেন তিনি।

কিন্তু সমস্যা হইলো, ভালো মানুষরা লুকায়ে থাকতে পারে না। পৃথিবী তাগো বিভিন্নভাবে মানুষের সামনে হাজির করে। আর তাঁরা সিক্ত হয় মানুষের প্রকৃত ভালোবাসায়। অবিরাম ভালোবাসা ইউসুফ বান্না ভাইয়ের প্রতি।

সাংবাদিকদের জবাবদিহিতা কেন দরকার?


সময়টা ২০১৭ এর ১২ ই অক্টোবর। এক জুনিয়র সাংবাদিককে চড় মেরেছিলো এক পুলিশ কর্মকর্তা। প্রত্যেকটা টিভি চ্যানেল প্লাস পত্রিকা সেটাকে হাইলাইট করে যার দরুন কোন ঘটনার সঠিক কোন বিশ্লেষন ছাড়াই চাকুরী চলে যায় ঐ পুলিশ কর্মকর্তার।
মানুষ কোন কথাই বলেনি এ নিয়ে, বরংচ পুলিশ কর্মকর্তার ঘাড় মটকে খাওয়ার যোগাড়! এই ঘটনার পেছনে যে সাংবাদিকের ও কোন ত্রুটি থাকতে পারে সে বিষয়ে কোন কথাই হয়নি। কারণ সে সময় পুলিশের কিছু অমানবিক, বেআইনি খামখেয়ালি কর্মকাণ্ডের দরুন পুলিশ মানুষের কাছে শত্রুতে পরিণত হয়েছিলো। অপরদিকে সাংবাদিক সাহেবরা সেসময় দেবতার অবতার স্বরূপ বাঙলাদেশে বসবাস করতেছেন। কী তাঁর দোষ কী সে করলো সে বিষয়ে কোন কথা নেই। এক তরফা ভাবে পুলিশকেই দায়ী করলো। এর প্রতিবাদে এই লেখাটা আমি লিখেছিলাম।
লেখাটি আমি সকল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে না লিখলেও অধিকাংশকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলাম।
পুলিশ সরকারী চাকুরী করে দেইখা বাধ্যগত ঠিকাআছে। “পুলিশ যদি অন্যায় করে সেইটার জবাব তাগো দিতে হবে” এটা যৌক্তিক এবং এর সাথে কারো মতবিরোধ নাই বলে আমি মনেকরি । কাজেই পুলিশ আর সাংবাদিকের মধ্যে লড়াই হলে জবাবদিহিতা আগে পুলিশের করতে হবে। তাই বইলা সাংবাদিকরা তেলের বাটির মতো তেল তেলায়া পার পেয়ে যাবে সেইটা অযৌক্তিক এবং খামখেয়ালি দাবী। সমাজে তাগোর গুরুত্ব দেখায়া বাঁইচা যাবে তা হবে না তা হবে না। সাংবাদিকরা সমাজে তাদের “সততার / নির্ভীকতার” আলাদা একটা ইমেজ তৈয়ার করছে, কাজেই সাংবাদিক নাম বা সাংবাদিকতা পেশার নাম শুনলেই জনমনে একটা ভক্তির উদ্রেক হয়। তবে ভাবা উচিৎ, সাংবাদিকরা যেই ইমেজ নিজেরা সোসাইটিতে ক্রিয়েট করছেন সেই ইমেজের তাঁরা নাও হইতে পারে। সাংবাদিক মানেই সৎ হবে, সাংবাদিক মানেই নির্ভীক হবে এমন না। এর বৈপরীত্য ও তাগো মাঝে থাকতে পারে। অন্ততপক্ষে উপজেলা পর্যাযে যাঁরা সাংবাদিকতা করে তাঁরা যারপরনাই ভীত এবং দলকানা টাইপের হয়। উপজেলা প্রেসের সাংবাদিকদের সভাপতি হিসাবে যাদের নির্বাচন করা হয় খোঁজ নিয়া জানা যাবে তেনারা সরকারী দলের সাথে সম্পৃক্ত। তাঁরা কিভাবে ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন তা উপজেলা পর্যায়ে আসলে বোঝা যাবে। এমনকি উঁচু পর্যায়ের সাংবাদিকরাও নিয়ন্ত্রিত হন। কাজেই দলকানা সাংবাদিক মাত্রই যে সততার অবতার এই ধারনাটা বাতুলতা বৈ কিছু না। আমরা আমাদের ভাবনায় সাংবাদিকদের বর্তমানে এলিট পর্যায়ের মানুষ ভাবা শুরু করছি, মানে সাংবাদিকদের অনেক উচ্চাসনে বসাইছি। কাজেই সাংবাদিকদের সাথে কারো ঝামেলারে আমরা সাধারণ পর্যায়ে দেখি না অন্যভাবে দেখি। অন্যভাবে দেখা অবশ্য ঠিকআছে। যেহেতু বর্তমানে আমরা সংবাদপত্র নির্ভর, কাজেই এইসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ আমাদের কাছে সাধারণত একটু বেশিই গুরুত্ব পায়। এই গুরুত্বকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে তাঁরা আমাদের মন মগজে কী ঢোকাচ্ছে সেই প্রশ্নটা কেউ তাদের করে না! হাতের কাছে ক্যামেরা পাইয়া তেনার কিভাবে ক্যামেরা সন্ত্রাস হয়ে ওঠে পতিতালয়ে প্রবেশ করা সাংবাদিকদের রিপোর্টগুলো সাক্ষী হিসাবে আছে। একটা ক্যামেরা দ্বারা সোসাইটিরে নিজেদের খেয়াল মতো নিয়ন্ত্রণ করতে চান, এবং অপরাধেরর চিত্র তুইলা ধরতে গিয়া তাঁরা মানুষের অধিকারে, গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করেন! একটা সিম্পল ফ্যাক্টরে তিল থেকে তাল বানানো একজন সাংবাদিকের বাম হাতের খেল মাত্র। সবার মূলে তাদের ঐ ক্যামেরাপণা। হাতে একটা ক্যামেরা হইলেই সাংবাদিক সাব নিজেরে অনেক কিছু মনে করতে থাকেন। পুরা পৃথিবী উল্টায়ে ফেলবেন আরকি! এরপর আসল তথ্যের পাশাপাশি মিথ্যে খবরকেও আসল খবরে পরিণত করার গুণটা তাদের রয়েছে বেশ! সাংবাদিকরা অপরাধ হিসাবে সেটাকেই গণ্য করেন, যেটা রাষ্ট্র কর্তৃক অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। এতে যদি একজন প্রলেতারিয়াত তাঁর দাবী আদায়ে রাস্তায় নামে সেটিকেও তিনি এমন ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের বিদ্রোহ হিসাবেও উপস্থাপন করতে পারেন যা সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে বাধ্য! একজন সাংবাদিক মিডিয়ার নীতিমালার উর্ধ্বে উঠে সংবাদ উপস্থাপন করতে পারে না? সরকারের কোন অপরাধ তাঁর ক্যামেরায় ধরা পরে না এমনকি কোন জাতী যদি ক্যাপিটালিস্টদের হাত থেকে বাঁচতে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে তো তাদের কে সন্ত্রাসী হিসাবে দেখাতে মিডিয়া বা তাঁর তৈরী করা সাংবাদিকদের বাঁধে না।
সাংবাদিকরা যে সমস্ত নীতিমালা বেশ মেনে চলে তাঁর একটা লিস্ট করা যায়।
১) উপজেলা বা গ্রাম পর্যায়ের সাংবাদিকরা মোড়লদের(এমপি, মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বর, প্রসিদ্ধ ব্যক্তি প্রমুখ) বিরুদ্ধে লিখতে পারেন না বা লেখেন না।
২) জেলা বা বিভাগ পর্যায়ের সাংবাদিকরা মেয়র, মন্ত্রী এবং ধনীদের নিয়ে লেখেন না বা লিখতে পারেন না।
৩) ক্যাপিটাল পর্যায়ের সাংবাদিকরা দুএকজন মাথাওয়ালার বিপক্ষে লিখলেও সরকার কিংবা ক্যাপিটালিস্টদের বিপক্ষে তাদের কলম চলে না।
৪) আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাংবাদিকরা আম্রিকা, ইসরাইল, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি ইম্পেয়ারালিস্টদের বিপক্ষে লিখতে পারেন না বা লিখেন না।
কেননা এদের নির্ভর করেই সাংবাদিকরা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকে। যাদের বিরুদ্ধে তাঁরা লিখতে জানেন না বা লিখেন না, প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই এইসব নিউজ এজেন্সি এবং তাদের কর্মকর্তাদের পরিচালনা করে। প্রশ্ন হচ্ছে একজন সাংবাদিক কয়টাকা বেতন পায়? কিন্তু এত কম কামাই সত্ত্বেও একজন সাংবাদিক কিভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয় সে প্রশ্ন করেছেন কী? আমি এমন ও সংবাদকর্মীর কথা জানি যাঁরা কিনা প্রকাশ্যে ঘুষ খায়। এবং যাঁর পক্ষ থেকে ঘুষ পেয়েছে তাঁর সম্বন্ধে বেশ সুস্বাদু খবর তৈয়ার করেছে।
কাজেই শুধু যে পুলিশের জবাবদিহিতা করতে হবে তা ও না। আইনের সম্মুখীন হলে “মূল ঘটনা” বিশ্লেষন করে “কার কতটা দোষ” সেটা জানার আগেই একজন পুলিশ কর্মকর্তারে বরখাস্ত ও মানা যাবে না। সাংবাদিকরা তাগো “ক্যামেরা ক্ষমতার ” অপব্যবহার করে এটা জেনে আগেই পদক্ষেপ নেয়া পুলিশ অফিসাররে বরখাস্ত মানে তাঁর প্রতি রাষ্ট্রের অবিচার বৈ কিছু নয়।

বাচ্চাকে কেন গোপাল ভাঁড় দেখতে দিবেন না?



জাতীতে আমাদের যেমন বাংলাদেশী ভারতী কিংবা হিন্দু মুসলমান ভাগ রয়েছে তেমনই ভাগ রয়েছে আমাদের ইতিহাসে।আর মানুষের ইতিহাসের দরকার রয়েছে ঐতিহাসিক গোলাম আহমেদ মোর্তজার মতে,মানুষই একমাত্র প্রাণী যাদের ইতিহাসের দরকার হয়।তবে এই দরকারি ইতিহাস পাল্টে যায়,জাতী ভেদে পাল্টায় আবার কিছু কুচক্রির হাতে পরে,সময়ে পাল্টায় অসময়ে ও পাল্টায়।
আবার ইতিহাস না বদলেও তৈরী হয় মানুষের মাঝে বিভক্তি।আমাদের কাছে যারা হিরো হয়তবা তেনাদের কাছে তাঁরা হচ্ছে কাপুরুষ বা বেঈমান। আবার আমাদের কাছে যারা কাপুরুষ, সুযোগবাদী তাদের কাছে তাঁরা সুপুরুষ ।
তখন কেমন হবে যখন আমাদের কাছে তাদের হিরো তথা আমাদের নিকট মীরজাফর জগৎশেঠদের চরিত্রের লোকদের আমাদের কাছে হিরোরুপে উপস্থাপন করা হবে? আর আমাদের বাচ্চারাও তাদের হিরোরুপে দেখা শুরু করবে?
ধরুন গজনীর সুলতান মাহমুদ। আমাদের দেশে সুলতান মাহমুদকে দুই রুপে আমরা দেখি।"ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি " এই পাঠ্যবই তে আমরা সুলতান মাহমুদ কে বীর হিসেবে দেখি আবার কলকাতার পাঠ্য "ইতিহাসের" বই তে চিনি একজন সনামধন্য "লুটেরা" হিসেবে।
হ্যা ইতিহাস এমনই।আমাদের হিরো তো ওনাদের কাছে ভিলেন আবার ওনাদের হিরো তো আমাদের ভিলেন।
তাই আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোৎঅনুরোধ দয়াকরে আপনার বাচ্চাকে কখনোই গোপাল ভাঁড় দেখতে দিয়েন না।
এতদিন ধরে আমি "সনি আট" চ্যানেলটির গোপাল ভাঁড় কার্টুনটির প্রায় ৩৫৪ টি পর্ব দেখেছি।শুধুমাত্র যে এই ৩৫৪টি পর্বে বিনোদনই নিয়েছি তা কিন্তু নয়,সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা নিয়েছি কিভাবে ভারতীয় চ্যানেল সনি আট বিকৃত ইতিহাস বাচ্চাদের শিখায়।আপনি ভাবতেও পারবেননা কিভাবে বাচ্চাদের মনে আমাদের ইতিহাসের বিকৃতিরুপ ঢোকানো হয়।

কেন গোপাল ভাঁড় বাচ্চারা দেখবেনা?
গোপাল ভাঁড়ে মাঝে মাঝেই আমরা "নবাব" কে দেখতে পাই,যিনি সব সময়ই কৃষ্ণচন্দ্রের গোপাল ভাঁড়ের কাছে জব্দ হচ্ছেন। কৃষ্ণচন্দ্র কে তিনি সিংহাসনচ্যুত করতে চান, ইত্যাদি ইত্যাদি।

১.আপনি জানেন ঐ নবাব কে?
যদি না জানেন তাহলে আমার এই তথ্য আপনাকে আশ্চর্য করবে! ভাবতে থাকুন নবাব টা কে! হ্যাঁ ঐ নবাব মূলত বাংলার নবাব " নবাব সিরাজউদদৌলা"। অ্যানিমেটেড সিরিজটিতে নবাবকে অন্যকোথার নবাব বা নবাব আলীর্বাদী খা হিসেবে বোঝাবে বোঝাতে চায় কিন্তু আসলে এই নবাবই হচ্ছেন আমাদের নবাব "সিরাজউদদৌলা"।অনেকে বলবেন উনি দিল্লির নবাব কিন্তু ইতিহাস বলে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নবাব সিরাজউদদৌলার সময়কার রাজা এবং উনি শত্রু ভাবতেন একমাত্র নবাব সিরাজউদদ্দৌলাকেই।আর কৃষ্ণচন্দ্র হলেন নদীয়ার রাজা যে রাজ্যটি ছিলো নবাব সিরাজউদদৌলার আয়ত্ত্বে।

২.বিকৃত ও সঠিক ইতিহাসে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও নবাবের চরিত্র
২.১
মিথ্যে ঐতিহাসিক ঘটনা
উল্লেখ্য,আমরা গোপাল ভাঁড়ের পর্বগুলোতে দেখতে পাই, "কৃষ্ণচন্দ্রর খুবই সৎ নিষ্ঠাবান,দেশ প্রেমিক,প্রজাপ্রেমিক লোক গোপাল ভাঁড় সহ তার আরো বেশ কিছু রত্নসম লোক আছে।এর মধ্যে গোপাল ভাঁড়ই বেশি বুদ্ধিমান,দেশপ্রেমিক,গরীবের বন্ধু যিনি সব রকমের বিপদ থেকে রাজাকে বাঁচান। নবাব বারবার কৃষ্ণচন্দ্র কে জব্দ করতে চায় এবং গোপাল বুদ্ধি দিয়ে তাকে বাঁচান।নবাবের আরেকটা খারাপ দিক তিনি ইংরেজ তোষণ করে থাকেন।বাংলায় নবাব সর্বপ্রথম ইংরেজদের স্থান দিয়ে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখছে অথবা দেখা যায় কৃষ্ণ চন্দ্র ইংরেজদের তোষণ করেন না।তিনি তোষামোদ করলেও গোপাল ইংরেজদের তাড়িয়ে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
২.২
গোপাল ভাঁড় বলে ইতিহাসে কেউ নেইঃ
আমরা মনে করি গোপাল ভাঁড় সত্যিই ছিলেন যিনি দুষ্টের দমন করতেন,বিখ্যাত হাস্যরসিক ও ভাঁড়, যিনি হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে অন্যদের আনন্দ দিতেন ইত্যাদি। আসল বা সঠিক হচ্ছে এর বিপরীত। গোপাল ভাঁড় নামক কারো অস্তিস্ত কখনোই ছিলোনা।এই চরিত্রটি মূলত কাল্পনিক।
গোপাল ভাঁড় নামে কেউ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সময় নির্দিষ্ট করে ছিলেন না। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্ব সম্পর্কে ইতিহাসে প্রচুর তথ্য পাওয়া গেলেও তার কোথাও উল্লেখ নেই যে, তাঁর সভায় গোপাল নামে একজন ভাঁড় ছিলেন।(বাংলা পিডিয়া)তবে কোনো না কোনো বিদূষক রাজার প্রিয়পাত্র হন,সে বুদ্ধিমান হলেও হাস্যরসিক ছিলেন না। তবে সে যে গোপাল ভাঁড় তার কোন ইতিহাস কোন গ্রন্থে লেখিত নেই। গোপালের জন্ম কত বঙ্গাব্দে বা খ্রীষ্টাব্দে তার কোন নথিপত্র ইতিহাস দূরে থাক পুঁথিপত্রে ও তা কোথাও লেখা নেই,এমনকি বটতলার সাহিত্যেও না। তার জন্মস্থানের পক্ষেও কোনো নথি নেই, কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা হিসেবে তার সম্পত্তির কিংবা জায়গা-জমির কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি কোথাও।উনিশ শতকের প্রথম দিককার "বটতলার সাহিত্যে" গোপাল ভাঁড়ের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।গোপাল ভাঁড়ের বংশ পরিচয় পাওয়া যায় নগেন্দ্রনাথ এর বই "নবদ্বীপ কাহিনি" থেকে। তবে তা সূত্রহীন এবং অবিশ্বাস্য কেননা ঐ বইটায় নবদ্বীপ নিয়ে কিছু রূপকথার গল্পটল্প ও আছে। আশ্চর্যের বিষয় বইটির লেখক "গোপাল" চরিত্রে রহস্য রাখতে ঐ গ্রন্থে ভাঁড় গোপালের বাবার নাম জানালেও তার মা ও স্ত্রী সম্পর্কে কিছুই লিখেননি। নগেন্দ্রনাথ দাসের মতে গোপালের পদবী ছিল 'নাই'। তার মতে, মহারাজ তাকে হাস্যার্ণব উপাধী দান করেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও ভাষাবিদ সুকুমার সেন বলেছেন ‘গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে আধুনিক বাঙালির কৌতুহল থাকার ফলে বাস্তব অথবা কল্পিত ব্যক্তিটির সম্পর্কে যে জনশ্রুতি জাতীয় ঐতিহ্য গজিয়ে উঠেছে ও উঠছে তার বীজ হচ্ছে ভাঁড় নামের অংশটি, গোপাল ভাঁড়ের ভাঁড়টুকু সংস্কৃত শব্দ ভাণ্ডারের ‘ভাণ্ড’-জাত মনে করে অনেক গোপালের জাতি নির্ণয় করেছেন'।
গোপাল ভাঁড় সম্বন্ধে বাংলাপিডিয়ার বক্তব্য হচ্ছে,

"গোপাল ভাঁড়ের কোনো ঐতিহাসিক স্বীকৃতি নেই। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্ব সম্পর্কে ইতিহাসে প্রচুর তথ্য পাওয়া গেলেও তার কোথাও উল্লেখ নেই যে, তাঁর সভায় গোপাল নামে একজন ভাঁড় ছিলেন।
উনিশ শতকের প্রথম দিককার বটতলার সাহিত্যে গোপাল ভাঁড়ের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। বাংলার ইতিহাস, এমনকি পৃথিবীর ইতিহাসেও, অল্প হলেও দেখা যায় সমষ্টিগতভাবে জনগণের উপস্থিত বুদ্ধি ও জ্ঞান কোনো একজন অতীত লোকের নামে প্রচলিত হয় এবং কালক্রমে তিনি জনগণের মধ্যে হিরো হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। গোপাল ভাঁড় হয়ত এমনি এক কাল্পনিক ব্যক্তিত্ব।"

মূলত এই বুদ্ধিমান প্রাণী বিশেষটি মোল্লা নাসির উদ্দিন এবং বীরবল চরিত্র দুটো কে কাউন্টার করতে তৈরী করা।
২.৩
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র(১৭১০-৮৩)
আমরা গোপাল ভাঁড়ে নিশ্চই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে চিনি যিনি খুবই সৎ নিষ্ঠাবান,শিক্ষিত,দেশ প্রেমিক,প্রজাপ্রেমিক লোক। হ্যা একথা সত্য যে, তিনি শিক্ষিত লোক ছিলেনমোট ৩ টি ভাষা সহ সঙ্গীত ও অস্ত্রবিদ্যায় ও তিনি পারদর্শী ছিলেন।তিনি ছিলেন রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন কূটকৌশলী ব্যক্তি।এসব গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন ইংরেজ প্রেমিক রাজা। রাজা কৃষ্ঞচন্দ্রের আমলেই মূলত বাংলায় ইংরেজরা ঢোকেন।যাকে নবাব সিংহাসনে বসিয়েছিলেন।এবং ১৭৫৭ সালে যখন ইংরেজ সাহেবদের কাছে বাংলার নবাব সিরাজউদদৌলা পরাজিত ও নিহত হলেন তখন নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং কোলকাতার রাজা নবকৃষ্ঞদেব সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন।উল্লেখ্য যে, রবার্ট ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধ ময়দানে যাওয়ার সময় কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের প্রাসাদে রাত যাপন করেছিলো।তারা কোম্পানির জয় কে হিন্দুদের জয় মনে করতেন।আরো উল্লেখ্য যে,নবাব হেরেছেন আর কোম্পানি জিতেছেন এই খুশিতে সেই ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন এর পরপরই নবকৃষ্ঞ চালু করেন দুর্গাপূজা।আর কৃষ্ণচন্দ্র চালু করেন জগদ্ধাত্রী পুজা।
বঙ্কিমচন্দ্র কৌতুক করে লিখেছিলেন, দূর্গোপূজোর মন্ত্র ইংরেজীতে পঠিত হইবে।[বাঙ্গালী জীবনে রমনী:নীরদচন্দ্র চৌধুরী,পৃষ্ঠা নং ১৮]
ইংরেজদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের পুরস্কারস্বরূপ কৃষ্ণচন্দ্র ইংরেজ কর্তৃক ‘মহারাজা’ উপাধিতে ভূষিত হন। তদুপরি ক্লাইভের নিকট থেকে উপঢৌকন হিসেবে পান পাঁচটি কামান।(বাংলাপিডিয়া)

[কৃষ্ণচন্দ্র সম্বন্ধে সামান্য তথ্য "এ এক অন্য ইতিহাস গ্রন্থের পৃষ্ঠা নং ৩২ এ দ্রষ্টব্য ]

শেষকথা
আমরা ইতিহাসে মীর জাফর মীর জাফর বা জগৎশেঠ জগৎ শেঠ করে ঘৃণা প্রকাশ করলেও তাদেরই মত একজনকে হিরো রুপে আমাদের শিশুদের কে দেখাই।আবার প্রকৃত ইতিহাসকে লুকিয়ে, আমাদের নায়ক নবাব সিরাজউদদৌলাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই কার্টুন সিরিজে বদ,শয়তান, ইংরেজ তোষণকারী হিসেবে দেখানো হয়, অথচ তিনি ইংরেজদের বিপক্ষে যুদ্ধ করে নবাব প্রাণটাই খোয়ালেন।অপরদিকে ইংরেজদের পা চাটচাটি করা রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কে দেখানো হয় সুপার হিরো হিসেবে!এই সিরিজটায় একেবারে সুক্ষ্ম ভাবে কাল্পনিক গোপাল দ্বারা শিশুর কাছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে হিরোরুপে তুলে ধরা হচ্ছে যা ন্যাক্কার জনক!

আপনি কি চান আপনার বাচ্চা ছোটবেলা থেকেই আপনার আমার হিরো সিরাজউদদৌলার প্রতি তীব্র ঘৃণা নিয়ে বড় হোক?
যদি না চান তাহলে মিথ্যা ইতিহাসের ভিত্তিতে গড়া গোপাল ভাঁড় থেকে তাকে দূরে রাখুন তাকে।
তথ্যসূত্রঃ


উইকিপিডিয়া
বাংলাপিডিয়া
ইতিহাসের

মঙ্গোল শোভাযাত্রা নিয়া মুসলমানরে অপবাদ দিতাছেন আপনে?


এই যে মঙ্গোল শোভাযাত্রা হইবে এইটা নিয়া চুপই ছিলাম চারুকলার বন্ধুগো খাতিরে।এই যে তাঁরা রাক্ষস টাক্ষস নিয়া লাফাইবে তাও তাগো খাতিরে সাম্প্রদায়িকতা ধরিনায় কিন্তু এখন চুপ থাকনতো গেলোনা।মঙ্গোলে গোল করেন না মনা করছে কে আপনাগো? কিন্তু এইটারে শ্রেফ পুরানা বাংগালী সংস্কৃতি বানাইতেই হবে? যান বানান মানা করছে কে? কিন্তু এইটার দোহাই দিয়া আপানে বাংগালী মুসলমানরে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী,বাংলা সংস্কৃতি বিরোধী ইত্যাদি বলনের আপনারা কে?
মঙ্গোল শোভাযাত্রা বাংলাদেশীগো পালনের জিনিস হইলো কবে থেইক্কা? বাংলাদেশীরা প্যাগান সভ্যতা ছাড়ছেন সেই কবে। পূর্ববঙ্গের কোন প্রাচীন ইতিহাসে এর উল্লেখ নাই তবুও এইটা হইয়া গেলো বাংগালীর প্রাচীনতম উৎসব!




বাংগালী মুসলমানদের যেহেতু সাম্প্রদায়িক বলা হইলো সেহেতু সত্য তো বলতেই হয়, 'এই উৎসবে সাম্প্রদায়িকতার ছোঁয়া আছে'!ঐযে রাক্ষস টাক্ষস ঐসব হিন্দুধর্ম থেইক্কা ধার করা হইছে।আর এইটায় সাম্প্রদায়িকতার ছাপ চাক্ষুষ দেখা যাইতেছে সেহেতু এইটারে বড়জোর হিন্দু বহুল পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের উৎসব হিসাবে খাটান যাইতে পারে যেহেতু এইটায় হিন্দুয়ানির ছাপ ১০০% দেখা যায়( যদিও এইটা তাগো আবিষ্কৃত ও না।চারুপীঠ নামের একটি সংগঠনের শামীম আর তাঁর বন্ধুরা সহ ৩০০ শিক্ষার্থী ১৯৮৫ সালে যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষের উৎসবে পাপেট ও মুখোশ নিয়া বাদ্যাটাদ্য বাজায়া মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এরপর ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা চারুকলার শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখের সকালে মঙ্গোল শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসতেছেন।আমি যে সাল হইতে লেখতেছি তার মাত্র ৩২ বছর আগে থেইকা আবিষ্কার হয়।আর নিয়মিত হয় তারও ৪ বছর পর থেইকা ৮৯ সালে)।বৈশাখে পান্তাভাত ইলিশমাছ খাওন রীতির মতো এইটাও হালের নতুন উৎসব।
যদি ধরিই হোলীর মত কইরা এইটারেও পালন করবেন মূর্তি সাজাইয়া "রাক্ষস " কান্ধের উপরে ফালাইয়া প্যাঁপু বাঁশি বাজাইয়া দৌড়াইতে হবে এইটা বাংগালী হিসাবে ফরজ হইয়া দাঁড় করান হইছে, বা সরকার ফরজ করছেন বা উৎসব মানেই করতে হবে বাংগালী হিসাবে ইত্যাদি ইত্যাদি, তাইলে আগেই কইয়া রাখা ভালো এইটা পূর্ববঙ্গে ফরজ করা খাটে না এই উৎসব পশ্চিমবঙ্গের খাটে আমাগো জন্য খালি পহেলা বৈশাখ উৎযাপনই যথেষ্ট।পহেলা বৈশাখের পুরান কোন অনুষ্ঠানে বাংগালী মুসলমান বাগড়া দেয়নায় বা বলেনায় যে এইটা করা যাবেনা। যেই ক্যালেন্ডার দেইখা বৈশাখ উদযাপন করা হয় সেই ক্যালেন্ডারই 'ফতেউল্লাহ সিরাজি' নামের একজন মুসলমান তৈরী করছেন মোঘল সম্রাট আকবরের আমলে।তাই পূর্ব থেইকাই নববর্ষ উদযাপনের লগে মুসলমানরা জড়িত।আসেন বঙ্গাব্দ'র ইতিহাস দেখিঃ

"ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে "বঙ্গাব্দ " বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।
আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া।"[দ্রঃউইকিপিডিয়া]

তো ইতিহাসের নিরিখে এইটারে হাল বৈশাখ কওন যায়।এরপর বিবর্তন হইতে হইতে আজকের এই পান্তা ইলিশে আসছে।আকবরের আমল থেইক্কাই মুসলমান কেউ বৈশাখ উদযাপন নিয়া টু শব্দ করেনায় বরঞ্চ পালন কইরা আসছে, এই নিয়া মুসলমানদের কেউ সংস্কৃতি বিরোধী কইতে পারেনায় কিন্তু হালের কিছু বুদ্ধিজীবি মঙ্গোল শোভা যাত্রার
 বিরোধীতা করায় মুসলমানদের সংস্কৃতি বিরোধী তো বানাইছেনই লগে মৌলবাদী,সাম্প্রদায়িক ইত্যাদিও বানাইছেন!
 কেন মুসলমানরা এর বিরোধীতা করছেন সেইটা জিগানোর পর্যন্ত কোন বুদ্ধিজীবি বাকি রইলোনা!মূর্তি মুসলমান ধর্মবিরোধী আর মঙ্গোল শোভাযাত্রার মূলই হইলো মূর্তি নিয়া লাফালাফি।মূর্তি বিরোধী মুসলমানরা কিভাবে মূর্তি নিয়া লাফালাফি করবেন? তাগো উপরে জোড় কইরা এই নতুন সংস্কৃতি চাপাইয়া দেওয়াও এক প্রকার সাম্প্রদায়িকতা নয় কি?
 সরকারের মন্ত্রী নূর সাহেব জোড় জবরদস্তি কইরা এইটারে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিছেন এইটা কি তিনি ঠিক করছেন?
তার উপর এইটা আবার পূর্ববঙ্গে বসবাসরত সংখ্যাগরিষ্ট মুসলামান বাংগালীগো ধর্ম বিরোধী কাজ আর মূলেও তারা এইটার বিরোধী।



বিডিনিউজ২৪ডটকম শিরোনাম করছে
"দেয়ালচিত্রে পোড়া মবিল: ‘বাঙালির শৈল্পিক অনুভূতিতে আঘাত’
ভাই আপনাগো শৈল্পিক অনুভূতি থাকতে পারে আর মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি থাকবেনা এইটা কেমন কথা?
আর সেই অনুভূতি থেইক্কা তাঁরা এইটার বিরোধীতা করলেই আপনারা ঝাপাইয়া পরবেন এইটা কেমন কথা হইলো? নিজেগো বেলায় ১৬ আনা পরের বেলায় ৪!
আপনারা মাত্র ২৮ বছর আগের উৎসব দিয়া বাংগালী মুসলমানরে ঐতিহ্য সংস্কৃতি বিরোধী বলতে আসছেন অথচ বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর বাংলাভাষাটা রক্ষা করছেনই পূর্ব বঙ্গের মুসলমারা,হিন্দুদের কোন অবদান থাকলেও সেইটা পূর্ববঙ্গের জন্য গোনায় ধরার মত না।এইখানে প্রমাণ স্বরূপ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বইয়ের একটা উদ্বৃতি টাইনা প্রমাণ করতেছি পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্য আর বাংলাভাষা রক্ষায় কাগো অবদানঃ

"সেই অভিবক্ত বাংলার বিধান সভায় নবনির্বাচিত মুসলমানরাই ছিলো খাঁটি বাঙালী।এর আগে রাজনীতিতে আসতেন শুধু বড় বড় জমিদার,উকিল,ব্যারিস্টার বা রায়বাহাদুর খাঁনবাহাদুর।তাদের পোশাক হয় সাহেবী অথবা চাপকান।মুখের ভাষা সব সময় ইংরেজী।কিন্তু গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত মুসলমান প্রতিনিধিরা বিধান পরিষদে নিয়ে এলেন বাংলাভাষা।লুঙ্গির উপরে পাঞ্জাবী পরে আসতেও তাঁদের দ্বিধা নেই।পশ্চিম বাংলার মুসলমানরা তো ধুতি পরে নিয়মিত।তাঁরা তাদের বক্তব্য বাংলায় পেশ করতে লাগলেন।তখন নিয়ম ছিল কোন সদস্য বাংলায় বক্তৃতা করলে তা রেকর্ড তা রেকর্ড করা হোতনা। বক্তব্যের সারাংশ ইংরেজীতে তর্জমা করে দিতে হত।তাই সই।তবু তাঁরা বাংলায় বলবেনই।বাঙালী হিন্দু নেতারা তখন খদ্দেরের ধুতি পাঞ্জাবী ধরেছেন বটে।কিন্তু বক্তৃতার সময় ইংরেজীর ফোয়ারা ছোটান।কে কি বল্লেন সেটা বড় কথা নয়।কে কত জোড়ালো ইংরেজী তুবড়ি ছোটাতে পারেন সেটাই গর্বের বিষয়।হিন্দু নেতাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা ছিল যে,সর্বসমক্ষে বাংলা বললে লোকে যদি ভাবে যে,লোকটা ইংরেজী জানেননা!শিক্ষিত মুসলমানদের বালাই নেই।যাঁরা ভালে বক্তা তাঁরাও ইংরেজী ছেড়ে প্রায়ই শুরু করতেন বাংলায়।স্বয়ং ফজলুল হক ছিলেন শিক্ষা দীক্ষায় অনেকের চেয়েই উঁচুতে,তিনি মাঝে মাঝেই ইংরেজীর বদলে শুধু বাংলা নয় একেবারে খাঁটি বরিশালী বাঙাল ভাষায় কথা বলতেও দ্বীধা করতেন না। [দ্রষ্টব্যঃ পূর্ব-পশ্চিম ১ম খণ্ডের ৯৭ নং পৃষ্ঠায়]"

যেহেতু পূর্ব বঙ্গের ঐতিহ্য এবং বাংলা ভাষাটা বাঁচাইছেন মুসলমানরাই সেহেতু তাগো ১৯৮৫ সালে আবিষ্কৃত মঙ্গোল শোভাযাত্রা দিয়া বাংলা সংস্কৃতি বিরোধী কওনের আগে ইতিহাস অবশ্য পাঠ্য।আর আপনাগো মঙ্গোল শোভাযাত্রা কি মঙ্গলের? বুকে হাত দিয়া বলেন তো মঙ্গোল শোভাযাত্রা মঙ্গলকর কিনা!এই একটা দিনে আপনারা জনগণরে রাস্তা আটকাইয়া কি ভোগান ভোগাইতে পারেন সেইটা সর্বজনবিদিত।
এইবার মঙ্গোল শোভাযাত্রা বাদ দিছে খোদ আওামিলীগই-
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার(এপ্রিল ১৩/২০১৭ ইং) ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জনগণের যাতে ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সেজন্য শোভাযাত্রা বাতিল করা হয়েছে।”[বিডিনিউজ২৪ডটকম ১৩ ই এপ্রিল ২০১৭]
কেন আওয়ামী লীগ পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বাতিল করেছে, তার ব্যাখ্যায় ওবায়দুল কাদের বলছেন, “আমাদের ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত। আমরা চিন্তা করেছি, এ ধরনের শোভাযাত্রায় জনগণের ভোগান্তি হয়। বহুদিন ধরে কোনো ধরনের র্যালি করার পক্ষে আমরা নই।"

“আমাদের নেত্রীর সংবর্ধনার বড় ধরনের আয়োজন… নেত্রী জানালেন, ‘জনগণকে ভোগান্তি দিয়ে আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই’। একই কারণে আমরা শোভাযাত্রাও বাতিল করেছি। আমরা গণভবনে নেত্রীর সঙ্গে বৈশাখী উৎসব পালন করব।… বাইরে মানুষের যেন ভোগান্তি না হয়।”
[দ্রঃঐ]
আপনারা ভোগান তাতেও কোন আপত্তি নাই কিন্তু বাংগালী মুসলমানদের শোভাযাত্রার বিরোধীতা করার কারণে মৌলবাদী,সাম্প্রদায়িক আর ঐতিহ্য বিরোধী কওনের আগে দয়া কইরা ইতিহাস পইড়েন।ইতিহাস একদিন আপনাগোও ক্ষমা করবেনা মিথ্যা অপবাদের দায়ে।

বাঙ্গালী হিন্দু মোসলমান সম্পর্ক ও সাম্প্রদায়িকতা



বাংলাদেশে যাঁরা বিভিন্ন দোহাই দিয়া হিন্দু নির্যাতনরে মুসলমান কমিউনিটির উপরে চাপাইয়া দিতে চায় তাগো দাবী-দুবীতে ঘাপলা আছে। আমি তাগো লগে এক্কেবারে একমত কেন জানি হইতে পারি না!এই দেশে হিন্দু কমিউনিটির উপরে যে অত্যাচার অনাচার হইতাছে তার লগে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে দায়ী হইলো পলিটিকস। হিন্দু নির্যাতনের জন্য পলিটিকসরে তাঁরা দায়ী না কইরা দায়ী করতাছেন মুসলমান কমিউনিটিরে? তাগো দাবী দাওয়ারে শক্ত করতে তাঁরা কিছু প্রশ্ন সাজাইয়া রাখেন। যেমন ধরেন "অ্যাভারেজ মুসলমানরা কেন হিন্দুদের মালাউন বলেন?'' "মুসলমানরা কেন হিন্দু মরলে ফী নারে জাহান্নামা বলেন?'' ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রশ্নগুলার পিছনে তাগো উদ্দেশ্য হইলো, সস্তা জনপ্রিয়তা পাইয়া আলোচনায় আসা, তাগো দুর্বল চিন্তা নতুবা তাঁরা বিদাশে বইয়া হিন্দু-মুসলিম কমিইউনিটির হালচাল না দেইখা হাপিত্তেস করতাছেন। ইন্টালেকচুয়্যাল সাজতে গিয়া তাঁরা ক্লাউন হইয়া যাচ্ছে।
তাঁরা যতই বাঙ্গালী কমিইউনিটি নিয়া বড় বড় বুলি কপচাক না কেন এখনো বাঙ্গালী হিন্দু-মোসলমানের মনের ভিতর ঢুকতে পারেন নাই। বাঙ্গালী মোসলমানের চিন্তা তাগো কাছে এখনো পরিচিত না। আমরা বাংলাদেশে হিন্দু-মোসলমান ভাই হিসাবে আছি। আমি বাঙ্গালী মোসলমান আর বাঙ্গালী হিন্দু আমার ভাই,সো আই লাভ মাই ভাই সো মাচ! একই বাড়িতে দুইটা ভাই থাকলে যেমন একটু গালাগাল ঝগড়াবিবাদ হয় তেমনি কইরা হিন্দু-মুসলমান বাস করতাছি। অ্যাভারেজ মুসলমান হিন্দুদের মালাউন মুখে বলে। মন থিকা, অ্যাভারেজ মুসলমানস না মাইনরিটিরা বলে। ওয়াজ মেহফিলে হইতে পারে এটা। ওয়াজ মেহফিলেও এখন হিন্দুদের নিয়া বিষোদগার হয় না এইটা ইন্ডিয়া না বইলা এইখানে পুলিশি হেফাজতে মেহফিল হয়। "কাফের,মোশরেক'' ইত্যাদি বলা হইতে পারে। একেবারে ডাইরেক্ট মুখে হিন্দু উচ্চারণ কইরা হয় না কইলেই চলে। মোসলমানরা যেমন হিন্দুদের "মালাউন'' মুখে বলে তেমনি হিন্দুরাও মুসলমানদের "শেখের পো'' "ন্যাড়া'' "আগাকাটা'' ইত্যাদি বলেন। এইটা তাঁরা মন থিকা বলে না, কারণ ভোর হইলেই তাঁরা আবার একই কমিইউনিটির মানুষ! তারা তো একই সোসাইটিতে ওঠাবসা করে। বিভিন্ন উপজেলায় তো এখনো একই বাড়িতে হিন্দু মুসলমান থাকে।(বরিশালের, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে এখনো দেখা যাবে)। তবে একই কমিইউনিটিতে থাইকা ক্ষেত্র বিশেষ বাঙ্গালী হিন্দুরা এমন অ্যাক্ট করে যে, মনে হয় মুসলমানরা তাগো গিইলা খাবে ভবিষ্যতে। এইটা তাগো দোষ না। এইটা পলিটিকস এর দোষ। আরো আছে কিছু অল্পে আলোচনায় আসতে চাওয়া অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট গণ লাইক অই সব প্রশ্ন তোলা লোকজন। বাংলাদেশে যতগুলা হিন্দুর বাড়ি পুড়ছে, যতগুলা হিন্দু মারা গেছে সবগুলা ফাসাদ আর হত্যার পেছনে জড়িত পলিটিকস। পলিটিশিয়ানরা হয় রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হিন্দু-মোসলমান ফাসাদের উষ্কানি দিছে নতুবা ক্ষমতার জোড়ে হিন্দুদের বাড়িঘর দখল করছে। বাঙ্গালী মুসলমানরা তো এক হিসাবে হিন্দুদের ভয় পায় যে, এদের উপর অত্যাচার করলে আইনি ভাবে ফাঁইসা যাইতে হবে। এইদিক তাকাইয়াও তাঁরা হিন্দুদের লগে মানাইয়া চলতে শিখছে। বাঙ্গালী মোসলমানরা মনে করে যে, হিন্দুদের প্রচুর টাকা পয়সা আছে। তাঁরা মাটির ভিতরেও লুকাইয়া রাখে টাকা। তাই এগো কাজের সময় এরা টাকা দিয়া মামলা চালাইবে। হিন্দু বাড়িতে আগুন, তাগো জমিজিরাত দখল অথবা হত্যা এর পেছনে পলিটিকাল একটা কালো হাত থাকে। এরা ভোট কামাইতে বিরোধী দলরে ফাঁসাইতে এমন কাজ করে, না হয় হিন্দুদের সম্পদে এর জিহ্বা লকলক করে। নতুবা বাঙ্গালী মুসলমান কর্তৃক সাহস কইরা হিন্দুদের সাথে এসব ঘৃণিত আচরণ করা অসম্ভব। যদিও বা কইরা থাকে তার সংখ্যা নগন্য। এখন আপনি বলবেন, এই নগন্যই বা কেন করতে গেলো? ভাইসাব,এই নগন্যটা করার জন্য দায়ী হইলো ভারতের হিন্দু-মোসলমান প্রেক্ষাপট। আমরা যতই ভারতরে সড়াইতে চাই না কেন,সামান্য হইলেও ভারতের রাজনৈতিক আবহাওয়া আমাগো উপর আসে। সেইটারে ট্যাকল দেওয়ার মুরোদ আমাগো রাজনীতিকদের নাই। এখন প্রেক্ষাপট হিসাব না কইরা আপনে যদি মুসলিম কমিইউনিটিরে গালমন্দ করতে থাকেন তাইলে আপনাগো কাছে আমার প্রশ্ন থাইকা যায় "মোসলমান মোল্লা নামে পরিচিত লোকগুলা যে ইদানিং আক্রমনের স্বীকার হইতাছে তাগো দায় কার?'' আপনি তখন অজুহাত খুঁজবেন। আপনের আমার চিন্তায় পার্থক্যই হইলো এই!
তবে বর্তমানে মাঝেমাঝে যে হিন্দু নির্যাতনের কথা আমরা শুনি সেইগুলার পিছনে কিছু নেংটা ইঁদুর বিদ্যমান। এই নেংটা ইঁদুরগণ ফেসবুক বা ব্লগ থিকা হিন্দু-মুসলমান লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটায়। ফেসবুকে "জয় হিন্দু'' "নয়ন অমুক'' অমুক ব্লগ তমুক ব্লগ ইত্যাদি পেজ/ব্লগের মাধ্যমে এরা প্রতারিত হয়। এঁরা একটা হয় উগ্র মন মানসিকতার মুসলমান অন্যটা হয় ভারতীয় উগ্র হিন্দু সংগঠন কর্তৃক প্রভাবিত(প্রতারিত ও বলা যায়)। অনলাইনে এরা একে অপরের দেবী-পয়গম্বর নিয়া গালিগালাজ করতে করতে ফ্যাসাদের সূত্রপাত ঘটায়। বর্তমানে এইসব সাম্প্রদায়িক ফ্যাসাদের মধ্যে ভারতীয় কয়েকটা সংগঠন আছে বইলা আমি মনে করি। যারা বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের দোহাই দিয়া ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটাইবে। তাদের পায়তারা লক্ষনীয়! আর তাদের এই প্রচেষ্টারে উস্কে দেয় ভারতীয় হাইকমিশন। কোনখানে হিন্দু নির্যাতনের খবর পাইলে বাংলাদেশ সরকার যাওয়ার আগে এরা গিয়া হাজির হয়। আমি আশ্চর্য হই যে, কোন মুসলমানের এইরকম বিপদে ভারতীয় হাই কমিশন যান না! বোধকরি তেনারা জানেনই না বা জানতে চান না। ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশের হিন্দুদের ভারতের জনগণ মনে করেন কিনা এই প্রশ্ন থাইকা যায়। আর কেনইবা ভারতীয় হাই কমিশন হিন্দুদের বাড়ি যান অন্য কোন সম্প্রদায়ের বাড়ি যান না এই প্রশ্ন কেউ তাগো করেন না। সরকার ও এই বিষয়ে চুপ থাকেন। বাংলাদেশে হিন্দু মুসলমান ফাসাদের নতুন নতুন পন্থা তৈয়ার করে আরো একটা গোষ্ঠী। এইটা হলো "হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ''। আশ্চর্য হবেন যে, এরা তিনটা একই কমিউনিটিতে থাকতে চায় আর তার থেইকা মুসলমানদের একেবারে বাদই দিছে! আমি অন্যকোন রাষ্ট্রে একক সংগঠনের কথা শুনছি কিন্তু এইরকম ৩ সম্প্রদায় নিয়া কোন সংগঠনের নাম শুনিনায়। প্রশ্ন থাইকা যায় যে তাহলে মোসলমানরা কি অপরাধ করছেন যে তাগো বাদ দিয়াই এই সাম্প্রদায়িক সংগঠন গড়া হইলো? যাইহোক। এই সংগঠনের হর্কাকর্তা আর সদস্যদের বক্তব্যও চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাইতে পারে যেকোন সময়। এরাও ফেসবুকে গ্রুপ খুইলা মুসলমানদের আক্রমণের প্লান করে এমন খবর ও আমি জানি। তাঁরা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ-ব্লগে গালাগাল দেয় ও উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করে। গরু নিয়া বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের একটা বক্তব্য আমার এখনো মনে আছে। ঐটা বিদাশে বইসা দিছিলো। কি সাম্প্রদায়িকই না ছিলো বক্তব্যটা! এদের বক্তব্য শুনলেই মনে হবে, এঁরা একটা দাঙ্গার অপেক্ষা করে সর্বদা। সরকার এই সংগঠনটা কেন বন্ধ করেন না এখনো আল্লা মালুম!
এই সংগঠনটা দাঙ্গাবাজ সদস্য দিয়া ভরা। এইটারে বাদ করা হোক।

"রোহিঙ্গা প্রলেতারিয়াত'' ইস্যু ও বাংলাদেশ এর বৌদ্ধ সম্প্রদায়


বাংলাদেশে বিদ্যমান বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে ঘৃণাবাদ ছড়াচ্ছে কারা?

বৌদ্ধরা এখন ঘুমাতে পারছেনা সাম্প্রদায়িক হামলার ভয়ে এ দায় কাদের?
এমনিতেই বৌদ্ধরা "সাম্প্রদায়িক হামলা হতে পারে' আঁচ করতে পেরে মানববন্ধন করতেছে সেইটা ঠিকআছে। একটা গ্রুপ মুসলমান সমাজকে উস্কে দিচ্ছে এই বলে যে "বৌদ্ধরা ভয়ে এইসব করতেছে, এমনিতে এরা মায়ানমারের বৌদ্ধদের মতোই, যুদ্ধ বাঁধলে এরা মায়ানমারের পক্ষ নিবে ইত্যাদি ইত্যাদি''।
ঘৃণাবাদ যারা ছড়াচ্ছে ওঁরা ভুলে যাচ্ছে যে ৭১ এ পাকিস্তানের সরকার মুসলমান তকমা ইউজ করা সত্ত্বেও "বাংলার মুসলমান'' সমাজের সাপোর্ট পায়নি এবং তাদের বিপক্ষে অস্ত্র ধরেছে বাঙালী মুসলমানেরাই। যদি মায়ানমারের সাথে যুদ্ধ হয় ও (তাদের যুক্তিতে) তাহলে এই রেসিস্টরা কীভাবে বুঝলো যে, বৌদ্ধরা মায়ানমারের পক্ষপাতিত্ব করবে?
কেন বৌদ্ধরা মায়ানমারের পক্ষ নেবে সে প্রশ্ন পরের, তবুও যদি নেয় ও তাহলে সে দায় আপনার রাষ্ট্রের। আপনার রাষ্ট্র তাদের আয়ত্বে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বা তাদের যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে।
আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছি গুজরাতের দাঙ্গার কথা যেটি ১৯৯১ এর দিকে হয়েছিলো। গুজরাতের দাঙ্গার পর বাঙালী মুসলমান সম্প্রদায়ের একটি দলকে কে বা কারা হিন্দুদের মন্দির-বাড়িঘর ইত্যাদি ধ্বংসে লেলিয়ে দিলো। আহমদ ছফার "সাম্প্রতিক বিবেচনাঃ বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'' এ আমি যখন ঐ সময়কার হিন্দুদের অবস্থা পড়লাম আমি শিহরিত হলাম! শয়ে শয়ে মন্দির ভাঙা হলো, বাড়িঘর পোড়ানো হলো। কিন্তু আদৌ গুজরাতের মুসলমানদের কোন উপকার হলো না বরংচ তাঁরা এখনো নির্যাতিত হচ্ছে ভারতে। উপরন্তু স্বদেশী হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হলো! সাম্প্রদায়িক হিসাবে বাংলাদেশ ও পরিচিতি পেলো ভারতের পাশাপাশি।
এত কথা বলার মানে এই যে, আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই "শুধুমাত্র রোহিঙ্গা নয় সিটিজেন মুসলমান ও বার্মায় আছে''। আপনি যদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৌদ্ধদের হামলা করে বা ঘৃণাবাদ ছড়িয়ে মুসলমান-বৌদ্ধদের দূরত্ব সৃষ্টি করেন তা দ্বারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের কোন উপকার হবেনা। বরংচ বার্মায় বসবাসরত অন্যান্য মুসলমান সম্প্রদায়ের ও ক্ষতি হবে। তাঁরাও সাম্প্রদায়িক হামলার স্বীকার হতে পারে। তারচে এই'ই ভালো নয় কী, স্বদেশী বৌদ্ধরাও এই গণহত্যার বিপক্ষে মানববন্ধন করুক, পৃথিবী দেখুক যে "বার্মার বৌদ্ধরা এতটাই নিচ যে তাদের একই ধর্মের লোকরাই তাদের বিপক্ষে ব্যানার হাতে নেমেছে''?
সর্বোপরি অন্য রাষ্ট্রের ইস্যু টেনে নিজ রাষ্ট্রে বসবাসরত কোন সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণাবাদ ছড়ানো এক প্রকার ফ্যাসিজম! এমন সঙ্কটাবস্থায় সংগ্রাম নিজদেশের অসহায় সম্প্রদায়ের সাথে নয়, সংগ্রাম করতে হবে শত্রু শ্রেণীর সাথে। "রোহিঙ্গা প্রলেতারিয়াত'' ইস্যুতে আমাদের শত্রু পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বৌদ্ধরা নয়, আমাদের শত্রু বরংচ মায়ানমারে যারা রোহিঙ্গাদের প্রতি বর্বরতা প্রদর্শন করেছে তাঁরা।

মহান আম্রিকা



সম্প্রতি কিছু মানুষের দেখা পাই আমরা। যারা আম্রিকার সুরে কথা কয়। তাগো মতে আমরা আইলসা আর আম্রিকানরা কাজ করতে করতে মইরা যায়। আম্রিকা উন্নত আমরা অধম অমুকরে তমুকরে, টুইনটাওয়ার জঙ্গীরা ধ্বংস করছে ইত্যাদি...........
অর্থাৎ আমরা বাঙালীরা কেন আম্রিকান হচ্ছিনা, আমরা আইলসা, আমরা সব খারাপের মূল। আর আম্রিকা হইতাছে পূজনীয় মাল, তাগো দেবতার আসনে বসাইয়া পূজা করতে হবে। আমাগোর ফলো করতে হবে। আমরাতো জাতে মুসলমান আর এ জন্যই আম্রিকারে ফলো না কইরা আমাগো আর মধ্যপ্রাচ্য থেইকা জঙ্গী পয়দা হচ্ছে, মাথা উঁচা কইরা উন্নততর জাতী হইতে হলে আমাগো আম্রিকারে ফলো করতে হবে, ইত্যাদি তাগো মূল বয়ানে বিভিন্নভাবে সবক দিতে চাচ্ছেন তেনারা।

ওনারা কী গিলতাছে বা কী গিইলা আইসা অন্যর সাথে তর্ক করতে আসে। এইগুলার স্বরূপ কী? আমাগো জানা উচিৎ। "আম্রিকার মুখে '' কথা বইলা ওনারা বেশ নিজেগো প্রগতিশীল ভাবতে শুরু করছে আর এজন্য ওনাদের লজ্জা করে না। এগো লজ্জা অবশ্য কম থাকে। এরা সেই প্রকৃতির থিওরী দাতা যারা মনে করেন "পৃথিবীতে অনলি দুইটা শ্রেণী আছে। তাঁরা হইলেন উচ্চবিত্ত, বুর্জোয়া আর পেটিবুর্জোয়া। '' আরো যে কয়েকটা শ্রেণী থাকা দরকার বা আছে তা তাগো জানার বাইরে থাকে বা সেদিকে নজর যায় না। আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়ার অলস উৎপাদন অক্ষম হয় এইটা তাঁরা ঠিক বলেন, কেননা তাদের গবেষণা চলে এই ৩ টা শ্রেণী নিয়া। তাগো লিস্ট থিকা বাদ যায় "প্রলেতারিয়াত শ্রমিকশ্রেণী''। যারা কিনা দুইবেলা খাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁরাই দেশের প্রধান উৎপাদক। অথচ তাদের নিয়া কোন গবেষণা চলে না, তাগো উন্নতি কিভাবে করা যায় এই নিউ গবেষকরা তা ভাবেও না। অথচ গালাগালির সময় বাঙালীর চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার কইরা ফেলতে তেনারা ভালোবাসেন বা আনন্দ পান।
আর আম্রিকা বিষয়ে তাগো বয়ান লেখালেখি দেখলেই ইচ্ছা হয় জিগাইতে "আম্রিকান পলিটিকস'' সম্বন্ধে উনারা কতদূর কী জানেটানে! আম্রিকা থাইকাও পলিটিকস বোঝে না খোদ আম্রিকান পিপলসরাই। তাই মাঝেমধ্যে তাঁরা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব গিইলা স্বাধীনচেতা ইরাক, সিরিয়া, লেবানিজ আর প্যালেস্টাইনিয়ানদের গালাগালি করেন। কেননা তাঁরা হোয়াইট হাউজ, বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদদী প্রতিষ্ঠান আর এমবেডেড মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন। যখন আম্রিকান পিপলসরাই আম্রিকার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন তখন আমাদের এই অতি প্রগতিশীলরাও একই সাথে দেশীয় এমবেডেড মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন; বিবিসি, সিএনএন, ডেইলিমেইল বিবিধ পত্রিকায় ইরাকে হামলার ব্যাপারে যখন রিপোর্ট করে এইরকম "সিরিয়ায় আইএসএস এর ঘাটি লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফায় বোমা হামলা! নিহত ৫০ আইএস জঙ্গী, আহত ৮০!'' আমাদের দেশীয় পত্রিকার রিপোর্ট ও হুবহু এইরকম হয়। কিন্তু যখন আপনি যখন ঐ হামলার ভিডিও দেখবেন কোন সঠিক সূত্রে বা ভালোভাবে হামলার খোঁজ নিবেন তখন দেখবেন হামলার স্থানটি ছিলো একটা হসপিটাল এবং ওখানের সব ছিলো বেসামরিক নাগরিক! তাহলে কী দাঁড়ালো? আমাদের পত্রিকা এমবেডেড মিডিয়া গুলারে সোর্স হিসাবে নিচ্ছে! কেন নিচ্ছে? আপনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন দেশীয় পত্রিকাওয়ালারা হুবহু খবরের জন্য মাসোহারা পান সাম্রাজ্যবাদী কোন না কোন প্রতিষ্ঠান থিকা। এবং এরাও আম্রিকার এমবেডেড মিডিয়া হিসাবে কাজ করে। আম্রিকা খুব ধূর্ত আপনার বুঝতে হবে। কিভাবে এরা বাজারে টিইকা থাকে আপনার পলিটিকস বুঝতে হবে। আম্রিকার পলিটিকস উপলব্ধি করতে হইলে আপনারে আম্রিকার পেছনের-সামনের মধ্যের সবকিছুর ইতিহাস আগে দেখতে হবে। ইতিহাস রাষ্ট্রের পলিটিকস এর বাহক। আপনার রাষ্ট্রের ইতিহাস পাঠ করে আপনার রাষ্ট্রের পলিটিকস এর ভবিতব্য কিছুটা আন্দাজ করা যাবে।

৩.
আর আমাগোর ভেকধরা প্রগতিশীলমনারা অন্য কী বলে, ইতিহাস কী বলে সেইটা ওনারা দেখবেনা। এইটা ওনাগো দোষ। আম্রিকা যা প্রচার করে, এমবেডেড মিডিয়া আর সাম্রাজ্যবাদীদের পাচাটা বুদ্ধিজীবিরা কী কইলো তাতেই ওনাগো সই! সাম্রাজ্যবাদী আম্রিকা যে কী কইরা এতো উন্নত হইলো, কাগো মাথা চিবাইয়া এতো উন্নত সেইটা ওনারা জানে না। ওনারা প্রশ্ন করতে শিখেনাই "কেন আমাগো ১ টাকার মূল্য ১ টাকা হইলেও আমাগো দেশে আম্রিকার ১ টাকার মূল্য ৮০ টাকা? কিংবা ইন্টারনেট অ্যাডভারটাইজমেন্টস এ কেন আমাগো এক ক্লিকের মূল্য ১ সেন্ট এর কম হইলেও একজন আম্রিকানের ক্লিক মূল্য ১৫-২০ সেন্ট?''
ওনারা আসে শ্রমে-শ্রমে তুলনা দিতে! আর শ্রম নিয়া বয়ান দিতে! "আম্রিকা'' নিজেরে বাজারে টিকিয়ে রাখতে বা সম্রাজ্য লাভ করা ইত্যাদি সবকিছু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অন্যর রক্ত ঝড়ানোর মাধ্যমে। আম্রিকার পেছনের কথা আমাগোর ভেকধরা প্রগতিশীলরা জানে না বইলাই সাম্রাজ্যবাদী আম্রিকার লগে আমাগো তুলনা দিতে আসে। তুলনার আগে ইতাহাস থিকা আম্রিকারে প্রশ্ন করতে হবেঃ
ক) কেন আম্রিকা ইরাকের লগে ফাও যুদ্ধ করলো? এর মূলত কারণ কী? তাবৎ পৃথিবী বিশ্বাস করে না যে ইরাক আম্রিকায় বোমা হামলার যোগ্যতা রাখে। একমাত্র আম্রিকাই এইটা কেন বিশ্বাস কইরা ইরাকে হামলা করলো। কেন করলো? কারণ কী? কেন লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহ হারা করলো? কেন হাজার হাজার নারী শিশু হত্যা করলো? আম্রিকা যেইটা ভাববে সেইটাই কী শেষ ভাবা না তাইলে? আর গায়ের জোড়ে ভাইবা আক্রমণটাই কী সাম্রাজ্যবাদ এর চিহ্ন না? তাইলে আম্রিকা কাগো রক্ত পিইয়ে উন্নত হইতে লাগলো? [নোম চমস্কির সাক্ষাৎকার নিয়া বই "ইম্পেরিয়াল অ্যাম্বিশনে'' চমস্কি বলেন ; হিটলারের চেয়েও কম বিশ্বাসযোগ্য ছিলো আম্রিকার ইরাক আক্রমণ। ]
বিভিন্ন ইস্যু সাজাইয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের মাথা চিবাইয়া হালের রাজা সাইজা আছে আম্রিকা। এখন সে অর্ধ পৃথিবীতে তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করছে। প্রায় দেড়শ বছর আগে আম্রিকা টেক্সাস ও মেক্সিকোর উপর কর্তৃত্ব গ্রহণ করছিলো। কারণ কী? কারণ সেই সময় তুলা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আর টেক্সাসে তুলা সবচে বেশি হইতো। আম্রিকা টেক্সাসরে সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে নিলো এই জন্য যে, তুলার একচ্ছত্র অধিকার গ্রহণ করতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারে। এইভাবে যারা যখন সম্পদের মালিক হইলো, আম্রিকা তাগো উপর জোড় কইরা কর্তৃত্ব খাটাইয়া একচ্ছত্র মালিক বনে যাইতে লাগলো। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদ বলতে বা যুদ্ধবাজ বলতে আমরা শুধুমাত্র বুঝি ক্লিন্টন, বুশ, ট্রাম্প প্রমুখরে। মূলত আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদ মানেই শুধুমাত্র ট্রাম্প, বুশ বা ক্লিন্টন না। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদের পিছনে আছে কিছু প্রতিষ্ঠান তা রাষ্ট্র ও হইতে পারে কিংবা প্রতিষ্ঠান, যাঁরা কিনা সর্বাত্মকভাবে হেল্প করে আমেরিকারে যুদ্ধ ফাসাদ আর অন্যের সম্পদ অবৈধ দখলের জন্য। বাজার ঠিক রাখতে আম্রিকা যত অমানবিক কাজ আছে অনায়াসে করতে পারে। তাতে জাতীসংঘ ও মাথা গলানোর মুরোদ রাখে না! মোদ্দাকথা আম্রিকা একটা খামখেয়ালি মোড়ল হইয়া রাষ্ট্রসমূহের মাথা চিবুচ্ছে। জাতীসংঘ-ফাতিসংঘের চান্স নাই এখানে।
খ) জন.এফ কেনেডি যারে মনীষীরূপে জ্ঞান করা হয়, তিনি কেন কিউবায় হাজার হাজার মানুষরে হত্যা করলেন তা নিয়া কখনো প্রশ্ন না কইরা সেইটা মাটি চাপা রাখা হইলো কেন? আম্রিকার স্বরূপ প্রকাশিত হইবো বইলা? কিউবার হামলার কারণটা কী ছিলো? নিজেগো সাম্রাজ্যবাদরে প্রতিষ্ঠিত করতে নয় কী? তাইলে আম্রিকা রক্ত খাইলো না?
গ) আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে গায়ের জোড়ে আম্রিকা প্রথম পারমাণবিক বোমা ইয়্যুজ করলো হিরোশিমার নাগসিকায়! এই গায়ের জোড় কী সাম্রাজ্যবাদ না? লক্ষ মানুষ কী মারেনাই আম্রিকা? ৪
তাগো শ্রম লাগে না এমনিতেই বইসা বইসা মুনফা আসে। অবৈধভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্ররে তেল দিতে বাধ্য করছে তারা। তেল নিয়া ছলাকলা করলেই তার উপরে চড়াও হইছে আম্রিকা এবং শেষ পরিণামে রাষ্ট্রগুলা ধ্বংস করছে বোমা মাইরা, রাষ্ট্রে পলিটিকাল কোন্দল বাঁধাইয়া আরো কত কী কইরা। আম্রিকা তারেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বইলা আখ্যা দিছে যারা কিনা আম্রিকার আক্রমণের হাত থেইকা রক্ষা পাওনের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তাইলে আম্রিকা নিজের শ্রম খাটাইয়া কী বড় হইছে? নাকি সাম্রাজ্যবাদরে পুঁজি কইরা? তারপরও আমরা আমাগো প্রগতিশীল গো কাছে অলস! কারণ আমরা তো আর আম্রিকার মতো সাম্রাজ্যবাদী হইতে পারিনাই। অামাগো তাঁরা (নয়া প্রগতিশীলরা) অলস বইলা তিরষ্কার করে। আচ্ছা এত যে তাঁরা অলস অলস করেন আমাগো- কাজ না থাকলে কী করবে বাঙালী মানুষ? শ্রম আছে কারখানা নাই। শ্রমিকরে কর্মসংস্থান / কারখানা দেন। ধনী গরীবের পার্থক্য লোপ করেন। বড়লোকী কইরা আইসা অলস বলা যাবে ঠিকই কিন্তু এদের কাতারে আইসা নেতৃত্ব দেওয়ার মুরোদ আছে কী ডিয়ার?
এরপর ও তাঁরা বলেন যে আমরা নাকি শাক দিয়া মাছ ঢাকতেছি! মানে ঐ টুইনটাওয়ার হামলা নাকি ইরাক বা সাদ্দাম দ্বারা হইছে।
আম্রিকায় ভূরি-ভূরি কর্মসংস্থান আছে আর তাগো মজুরি হইলো উচ্চমানের মজুরি। আমাগো শ্রমিকের মজুরি সেই অনুপাতে কিছুই না বললেও হয় না। আমাদের দেশে সিংহ ভাগের দৈনিক আয় হইলো ২ ডলার। আমাগো শ্রমিকদের সাথে বুর্জোয়ারা যারপরনাই খামখেয়ালিপনা করতেছে। তাঁরা(বুর্জোয়ারা) এত বেশি পরিমাণ উপার্জন করতেছে যে, সেই অনুপাতে শ্রমিকদের পিছনে অত্যন্ত, অত্যন্ত, অত্যন্ত কম ব্যয় করতেছেন! অল্পদামে শ্রম কিইনা বুর্জোয়ারা বেশি বেশি মুনফা অর্জন করতেছেন আর সেইটার প্রতিবাদ না করায় বুর্জোয়ারা ক্রমশ সুদখোর মহাজনদের আব্বা মহাজনের মতো মুনফাখোর হইয়া উঠতেছে। আবার মুনফাখোর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা বেতন বাড়াইনার আন্দোলন করলে সেইখানে সরকারী শেল্টারে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হয়! বলা যায় আমরা বুর্জোয়াতন্ত্রে আছি....
তো আমাদের "পাতি/অতি প্রগতিশীল'' জনাবরা সেই শ্রমিকদের পাশে আইসা দাঁড়াইছেন কখনো? তাঁরা তো ভাই অলস না! মূলত যারা অলস অলস কইরা বাঙালীগো গালিগালাজ করেন তেনারা ঐ চিল্লা পাল্লা আর গালি-গালাজের মুরোদটুকুই রাখেন। বাস্তবে এরা ভারতের ভাষায় অষ্টরম্ভা! ৭ নাইন ইলেভেন ইস্যুতে আমরা যখন বলি "এইটা বুশের একটা চাল ছিলো টিইকা থাকনের আর ইরাকের তেল মাগনা পাওনের। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদী খোলসের একটা রূপ মাত্র এইটা''! তখন ওনারা বলেন "উইকিপিডিয়া তে ১১ ই সেপ্টেম্বর নিয়া অমুক তথ্য আছে, উইকিপিডিয়া তে তমুক তথ্য আছে!'' এ যেন উইকি সব কথার মানদণ্ড। আর উইকি যেটা বলছে সেইটাই শেষ দলিল! উইকি সব লিগ্যাল তথ্য দেয়? উইকির FAQ পড়ছেন যারা তারা নিশ্চই জানেন যে, উইকিতে স্বীকার করে যে "তাদের সব তথ্য সঠিক নাও হইতে পারে।
অথচ জঙ্গী কিভাবে তৈয়ার হইলো তার খোঁজ নিবে না। কয়েকদিন পর তাঁরা এমবেডেড জার্নালিজমের বদৌলতে ইরানরেও জঙ্গী বলবেন সেইটা দেখনোর অপেক্ষায় আছি। মাশাল্লাহ চালায়ে যাক না তাঁরা। তাঁরা তাগোর পেছনে অনেকে আছেন যারা ক্যাটাগরিতে উচ্চবিত্ত আর প্রলেতারিয়াত+স্বাধীনচেতাদের গালাগালি করে সকালের নাস্তা খান। বাঁইচা থাকেন গলাবাজদের লগেই তাগো শ্রেণী সংগ্রাম হবে।
এরপর ও অনেকে বলেন উইকিরে বিশ্বাস করা যায় এর সিংহ ভাগই নাকি সত্য! তাঁরা মনে করে, আমরা অনলাইনে আইসা উইকি টুইকি দেখি না, তাঁরাই দেখেন! আপনি কী মনে করছেন আমি ঐসব জনাব, উইকি-টুইকি না দেইখা আপনার লগে ফাও তর্ক করতে আসছি? উইকিরে রেফারেন্স হিসাবে আপনি টানলে অনেক কিছু আপনের বিশ্বাস করতে হবে যা একদম অবাস্তব।
শাক দিয়া মাছ ঢাকবো কী পাঠককূল? তাগো দূর্বলতা তাঁরা স্বীকার করেন যে ; তাঁরা যেইটুক জানেন সেইটুক বলছেন, আম্রিকার এমবেডেড জার্নালিজম তাঁদের যেটুক গিলাইছে তাঁরা সেইটুক ঠোঁটস্থ করছেন। এর বাইরে জানার সুযোগ তাগোর এখনো হয়নাই বা ইচ্ছা করেই জানেন নাই। ৯/১১ তো ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস "নতুন নিরাপত্তা কৌশল'' ঘোষণার আগে ৯০% আম্রিকান বিশ্বাস করতো না যে "এইটা ইরাকের বা সাদ্দাম হুসেনের শক্তি আছে এই পর্যায়ের''। সেপ্টেম্বরে তাঁরা এমবেডেড জার্নালিজম এর মিডিয়াবাজ, বুদ্ধিজীবি ইত্যাদির দ্বারা এমন পর্যায়ে ৯/১১ নিলো যখন পুরা আম্রিকারে ভীত কইরা ফালানো হইলো যে "এই রকম হামলা ভবিষ্যতে আরো হবে''!
মানুষরে জোড় করে ইরাকরে ভয় পাওয়াইতে শুরু করা হলো এমনভাবে যে; তখন ৬০% আম্রিকান বিশ্বাস করা শুরু করলো এইটা ইরাকের কাজ। আর এখন পুরা বিশ্বের হুজুগেরা বিশ্বাস করে যে এইটা "ইরাক বা সাদ্দামের কাজ''! কুয়েত ও ইরান যাগো ইরাক আক্রমণ করছিলো, তাঁরা ইরাকরে হুমকি মনে করলো না। ইসরায়েলের দিকে তাক কইরা ইরাক জায়ান্ট কামান বানাইতে চেষ্টা করলো সেই ইসরায়েলরে ইরাক আক্রমণ করলোনা। তাঁদের(ভেক ধরা প্রগতিশীলদের) জঙ্গী আক্ষ্যা দেওয়া সেই ইরাক আক্রমণ করলো আম্রিকার টুইন টাওয়ার? বড্ড ফূর্তির কথা না ভাই?
স্বাধীনচেতাগো তাঁরা জঙ্গী কইবেন আম্রিকার গলায়। বড়লোকী কইরা বাঙালীগো বলবেন অলস (কেননা তাঁরা বাঙালী মানুষ বলতে শুধু বোঝেন উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তরে) অথচ গলাবাজরা প্রলেতারিয়াত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান / কারখানা দিবেন না অালসেমী ভাঙতে! উইকি যা বলে তা দিয়া তাঁরা নাইন ইলেভেন ইস্যু টাইনা ইরাকরে বলবেন জঙ্গী!

ঠাকুরপারা এবং একটি সাম্প্রদায়িকতার উত্থান


গত ১০ ই নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার জুমুআর নামাজের পরে ধর্ম নিয়ে কটুক্তির দায়ে রংপুর গঙ্গচড়া থানার ঠাকুর বাড়িতে হামলা করে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এর ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় একদল মুসল্লি। বিডিনিউজ, বিবিসি, যুগান্তর ও কালেরকন্ঠের বরাতে এ পর্যন্ত যতদূর জেনেছি ঘটনাটি ঘটেছে কোন একক ব্যক্তির কারণে। ঘটনার সাথে পুরো ঠাকুরবাড়ি জড়িত তো নয়ই উপরন্তু পুলিশের গুলিতে হাবিবুর রহমান নামে একজন মুসল্লি নিহত ও ১১ জন মুসল্লি হয়েছেন।
"শুক্রবার জুমার নামাজের পর হঠাৎ স্থানীয় কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এসে রাস্তা অবরোধ করেছে। একটি মিছিলের বড় অংশ গিয়ে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণ করে। হিন্দু পাড়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ তখন বাধা দেয়। বাধা না মেনে যখন তারা দুএকটি বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে, তখন পুলিশ শটগানের গুলি চালায়।"
[ বিবিসি :১১ ই নভেম্বর ]
ধর্মাবমননাকারী মানে মূল দায়ী ব্যক্তিও এই লেখাটি লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি যাতে ঘটনাটি আরো ঘোলাটে হয় এবং ওই গ্রামে ধর্মাবমাননাকারী বর্তমানে থাকছেন ও না তিনি ঠাকুর পারার বাসিন্দা মাত্র। তিনি থাকেন অন্যত্র:
"পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লার একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন টিটু রায়। থাকেন সেখানেই। তিনি পাগলাপীর ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। '' [কালেরকন্ঠঃhttp://www.kalerkantho.com/online/national/2017/11/10/563904 ]
প্রাপ্ত খবর সমূহ থেকে ঘটনাটি কোনন কারণে ঘটে তা জানা যাক। মূল ঘটনাটি জানার জন্য আমি ৪টি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের সহায়তা নিয়েছি। খবর ২ টির প্রামাণ্য লিংক সহ নিচে উদ্বৃত করা হোলো। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম লিখেছে,
"গঙ্গাচড়া থানার ওসি জিন্নাত আলী বলেন, ঠাকুরপাড়ার এক যুবক গত সপ্তাহে তার ফেইসবুক পেইজ ধর্ম অবমাননামূলক ছবি পোস্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ''[বিডিনিউজঃhttp://m.bdnews24.com/samagrabangladesh/detail/home/1419556]
বিবিসি লিখেছে,"পুলিশ বলছে, ঐ হিন্দু গ্রামের একজন ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননামূলক পোস্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে সেখানে হামলা করা হয়। পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিবিসি বাংলাকে জানান, যার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেই টিটু রায়ের বাড়ি গঙ্গাচড়ার ঠাকুরবাড়ি গ্রামে হলেও তিনি সেখানে থাকেনা। নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন।টিটু রায়ের কথিত এক ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সেখানে কদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। কয়েকদিন আগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে এ নিয়ে একটি মামলাও করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ আসামীকে ধরা হবে বলে কথা দেন।ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, "শুক্রবার জুমার নামাজের পর হঠাৎ স্থানীয় কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এসে রাস্তা অবরোধ করেছে। একটি মিছিলের বড় অংশ গিয়ে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণ করে। হিন্দু পাড়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ তখন বাধা দেয়। বাধা না মেনে যখন তারা দুএকটি বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে, তখন পুলিশ শটগানের গুলি চালায়।খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, পুলিশের গুলিতে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন বলে তারা খবর পাচ্ছেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।তিনি জানান হামলাকারীদের সংখ্যা ছিল কয়েকশো।''[বিবিসিঃhttp://www.bbc.com/bengali/news-41945538]
আমরা প্রাপ্ত খবর সমূহতে স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি, ফেসবুকে ব্লাসফেমী করেছে টিটু রায় নামক কোন একক ব্যক্তি। এর সাথে না জড়িত গঙ্গাচড়ার আক্রান্ত ঐ হিন্দু সম্প্রদায়, না জড়িত টিটু নামক ঐ ব্যক্তির পরিবার। তাহলে দেখা যায় যারা জড়িত নয় তাঁদের আক্রমণ করা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন নয় মানবাধিকার লঙ্ঘন এর চরম পর্যায়! হিন্দু বাড়িতে হামলা করা হয় হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কে অবমাননা করার দায়। উল্লেখযোগ্য হলো, [ক] যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর কোন অবমাননা করেননি। এমনকি আক্রমণের আগে টিটু রায়ের ঐ অবমাননাকর স্ট্যাটাসের সমার্থক ও তাঁরা ছিলেন না। [খ] পুলিশ শুধুমাত্র টিটুকে ধরার আশা দিয়েছিলো, কিন্তু ঘটনা ঘটার আগে তাঁরা ঘটনাটি আমলে নেয়নি বা নিতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং ঘটনার আগেই তাঁরা আচ করতে পেরেছিলেন কেননা সাম্প্রদায়িকতার আগুনে ৫ দিন ধরে দাহ্য কাঠখড় দেয়া হচ্ছিলো। ৫ দিন ঘটনাটি গোল পাকানো সত্ত্বেও মুসল্লিদের এরা কন্ট্রোলে রাখতে ব্যর্থ হন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দানেও তাঁরা সম্পূর্ণ রূপে নিজেদের ব্যর্থতার পরিচয় দেন। উল্লেখ্য, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ২০১৭ নভেম্বর ১০ শুক্রবার দুপুরেও চাঁদপুর পুলিশ লাইন্সে নবনির্মিত গেইট ও মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।'' [কালেরকন্ঠ] বিদেশিদের আর কি দোষ? তাঁরা তো আর দেশের অভ্যান্তরিন খোঁজখবর রাখেন না, বড়জোড় জঙ্গী দমনের খবর শোনেন বা দেখেন। আর বিদেশিদের খুশি রাখার মূল ফর্মূলাই হলো "ইসলামি জঙ্গী'' দমন। পুলিশ দেশের আইন শৃঙ্খলা, পরিস্থিতি দমনে এতটাই পারফেক্ট যে পরিস্থিতি যাইহোক ওনারা রাইফেল তাক করে গুলি ছুড়তে কিঞ্চিৎ অপেক্ষা করেন না! রংপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেই ওনারা সরাসরি বুলেট ব্যবহার করেছেন এবং ওনাদের বুলেটের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে ও বেশ কিছু লোক আহত ও হয়েছেন! আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই যে, এই মৃত্যু জবাবদিহিতাও করতে হবে না তাদের! শ্রেফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা বলে পাশ কাটিয়ে যাবেন বা গেছেন। এবং তাদের টিটুকে ধরতে ব্যর্থ হওয়ার ফলাফল ১০ ই নভেম্বরের ঘটনা। [গ] যে মুসল্লিরা হামলা করেছে তাঁরা ধর্ম (কোরান, হাদীস, ইজমা, কিয়াস) বা ইসালামী ব্লাসফেমি সম্বন্ধে সামান্যতম ধারণাও রাখে না। বাঙালী মোসলমানের সমস্যা হলো তাঁরা প্রচণ্ড সাম্প্রদায়িক মনোভাবের সাম্প্রদায়িকতা এদের চরিত্রগত। এবং ধর্মের নামে তাঁরা অধিকাংশ সময়ই সাম্প্রদায়িকতা চর্চা করে এবং তাদের চিন্তা শক্তি একেবারে নিম্ন লেভেল এর দার্শনিক অবস্থান একই। যার দরুন আগপাছ না ভেবে বা ধর্মে কী বল্ল না বল্ল তার দিকে দৃষ্টিপাত না করেই তাদের সাম্প্রদায়িক, কমজ্ঞান চরিত্রের উন্মেষ ঘটায়। ঘটনাপ্রবাহের চিন্তা নেই। পাশাপাশি ইসলাম বিষয়ে অতটা না জানায় তাঁরা সাম্প্রদায়িকতাকে পাশ কাটিয়ে এখনো ভালো মুসলমান হতে পারেনি। এরা না করেছে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ, না পেরেছে চরিত্রগত সাম্প্রদায়িকতা ঝাড়তে। তাঁরা মুখে মুখে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের গান গায়, কিন্তু তাদের চরিত্র সম্পূর্ণ রূপে ইসলাম ধর্ম কে কলুষিত করে। ইসলাম কখনোই বলে না "অন্য সম্প্রদায়ের কোন একক ব্যক্তি যদি অাল্লাহ্, পয়গম্বরদের অবমাননা করে তবে ঐ সম্প্রদায়ের সকল ব্যক্তি এর দায় বহন করবে।'' খৃষ্ট ধর্মের মতো ইসলামে "পিতা পুত্রের পাপের দায়ভার নিবে '' এমন কোন সিস্টেম নাই। উপরন্তু ইসলাম বলে একমাত্র অপরাধীর শাস্তি হোক। এবং সে শাস্তির ভার বহন করবে রাষ্ট্র, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নও। ব্লাসফেমির ক্ষেত্রে ইসলাম আপেডেটেড না হলেও "ব্যক্তির দায় গোষ্ঠীর ওপর'' এমন ব্যাকডেটেড ও নয়। কোরানে ব্লাসফেমি নিয়ে দুটো আয়াত উল্লেখযোগ্যঃ "যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পা-সমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু। ” [সূরা মায়েদা:৩৩] (আয়াতটির যেখানে "যারা'' ব্যবহার করেছে ওখানে বিভ্রান্তিতে পরলে জেনে রাখা ভালো, ওখানে একক ব্যক্তি হলে একক ব্যক্তি। ২জন হলে ২ জন। ২ জনার বেশি হলে দুজনার বেশি।) তবে আল্লাহ্ শুধুমাত্র এদের (ব্লাসফেমিকারীদের) শাস্তির কথায়ই উল্লেখ করেনি। আল্লাহ্ এদের ভুল স্বীকার করার ও সুযোগ দিয়েছেন উপরের উদ্বৃত আয়াতে এটা খোলাখুলি বলা হয়েছে "কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু। '' যদি এরা ভুল স্বীকার করে তাহলে এদের শাস্তি রদ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আরেকটি আয়াতে এটা স্পষ্টঃ “ নিঃসন্দেহে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয় - আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে এবং পরকালে অভিশাপ দেন, এবং তাদের জন্য অবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। যদি এই প্রতারকেরা , আর ঐ সব লোকেরা যাদের অন্তরে কলুষতা আছে, এবং ঐ সকল লোকেরা যারা শহরে মিথ্যা সংবাদ রটিয়ে থাকে তারা, (তাদের এসব কাজ থেকে) বিরত না হয়, তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে তাদের উপর শক্তিশালী করে দেবো: এরপর তারা শহরে আপনার কাছে অতি অল্পকালই অবস্থান করতে পারবে: তারা তাদের নিজেদেরকে অভিশপ্ত অবস্থায় পাবে: যেখানে তাদের পাওয়া যাবে, তাদেরকে আটক করা হবে এবং মারধর করা হবে (নির্দয়ভাবে)। ”[ সূরা আল-আহযাব ৫৭-৬১] লক্ষ্য করুন, "এবং ঐ সকল লোকেরা যারা শহরে মিথ্যা সংবাদ রটিয়ে থাকে তারা, (তাদের এসব কাজ থেকে) বিরত না হয়, তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে তাদের উপর শক্তিশালী করে দেবো'' এখানে ঐ সকল লোকদের বিরত থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাহলে টিটু রায় নামক লোকটিকেও প্রথমবার আক্রমণ করলে সেটা বৈধ হতো কিনা প্রশ্ন থেকে যায়। উপরন্তু তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ দেয়া যাবে। সে যাইহোক আলোচ্য বিষয়ে আসি। টিটুর ফেসবুক আইডি থেকে যে পোস্টটি দেয়া হয়েছে পোস্টটির দায়ভার কোনভাবেই ঠাকুরপারা নিবে না। এর একমাত্র দায়ভার টিটুর। জবাবদিহিতাও টিটু করবে। কিন্তু টিটুকে ধরতে পুলিশ দেরী করায় ঠাকুর পারা পোড়ানোর ঘটনাটি ঘটেছে। টিটুকে যদি পুলিশ তখনই গ্রেপ্তার করে চলমান আইনের আওতায় আনতো তবে মুসল্লিদের সাম্প্রদায়িক হামলার ইন্ধন যোগানোর পেছনের প্লেয়াররা এই পিছু হটতো। [ঘ] স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য বিষয়টি ঘটার আগে জানতেন না। বিষয়টি পাঁচদিন গোল পাকালেও। [ঙ] টিটু অশিক্ষিত। টিটু পড়ালেখা জানে না। ভাবতে পারেন, আক্রান্ত মানুষগুলো ঠিক কতটা অসহায় হয়? বাংলাদেশের বা বিশ্বের সংখ্যালঘুরা এখন রাজনৈতিক কারণে অসহায়। আর রংপুরের ঘটনাটা তার আরো একটা বড় উদাহরণ। নিছক ধর্মাবমাননার জন্য একটা সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়না এর পেছনে অবশ্যই পলিটিকস জড়িত থাকে। রংপুরের ঘটনায় সন্দেহের তালিকাতে রাজনীতিই থাকে। বর্তমানে ভাত আনতে পান্তা ফুড়ানোর বাজারে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের ইন্ধন ছাড়া নীরিহ মুসল্লি কর্তৃক নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আক্রমণ একটি অবিশ্বাস্য ও আষাঢ়ে গল্প ছাড়া আর কিছু নয়। সবচেয়ে বেশি ২টি বিষয়ের ওপর আমাদের সন্দেহের দৃষ্টি নিক্ষেপ করা যাক:
  • [১] বিষয়টি নিয়ে ৫ দিন ধরে এলাকায় বোঝাপড়া চলেছে। এমনকি থানায় এটি নিয়ে একটি মামলাও হয়েছে টিটুর বিরূদ্ধে। অথচ এই বিষয়টি নাকি স্থানীয় মোড়ল শ্রেণী অর্থাৎ স্থানীয় নেতাদের কাছে গেছেন । স্থানীয় গণ্য নেতারা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জানেন না!

[২] টিটু পড়ালেখাই জানে না [যুগান্তর]


প্রথমত, যদি ৫ দিন এই বিষয়টিকে নিয়ে তালগোল পাকানো হয় তাহলে স্থানীয় গণমান্য নেতা ও সংসদ সদস্য জানেন না এটি নিছক কৌতুক বৈ আর কী হতে পারে?
দ্বিতীয়ত, টিটু যদি পড়ালেখাই না জানে তবে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কে বা কারা এই কাজটি করেছে, তাদের ফায়দা কী? এসব এখন কোটি ডলারের প্রশ্ন! এই সংঘবদ্ধ মুসল্লিদের কে বা কারা পিছনে সংঘবদ্ধ ইন্ধনদাতা হিসাবে ছিলো সেটা জানা এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এ হামলার দরুন সবচে উপকার পেয়েছে ঐ সংঘবদ্ধ ইন্ধনদাতা গোষ্ঠী। ভারত এবং বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতগুলো সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে তার পিছনে একটা না একটা রাজনৈতিক দলের হাত ছিলোই! হয় তারা সরাসরি হামলায় ইন্ধন যোগায় নতুবা মুখবুজে হামলার সমর্থন দেয়। সাম্প্রদায়িক হামলা শুধুমাত্র ধর্মের কারণেই সৃষ্টি হয় না এর পিছনে জড়িত থাকে বিভিন্ন ইস্যু। এর শুরু হয় ধর্মকে পুঁজি করে এবং অবশ্যই সংখ্যাগুরু যাতে অধিকাংশের সমার্থন পাওয়ায় কোন অসুবিধারই সৃষ্টি না হয়। আমরা যদি বাবরি মসজিদ নিয়ে দাঙ্গার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, ওপারে দাঙ্গার সংখ্যাগরিষ্টদের হোতা ছিলো বিজেপি এবং এপারে সংখ্যাগরিষ্টদের সমার্থন হারনোর ভয়ে দুটো প্রধান রাজনৈতিক দলই মুখে কুলুপ সেটে ছিলেন! ব্লাসফেমি সৃষ্টির ইতিহাসে রাজনীতির ছড়াছড়ি। ব্লাসফেমির ইতিহাসে দেখা যায় এর উদ্ভব হয়, অত্যাচারী সামন্ত রাজাদের এবং চার্চের যাজকদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছেন বা আঙুল তুলেছেন তাদের রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে একেবারে খুন করার মাধ্যমে। যাজকরা এবং রাজারা তাদের প্রভাবের বিপক্ষে আঙুল তোলাদের আইন কর্তৃক খুন করিয়ে জনগণের কাছে ভালো হয়ে থেকেছেন এবং জনগণকে ধর্মের নামে মূলো খাওয়ানোর মেডিসিন হিসাবে ব্লাসফেমির প্রয়োগ করেছেন। ব্লাসফেমির উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগে। ১ হাজার ৪৫০ বছর আগে ৫৬০ সালের পর রোমের সামন্ত রাজারা প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী খ্রিষ্টান ক্যাথলিক চার্চের যাজকদের সহায়তায় এর উদ্ভব ঘটায়। এইভাবে ধর্মের গণ্ডির বাইরে গিয়ে ধর্মীয় আইন তৈয়ার হয়। বাইবেলের এমন অনেক আয়াত আছে যা পরিবর্তিত হয়েছে শুধুমাত্র চার্চ/রাজাদের সুবিধা অসুবিধার উপর ভিত্তি করে। ধর্মের নামে যে সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয় সেটা হয় ধর্মের বাইরে গিয়ে। সাম্প্রদায়িকতার পিছনে একটা সংঘবদ্ধ ইন্ধন দাতা থাকে যাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা বিভিন্ন সময় দেখি মূর্তি ভাঙচূড়, হিন্দু জমি ভোগ দখল, মসজিদে শূয়োরের মাথা ইত্যাদি। এগুলো হলো সাম্প্রদায়িক কলহ বাঁধাবার চক্রের কাজ। নিশ্চই মুসল্লিরা এই ধরনের চক্রের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। টিটুও ঠিক একই রকম বলি হতে পারে। কাজেই এটির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার একান্ত কাম্য। আর অবশ্যই আক্রান্ত হিন্দুদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভারতীয় হাই কমিশন যেন এ বিষয়ে কোনমতে নাক গলাতে না পারে, যেন কোন দল এ নিয়ে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে পারে সে দিকে নজর রাখতে হবে।

আমার সংশয় ও আল্লায় বিশ্বাস


অধিবিদ্যা মূলত, কোন ধরনের বস্তুর অস্তিত্ব রয়েছে? তাদের প্রকৃতি কি? কিছু জিনিস কি আসলেই আছে নাকি সেগুলো মতিভ্রম? শূন্যতা ও সময়ের বৈশিষ্ট্য কি? মন এবং শরীরের সম্পর্ক কি? ব্যক্তিত্ব কি? সচেতনতা কি? ঈশ্বর কি আছেন নাকি নাই? ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা বা নির্ণয় । আমি যে বিষয়টা নিজের জন্য ব্যাপক গবেষণা করেছি সেটা হোলো ‘‘ঈশ্বর কি আছেন নাকি নেই?’’ আমার গবেষণায় বিজ্ঞানকে আমি টোপ হিসাবে ব্যবহার করতে চাইনি । বিশ্বাস করুন বিজ্ঞান যদি আমার চিন্তায় এসেও যায় তা এসেছে তাঁর নিজের প্রোয়জনীয়তা থেকে বা অটোমেটিক । আমি মনেকরি দর্শনকে বিজ্ঞান দিয়ে মাপা অনুচিত। তবে যারা মাপেন তাগো প্রতি আমার কোন রাগ নাই। যারা দর্শনকে বিজ্ঞান দিয়া যাচাই করেন তাঁরা মূলত নিজের বা সমগোত্রীয়দের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করতেছেন।
 ১.
আমার বয়স এখন ২০ বছর। ঠিক ৪ বছর আগে অামার আল্লার প্রতি একটু সংশয় জন্মাইছিলো অভিজিৎ টাইপের উগ্র নাস্তিকদের পাল্লায় পরে । আমি তখন ব্লগে ব্লগে কিছু শেখার জন্য ঘুরতাম আর আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক বেশ আনন্দ নিয়ে উপভোগ করতাম। এইরকম আলোচনা দেখতে দেখতে একদিন কিসে কী হইলো বুঝলাম না! আমার মনে আল্লা নিয়া সংশয় দানা বাধতে শুরু করলো! আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, যখন আমার মাথায় আল্লা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্থান ঘটতো, মাথাটা ঠিক ফাঁকা হয়ে যেতো! মনে হতো পৃথিবীতে আমার আপন বলতে কেউ নাই। পৃথিবীতে আমার আসাটা একটা দুর্ঘটনা। মাশাল্লাহ নিজেই যখন নিজের প্রশ্নের কাছে হেরে গেলাম তখন আমি আবার আল্লার প্রতি বিশ্বাস করা শুরু করলাম। এখন আমার আর আল্লার প্রতি কোন অবিশ্বাস বা সংশয় নেই। মানুষের এমন একটা সময় যায় যে আল্লা নিয়ে মনে বিভিন্ন সংশয়ের উদ্রেক হয়। ফরহাদ মজহারের একটা বইতে পড়ছিলাম এটা। আমিও এই শ্রেণীর আওতাধীন ছিলাম। আমি মনেকরি ঐ সময়টা মানুষের সবচেয়ে কষ্টের হয়! আর সংশয়বাদীরা সবচে বেশি ডিপ্রেশনে ভোগে সর্বদা। পৃথিবীর সবকিছু তাঁর পর মনে হয়। যখন পরকালের ভয়ে একটা অন্যায় কাজ থেকে নিজেরে দূরে রাখতে চায়, তখনই আবার মাথায় আসে “আল্লা’ই তো নাই তাইলে এটা কইরাই ফেলি! বিচারের ভয় তো নাই আমার”! আবার ঐকাজটা করার পর মনে হয় “আহা! এখন যদি মরে যাই, আর আল্লা, পরকাল যদি থাকেই তাইলে আমার অবস্থা কি হবে! ” এমনকি নিজে যে আল্লা বিশ্বাস করেন না এই নিয়াও তাঁর ভয় হয়!
২.
 আমি মূলত ঈশ্বরের উপর কিসের ভিত্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করি সে বিষয়ে আলোকপাত করতে চলছি । দয়াকরে এখানে বিতর্ক করবেন না । এটা নেহাৎ’ই আমার বিশ্বাস এবং চিন্তা , আপনার চিন্তার সাথে আমার চিন্তার যে মিল থাকতেই হবে এমন পৌত্তলিকতা থেকে দয়া করে দূরে থাকুন । আমার দর্শন চর্চা একান্তই আমার চিন্তা চেতনারই ফলাফল । মানুষ হিসাবে আপনার চিন্তার সাথে আমার চিন্তা কাকতালীয় ভাবে যদি মিলেও যায় সেক্ষেত্রে আমি অবাক হব না । হতে পারে আমার মধ্যে জন্মানো চিন্তা অন্য কারো মধ্যেও জন্মাতে পারে , এবং তিনি তাঁর এই দার্শনিকতা প্রচার ও করেছেন, আমি তাতেও দুঃখিত নই । মানুষ জাত হিসাবে চিন্তার মিল থাকাটা অবাঞ্ছনীয় নয়, যেমন আমার প্রথম চিন্তার সাথে হুমায়ুনের চিন্তা মিলে গেছে । আমার চিন্তার বিষয় ‘‘ঈশ্বর কি একজন আছেন? একজন ঈশ্বর কেন থাকবেন? কেন তাঁর থাকতেই হবে? কেন ঈশ্বর না থাকাটা অযৌক্তিক? কেন ঈশ্বর মানুষের মত হতে পারবেনা?’’আমি জাকির নায়েক বলেন, আর যারই বলেন সবার লেকচার শুনছি কিন্তু কাজের কাজ তখন কিছুই হয়নাই। একমাত্র নিজের চিন্তায় আল্লার প্রতি বিশ্বাস আসছে। তবে জাকির নায়েকরে ধন্যবাদ। তিনি খুব ভালোকাজ করতেছেন। তিনি নিজের গোত্র (মানে সকল মুসলমানের জন্য কাজ করতেছেন)।
৩.
 আমি মাত্র ২ টা বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা করছি। ঈশ্বর কি একজন আছেন? আমরা যদি পৃথিবীর প্রত্যেকটা জিনিস পর্যবেক্ষণ করি,একমাত্র প্রাণী জগৎ ছাড়া খোলা চোখে প্রমাণ পাই ‘‘প্রত্যেকটা বস্তুর রয়েছে একজন ঈশ্বর বা স্রষ্টা” । এক্ষেত্রে হুমায়ুন আহমেদ এর সাথে আমার যুক্তি মিলে যাচ্ছে । তিনি অবশ্য বিবর্তনের বিরোধীতা করে এই যুক্তিটা উপস্থাপন করেছেন, আমি ঈশ্বরের উপস্থিতিটা এইরকমই “প্রাকৃতির বিভিন্ন পর্যায়” নিয়া ভাবতে ভাবতে পাইছি। হুমায়ুন নাইকন ক্যামেরা দিয়ে যুক্তিটি উপস্থাপন করেছিলেন , আমি অবশ্য অন্য কিছু নিয়া ভাবছিলাম । হুমায়ুন এর সাথে আমার চিন্তার মিল আছে এর দ্বারা নিজের ব্যক্তিত্ব ও একটু ঝালাই করে নিচ্ছি । তাই উপস্থাপন করছি হুমায়ুন এর চিন্তাকেই । হুমায়ুনের চিন্তার সাথে সবাই পরিচিত, তাই তাঁর যুক্তি উপস্থাপন করাটা শ্রেয় মনে হয়েছে। তাছাড়া অনেকে বলেই ফেলতে পারে আমি হুমায়ুনের চিন্তা চুরি করছি। কিন্তু হুমায়ুনের বই পড়ার আগেই আমি এইটা ভাবছি। হয়ত হুমায়ুন আমার আগে এই চিন্তাটা করছেন, এবং লিখে ফেলছেন। যাইহোক আসুন হুমায়ুনের যুক্তিই আমরা পাঠ করি ;
“কেউ একজন ভীনগ্রহে গেলেন । তিনি একটি ক্যামেরা দেখতে পেলেন।এখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো ক্যামেরাটি এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসলো কিনা বা আপনা থেকেই এর পয়দা কিনা । সেখানে তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর সামনে থাকা ‘নাইকন ক্যামেরাটি’র একজন স্রষ্টা আছে কিন্তু তাঁর বা ভীনগ্রহের কোন স্রষ্টা নেই । এটা অযৌক্তিক যে, স্রষ্টা বলে কেউ নেই যেমন অযৌক্তিক ভাবে ক্যামেরাটি তৈরী হলো আপনা আপনি । প্রথমে গ্রহ থেকে প্লাস্টিক উৎপন্ন হলো, তপ্ত গ্রহের বালি থেকে তৈরী হলো কাচ।ক্যামেরার অন্যান্য পার্টস উড়ে এসে বিভিন্ন ধাপে বিবর্তিত হয়ে তৈরী হলো নাইকন ক্যামেরা । আমি অন্তপক্ষে একলা একা কিছু বিবর্তনের পক্ষে কোন ভালো যুক্তিই দেখিনা ।”
আমার চিন্তাটা ছিলো এইরকম’ই যে, “একলা একা কিছু তৈয়ার হওয়া অসম্ভব!” মানুষের মত এত বুদ্ধিমান, নিষ্ঠুর এবং স্বার্থপর মানুষের অন্তপক্ষে একজন স্রষ্টা থাকা উচিৎ!
৪.
আমার ২য় ভাবনাটা ভাবছিলাম ঠিক ৩ বছর আগেঃ
আমি গ্রামে থাকি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে এইখানে গরীবের মানবেতর জীবন যাপন দেখি। দেখি তাগো রিলিফে মেম্বার চেয়ারম্যানের বসানো থাবা! দেখি বয়স্ক ভাতার জন্য বুড়ো-বুড়ির ভিখিরির মতো বইসা থাকা। দেখি টাকা আর ক্ষমতার দাপটে দরিদ্র মানুষের প্রতি ঘটা অবিচার! তাগো সম্পদ অবৈধভাবে ভোগদখল দেখি। দেখি রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক এর শ্রেণী বিভাগ! আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদী মানুষিকতা দিয়ে এত মানুষ খুন করছে, নারী ও ছোটছোট শিশু মারছে, হিটলার স্ট্যালিন লক্ষ লক্ষ নিরাপরাধ নিরপরাধ মানুষ মারছে! সবচে আমার মনে দাগ কাটছে এক মুরব্বিরে ক্ষমতাসীন দলের এক জুয়ান নেতা মারছিলো দেখে। এই যে যারা দুনিয়ায় বইসা অকাজ-কুকাজ করে হঠাৎ ঐ খুনি অত্যাচারী মানুষগুলো মরে যায় তাদের বিচার তো দুনিয়ায় সম্ভব হলো না। তাহলে এরা কি শাস্তি পাবে না? এদের শাস্তি দেয়ার জন্য কেউ কি নাই? আমার মনে হতে লাগলো,অবশ্যই একজন থাকা দরকার যে এদের শাস্তি দিবেন! দুনিয়ায় শাস্তি যারা দিতো তাঁরা এই লোকটার পক্ষে ছিলো। নিরপেক্ষ এক সত্ত্বা অবশ্যই আছেন! তাঁর থাকতে হবেই হবে! তিনি না থাকলে অত্যাচারী রাজার কে শাস্তি দিবেন? কে শাস্তি দিবেন ঘুষখোর জর্জের? তিনি গরীবরে দিবেন দুনিয়ায় “ভোগ না করার” প্রতিদান। তিনি অত্যাচারীর বিচার করবেন। এবং তিনি মানুষের মতো হবেন না। মানুষের মত চরিত্র হইলে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হবেন।
৫.
একটা সময় ভাবতে ভাবতে যুক্তি মাথায় এমন জায়গায় ঠেকলো যে আমি আনন্দে কাঁইন্দা দিলাম। আল্লার আসমানের দিকে তাকায়া বল্লাম, “অবশেষে আমার সংশয় ভাঙলা! আল্লা! তুমি না থাকলে আমি কবিতা লিখমু কারে নিয়া?” ঐ সময় আমার যে আবেগটা আসছিলো এইরকম আবেগ অন্য কোন সময় আসেনাই। এখনো আমি ঐ একলা দিনটার কথা ভাবি, যেইদিন আমি সংশয় থেকে মুক্তি পাইলাম। আর আসমানের দিকে তাকায়া হাসি(সত্যিই হাসি)। আর আমার গায়ের পশম কাঁটার মত দাঁড়িয়ে যায়! আমি আল্লারে ধন্যবাদ দিই এইভেবে যে, তিনি আমারে পূণরায় বিশ্বাসে ফিরায়ে নিলেন।